আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৩:২৫

‘দেশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দিন দিন কমে যাচ্ছে’

শেখ মুহাম্মদ রাসেল
‘দেশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দিন দিন কমে যাচ্ছে’

‘দেশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দিন দিন কমে যাচ্ছে, মানুষ আগের মত তারা আর পতাকা কেনে না’ এভাবেই কথাগুলো বললেন ভ্রাম্যমান এক পতাকা বিক্রেতা।

এই বিজয়ের মাসে তার মতো শত শত তরুন বাংলার পূর্ব আকাশে রক্তিম সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে লাল-সবুজের পতাকা হাতে বেরিয়ে পড়ে রাজধানীর অলি গলি সর্বত্র, কপালে-কাধে ও হাতে থাকে শুধুই লাল-সবুজেরর অমূল্য পতাকা।

এই পতাকা যে অমূল্য সে কথা শিকার করে একজন তরুন বিক্রেতা বললেন, এই পতাকা দাম দিয়ে কেনা বেচার জিনিস নয়, তবে আমরা কষ্ট করে অনেক দূর থেকে নিয়ে আসি তার বিনিময়ে কিছু অর্থ নেই এই আর কী।

ডিসেম্বর মাস এলেই রাজধানীর সড়ক-মহাসড়ক থেকে পাড়া-মহল্লা, স্কুল-কলেজ, বাসষ্টানে চোখে পড়বে অসংখ্য তরুন একটি বাঁশে বাহারি সাইজের পতাকা, মাথায় ও হাতে বাঁধতে লাল-সবুজের ব্যাচ, বাচ্চাদের জন্য প্লাস্টিকের হাতলে লাগানো পতাকা বিক্রি করছেন তারা। আকারভেদে একেকটি পতাকা ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা আর ব্যাচ বিক্রি হয় ১০ টাকা করে। সাইজের সঙ্গে দাম মিললেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্রেতাদের ক্রয়কৃত পতাকা সোভায় পায় বাসা-বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, গাড়ি ও মোটরসাইকেলে। উড়তে থাকে পতপত করে।

রাজধানী ঘুরে এমন কিছু পতাকা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। এমনই এক জন পতাকা বিক্রেতা নাম আব্দুল মান্নান, তিনি বসুন্ধারা এলাকায় পতাকা বিক্রি করেন, তার কাছে পতাকা বিক্রির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমায় বয়স যখন ১২ বছর তখন থেকে বিজয়ের মাস আসলেই পতাকা বিক্রি করতে বেরিয়ে পড়ি। আসলে আমি নিজেও জানি না কেন পতাকা বিক্রি করি এবং কেন এত ভালো লাগে। 

অভাবের সংসার পড়া লেখা করতে পারি নাই, ছোট থেকে কাজ করি যখন যে কাজ পেয়েছি সেই কাজই করেছি তবে এই মাস এলেই সব কাজ বাদ দিয়ে পতাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি রাস্তায়।

কথা হয় ৫০ উর্ধ্ব পতাকা বিক্রেতা আকবরে সঙ্গে। বাড়ি কিশোরগঞ্জ ঢাকায় শাহজাহানপুরে থাকেন, সারা বছর হরেক রকমের ব্যবসা করলেও ডিসেম্বর মাস এলেই সব বাদ দিয়ে একটু বেশি আয়ের আশায় পতাকা বিক্রি করতে নেমে পড়েন। প্রায় ৩০ বছর ধরে পতাকা বিক্রি করেন তবে এবছর বিক্রি কম তাই একটু আক্ষেপ করে বলছেন দেশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দিন দিন কমে যাচ্ছে, আগের মত তারা আর পতাকা কেনে না। মাসের অর্ধেক দিন শেষ কিন্তু পতাকা বিক্রি হয়নি অন্য বছরের তুলনায় ৪ ভাগের এক ভাগও।

নাম আলী হোসেন (১২) নতুন বাজার এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। পড়া–লেখা করেন না বাবার কাজে সাহায্য করেন তবে এই বছরই প্রথম এলাকার এক বড় ভাইয়ের সাথে পতাকা বিক্রি করতে বেরিয়ে পড়েন। পতাকা বিক্রি করতে তার খুব ভালোলাগে। তার কাছে জানতে চাইলাম এই মাসে কেন মানুষ পতাকা কেনে? তিনি বলেন, ‘এই মাসে দেশ স্বাধীন হয় তাই খুসিতে মানুষ পতাকা কিনে বাড়ির ছাদে বা গাড়িতে টাঙ্গান। 

কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মুশিউর  অপু নামের এক তরুনের সঙ্গে তিনি মৌচাক এলাকায় একটি ভ্রাম্যমান পতাকা বিক্রেতার কাছ থেকে পতাকা কিনছেন। কেন পতাকা কিনছেন জানতে চাইলে তিনি জানান পতাকা আমাদের একটি মহামূল্যবান সম্পদ আর এই সম্পদটি অর্জিত হয়েছে এই মাসে আর তাই  সকল জাতি,ধর্ম,বর্ন নির্বিশেষে বাঙ্গালীর সবচেয়ে বড় আনন্দের দিন উৎযাপন করতে আমার এই পতাকা কেনা তাছাড়া বিজয় দিবসে সবাই মিলে এই পতাকা উড়িয়ে বিশ্বকে বার বার জানান দেওয়া  উচিত আমারা লড়াই করে এই স্বাধীন করেছি এই দেশ কারো দানে পায়নি। 

সবশেষ তিনি অনেক কষ্টে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকাকে সম্মান দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান

উপরে