আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:১৪

জীবনকে উপভোগ করতে হলে...

অনলাইন ডেস্ক
জীবনকে উপভোগ করতে হলে...

চলতে ফিরতে বা ঘুমের জন্য চোখ বুজতে গিয়ে আমরা জীবনের পাওয়া না পাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করি। কি পেলাম না তা নিয়ে চিন্তাই বেশি থাকে। এর মাঝে ভুলতে বসি যে ছোট অর্জনগুলোকেও। এর মধ্যে মূল্যবান কিছু বিষয়ও আমরা মিস করে যাই। বড় অর্জনগুলো ছাড়া সফলতাকে আমরা বিবেচনা করি না। কিন্তু হাতে চায়ের কাপ, এক চিলতে বারান্দা সঙ্গে প্রিয় কোনো বই বা গানই যে কতো শান্তি এনে দিতে পারে তা আমাদের অজানা। তাই ছোট অর্জনগুলোকে নিয়েই সুখী হতে চেষ্টা করুন। পরিবারের সঙ্গে ভালো কিছু সময় যেকোনো ভালো কিছু শুরু করতে হলে আগে নিজের ঘর থেকে শুরু করতে হবে। ..

আগে ভাবুন আপনি পরিবারের প্রতি কতটা কৃতজ্ঞ ও তৃপ্ত। সেটা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করুন। যতো ব্যস্তই থাকুন না কেন, কিছু সময় বের করে তাদের সঙ্গে মন খুলে গল্প করুন। এই ধরুন বিকেলের চা অথবা রাতের খাবারের পর একসঙ্গে বসুন। একসঙ্গে কাটানো আনন্দের মুহূর্তগুলোকে ঝালাই করে নিন। তাদেরকে জানান এবং বুঝান তারা আপনার জীবনে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। ভালো লাগার বিষয়গুলো লিখে রাখুন প্রতিদিন সকালে অন্তত এমন ৫ টি এমন জিনিসের কথা লিখে রাখুন যা আপনাকে আনন্দিত করে। আবার এমন কিছু কাজের উল্লেখ করুন যাতে আপনি আনন্দিত হন বা অন্যকে আনন্দিত করতে পেরেছেন। এমন কোনো উপহারের কথা লিখুন যা পেয়ে আপনি আজও কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত। একটি ফোল্ডার বা বক্সে কোনো বিশেষ উপহার, চিঠি বা কার্ড রাখতে পারেন। যা দেখে অনুপ্রাণিত হবেন বা আপনার ভালো লাগবে। বর্তমানকে অবশ্যই গুরুত্ব দিন আমাদের সবার জীবনে উত্থান পতন ছিল বা এখনো আছে। হয়তো এমন কঠিন সময়ও এসেছে যখন মনে হয়েছে আর মনে হয় সমাধানের পথ নেই। তবুও হাল না ছেড়ে আমরা এগিয়েছি। বর্তমানে এসে পৌঁছেও গেছি। সেই কঠিন সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করে এই বর্তমানকেই সমাদর করুন। কারণ আপনার এই বর্তমানের ওপর আবার ভবিষ্যত নির্ভর করছে। প্রতিটি ছোট বড় সাফল্যগুলো উদযাপন করুন নতুন চাকরি পেলেন, কোনো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেন, সুন্দর একটা ফ্ল্যাট পেলেন- এই আনন্দগুলো নিজের মধ্যেই রেখে দেবেন না। প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে সেগুলো উদযাপন করুন। আবার সুন্দর আবহাওয়া দেখে, পরীক্ষার চাপমুক্ত হয়ে, নতুন একটি ফোন কেনার আনন্দে বন্ধুদের নিয়ে বের হয়ে যেতে পারেন কোথাও।

গল্প আড্ডা আর চায়ে জমিয়ে ফেলুন পরিবেশটি। দিন শেষ করুন কৃতজ্ঞতা ও আত্মতৃপ্তির মাধ্যমে সারাদিন শেষে জয় বা পরাজয়ের পর দিনশেষে পরাজয়গুলো একটু পাশে সরিয়ে আপনার সব ইতিবাচক অর্জনগুলো নিয়ে একটু ভাবুন। ঘুমানোর আগে নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিয়ে ভাবুন কি ভালো ঘটনা ঘটেছে আজকে সারাদিনে। আবার স্মৃতিতে থাকা এমন কিছু নিয়ে ভাবুন। আর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ। কারণ প্রতিটা মুহূর্তে কিছু অর্জন, কিছু অভিজ্ঞতা আছে। হোক সেগুলো বিশাল অথবা ক্ষুদ্র। সেই ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলোও হারাবেন না। সবকিছুরই কদর করুন।

উপরে