আপডেট : ৪ জুলাই, ২০১৯ ১৩:১৫

‘হ্যাঁ, খারাপ কিন্তু খায় কেন?’

শেখ মুহাম্মদ রাসেল
অনলাইন ডেস্ক
‘হ্যাঁ, খারাপ কিন্তু খায় কেন?’

দিনের বেশির ভাগ সময় আমাদের ঘরের বাইরে কাটাতে হয়, সারাদিনের ক্লান্তি এবং ভ্যাপসা গরমে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায়, এক গ্লাস পানির জন্য বুকের ছাতি মনে হয় যেন ফেটে যাচ্ছে। আর ঠিক সেই সময়ে যদি আশেপাশে কোন শরবতের দোকান পাওয়া যায় তাহলে তো কোন কথাই নাই। এক গ্লাস শরবত পানে মৃত দেহে যেন প্রাণ ফিরে পাওয়ার মতো মনে হবে।

হ্যাঁ ঠিক সেই রকমেই, তাৎক্ষণিকভাবে একটু প্রশান্তির জন্য আমরা জেনে-শুনে অনেক আগে থেকেই এসব খারাপ খাবার খাচ্ছি তবে এখন এর মাত্রাটা একটু বেশি। রাস্তায় বের হলেই লোভনীয় মন ভোলানো কত রকমের পানীয় দেখতে পাই তার কোন ইয়াত্তা নেই। যে কোন শ্রেণীর লোকের সাধ্যের মধ্যেই সেই সব পানি পাওয়া যায় পাঁচ, দশ পনের টাকা প্রতি গ্লাস। লেবুর শরবত পাড়া- মহল্লা  থেকে  বড় বড় শপিংমল যেখানেই যাবেন সেখানেই চোখে পড়বে। একটি দুই বা তিন চাকার ভ্যানের উপরে বরফ ভর্তি এক জার পানির সঙ্গে ছ্যাকারিন মেশানো  একটি ছোট লেবুর অর্ধেক চিপে দিয়ে তৈরি করা হয় তৃপ্তির লেবুর শরবত।

বসুন্ধরা বাজারের সামনে স্কুল পড়ুয়া একটি ছেলে ২ গ্লাস লেবুর শরবতের পানি পান করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে দশ টাকার একটি নোট পটেক থেকে বের করে দিলেন।তার কাছে জানতে চাওয়া হল এই শরবত কি ভালো? উত্তরে বললেন, ‘অনেকের কাছে শুনেছি এই শরবত ভালো না তার পরেও পান করি তৃষ্ণার জন্য কি আর কার আছে’। রিক্সা চালকরা লাইন ধরে পান করছে সেই শরতব।

শরবত বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, যেদিন রোদের তাপ ও গরম বেশি থাকে সেদিন তাদের বিক্রিও ভাল যায়। কোন কোন দিন তাদের দুই হাজার টাকাও বিক্রি হয়ে থাকে। তবে এলাকা ভিত্তিতে এ বিক্রির তারতম্য হয়ে থাকে বলেও তারা জানান।

কখনোই বিশুদ্ধ  পানি দিয়ে শরবত তৈরি করেন না জানতে চাইলে তাদের অনেকেই স্বীকার করে নেন হ্যাঁ, খারাপ কিন্তু খায় কেন? আবার অনেই অস্বীকারের সঙ্গে তর্কও করেন।

ফুটপাতের শরবতের স্বাস্থ্যমান কেমন? লেবুর শরবতের পানি আর বরফ কি বিশুদ্ধ? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খাল-ডোবা থেকে পানি বোতল-জারে ভরে শরবত বানিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ফুটপাতে। এতে ব্যকটেরিয়া আর রোগজীবাণু থাকা একেবারে স্বাভাবিক। বিশুদ্ধ পানি দিয়ে বরফ জমানো না হলে সেই পানি পেটে গেলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড ও জন্ডিস হতে পারে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীতে অনুমোদনবিহীন প্রায় দেড় হাজার বরফ কল রয়েছে। এসব কলের বরফ মূলত মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই বরফ যে পানি দিয়ে তৈরি হয় তার বিশুদ্ধতা কখনোই নিশ্চিত করা হয় না। এই বরফে তৈরি সরবত তাই বিশুদ্ধ হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এই বরফেই রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার শরবত বিক্রেতা কমপক্ষে পঞ্চাশ লাখ গ্লাস শরবত বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছে বরফ কল মালিক সমিতি।

রাস্তায় যে শরবত বিক্রি হয় তা কোনটিই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তারপরও যে মাত্রার গরম পড়েছে লোকজন খেয়েই ছাড়ে। আর এটি কোন ব্র্যান্ড বা চেইন শপে পাওয়া যায় না। কারণ একঘণ্টা পর এই শরবত আর ফ্রেশ থাকে না, কালো হয়ে যায়। ২০ থেকে ৩০ টাকার ডাব এখন ৭০ থেকে ৯০ টাকায় উঠে গেছে। ফলে এইসব ফুটপাতের শরবত খেয়েই তৃষ্ণা মেটায় অনেকেই।

উপরে