আপডেট : ২৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ২১:৪৭

ক্ষুদে ভক্তের উষ্ণতার চাদর ‘মেসি’!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ক্ষুদে ভক্তের উষ্ণতার চাদর ‘মেসি’!

শীতে একা ঘুরে বেড়াচ্ছে দশ বছরের শিশু হুমান আলি আহমেদ। শীত থেকে বাঁচতে তার গায়ে জড়ানো নীল-সাদা চেকের প্লাস্টিকের তৈরি জার্সি। এর নিচে বাদামি সোয়েটার। গায়ে জড়ানো প্লাস্টিকটি দেখতে অনেকটা আর্জেন্টিনার জার্সির মতো। তাতে আবার লেখা মেসির নাম এবং জার্সি নম্বর।

প্লাস্টিক ব্যাগের জার্সিতে যেন আপনভোলা এক ছোট্ট মেসি। আসল জার্সি নেই, তাতে পরোয়া কী?  সাদা নীল ডোরাকাটা প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়েই অসাধারণভাবে নিজের খুদে শরীরটার জন্য তৈরি হয়েছে হ্যান্ডমেড স্লিভলেস জার্সি। পিঠের দিকে স্কেচপেন দিয়ে লেখা মেসির নাম।

আহমেদের বাবা কুর্দিশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। পুত্রকে জার্সি কিনে দেয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই। তার ছোট্ট ছেলেটি লিওনেল মেসির দারুণ ভক্ত। মেসির নাম সংবলিত একটি জার্সি কিনে দিতে বাবার কাছে কয়েকবার বায়নাও ধরেছে। কিন্তু গরিব বাবার পক্ষে সেটা সম্ভব হয়নি। তবুও মেসির জার্সি তার চাই-ই চাই।

শেষতক জার্সি কিনতে ব্যর্থ হয়ে প্লাস্টিক দিয়ে জার্সি বানিয়ে মনের ইচ্ছা পূরণ করেছে সে। বাবা আসিফ বাজার করে নিয়ে আসেন একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে। ব্যাগটি আর্জেন্টিনার জার্সির মতো সাদা-নীল রঙের। এই ব্যাগ দিয়েই বোনের সাহায্যে ছেলেটি তৈরি করে ফেলে একটি আর্জেন্টিনার জার্সি। প্লাস্টিকের ব্যাগের ওই জার্সির পেছনে মেসির নাম ও জার্সি নম্বর লেখা। এতেই মহাখুশি সে।

ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। শুরু হয়ে যায় সন্ধান। কোথায় আছে এই শিশু? ইরাকের কাসারা গ্রামে বাড়ি তার। শিশুটির মা আছেন কি না, জানা যায়নি। বাবা কুর্দিশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। আইএস-এর বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন হাতে।

আহমাদির ভাষায়, আমি ফুটবল দেখতে খুব ভালবাসি। মেসিই আমার প্রিয় খেলোয়াড়। কিন্তু জার্সি কেনার টাকা নেই বাবার কাছে। তাই দিদি একটা প্লাস্টিক দিয়ে এটা আমাকে বানিয়ে দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধিকাংশরাই ছেলেটিকে সারাবিশ্বে মেসির সবচেয়ে বড় ভক্ত বলে অভিহিত করেছেন। মেসির কানে কি এ ছোট্ট ভক্তের খবর পৌঁছবে। পৌঁছলে মেসিই বা কী করেন সেদিকেই তাকিয়ে এখন পুরো বিশ্ব।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে