আপডেট : ১০ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:২২

জিদানের অভিষেকে রিয়ালের জয়, জিতেছে বার্সাও

মেসি-বেলের হ্যাটট্রিক
স্পোর্টস ডেস্ক
জিদানের অভিষেকে রিয়ালের জয়, জিতেছে বার্সাও

রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের শুরুটা হলো দুর্দান্ত। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে দেপোর্তিভো লা করুনাকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও হ্যাটট্রিক করলেন গ্যারেথ বেল। সঙ্গে জোড়া গোল করিম বেনজেমার।

২০১৬ সালে এটাই রিয়ালের প্রথম জয়। এ বছরের প্রথম ম্যাচে গত রোববার ভালেন্সিয়ার মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছিল রোনালদোরা। তারপরই রাফায়েল বেনিতেসকে সরিয়ে জিদানকে দায়িত্ব দেয় ইউরোপের সফলতম ক্লাবটি। 

শনিবার রাতে শুরুতেই গোল খেতে বসেছিল রিয়াল। একাদশ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে লুকাস পেরেসের শট গোলরক্ষক কেইলর নাভাস কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন।

খানিক পরেই অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রিয়াল; সাত মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোলে এগিয়ে যায় তারা।

পঞ্চদশ মিনিটে কর্নার থেকে জটলার ভেতর দিয়ে নেওয়া সের্হিও রামোসের শটে ব্যাকহিল করার চেষ্টা করেছিলেন বেনজেমা। ঠিকমতো পা লাগাতে পারেননি, তবে বল গোললাইন পেরিয়ে যায়।

রিয়ালের জার্সিতে লা লিগায় বেনজেমার এটা শততম গোল।

২২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গ্যারেথ বেল। ডান দিকে কারভাহালের দুর্দান্ত ক্রসে হেড করে বল জালে জড়ান ওয়েলসের এই ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজের দ্বিতীয় গোলে স্কোরলাইন ৩-০ করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন বেল। ডান দিক থেকে রোনালদোর নীচু ক্রসে বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান টটেনহ্যাম হটস্পার্সের সাবেক এই ফরোয়ার্ডের।

৬৩তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বেল। টনি ক্রুসের কর্নারে লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডে গোলটি করেন। লা লিগার এ মৌসুমে এটি তার দ্বাদশ গোল। এই সময়ে লিগে সতীর্থদের দিয়ে নয়টি গোলও করান তিনি।

৮৮তম মিনিটে সুবর্ণ একটা সুযোগ হারান রোনালদো। বাঁ দিক থেকে মার্সেলোর নীচু ক্রসে পা ছুঁইয়েছিলেন তিনি; কিন্তু বল চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে।

যোগ করা সময়ে আবারও হতাশায় পোড়েন রোনালদো, ডি বক্সের মধ্যে গোল করার মতো জায়গায় থেকেও বল হারিয়ে ফেলেন। তবে কাছেই থাকা বেনজেমা সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি, জোরালো শটে এবারের লিগের চতুর্দশ গোল করে রিয়ালের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে দুর্দান্ত একটি জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগার এই ম্যাচে গ্রানাদাকে ৪-০ গোলে হারাতে অপর গোলটি করেন নেইমার। আতলেতিকো মাদ্রিদকে সরিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেও উঠে গেল লুইস এনরিকের দল।

শনিবার কাম্প নউয়ে ম্যাচের অষ্টম মিনিটে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন মেসি। ডি-বক্সের ভেতর থেকে আরদা তুরানের বাড়ানো বলে শুধু টোকার দরকার ছিল আর্জেন্টিনা অধিনায়কের।

ব্যবধান বাড়াতেও সময় নেননি মেসি। গোলের কারিগর অবশ্য নেইমার আর সুয়ারেস। নেইমার বাঁ দিক থেকে বল বাড়িয়েছিলেন সুয়ারেসকে। উরুগুয়ের এই তারকা প্রথম ছোঁয়াতেই বল বাড়ালেন মেসিকে। কাছ থেকে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে দিতে কোনো ভুল হয়নি চার বারের বর্ষসেরা এই ফুটবলারের। ম্যাচের ১৪ মিনিট না যেতেই ম্যাচ মুঠোয় পুরে নিল স্বাগতিকরা।

এর পর প্রথমার্ধে একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করে বার্সেলোনা।

বিরতির পর বার্সেলোনার গোল আর মেসির হ্যাটট্রিক পেতে বেশি সময় লাগেনি। ৫৮তম মিনিটে সের্হিও রবের্তোর দারুণ বাড়ানো বল ধরে খুব কাছ থেকে শট নিয়েছিলেন নেইমার। বল ফিরে এল বারে লেগে। ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিকটা তুলে নিলেন মেসি।

সব প্রতিযোগিতা মিলে ১০ মাসের বেশি সময় পর হ্যাটট্রিক পেলেন মেসি। তার শেষ হ্যাটট্রিক ছিল ২০১৫ সালের ৮ মার্চ; লিগে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এটা তার ৩৬তম হ্যাটট্রিক।

অনেকবার গোলের সুযোগ হারানোর পর ৮৩তম মিনিটে অবশেষে গোল পান নেইমার। তবে গোলের পুরো কৃতিত্বটাই মেসির। বল নিয়ে সামনে এগিয়ে ডানে দানি আলভেসকে পাস দিয়েছিলেন তিনি। এর পর আলভেসের নীচু ক্রস বাড়ালে হেলায় বল ছেড়ে দিলেন তিনি। জানতেন, নেইমার আছে পেছনে। বল পেয়ে এবার আর বারে লাগাননি ব্রাজিল তারকা।

লা লিগায় নেইমারের এটা পঞ্চদশ গোল। সতীর্থ সুয়ারেসের সঙ্গে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে আছেন তিনি।

দারুণ এই জয়ে ১৮ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে ফিরল বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ৪১। ১৯ ম্যাচে জিদানের দলের পয়েন্ট ৪০।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এআর

উপরে