আপডেট : ২ নভেম্বর, ২০১৮ ১৬:২২

যেভাবে সাজাবেন আপনার নতুন সংসার

অনলাইন ডেস্ক
যেভাবে সাজাবেন আপনার নতুন সংসার

আর মাত্র একমাসের মধ্যে বিবাহিত জীবন শুরু করতে যাচ্ছে নাসিম আর ফ্লোরা। অনেকগুলো স্বপ্ন আর ভালোবাসার বুননে শুরু করতে যাচ্ছে তাদের নতুন সংসার। এ নিয়ে তারা দুজনেই বেশ আনন্দিত আর উত্তেজিত। কীভাবে নতুন সংসার সাজাবে, কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবে তা নিয়ে তো চিন্তারই শেষ নেই। বিয়েরও বেশিদিন বাকি নেই, তাই দুজনে মিলে বসেছে সংসার মানে ঘর সাজানোর পরিকল্পনায়। কেমন হতে পারে তাদের মতো হবু দম্পতিদের সংসার, সেটা নিয়েই থাকছে আজকের আলোচনা-

কীভাবে সাজাবেন সংসার?

সবারই তো কিছু নিজস্ব গোছগাছ ধরন থাকে, মেয়েদের তো আরও বেশি। তা হলেও সঙ্গীর সঙ্গে পরামর্শ করে সব কিছু গুছিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। রুমের বিছানা থেকে শুরু করে পর্দা, আলমারি, বাথরুম, কার্পেট, পাপোশ, ফ্যান যা আছে সব নতুনভাবে সাজিয়ে নিতে হবে। এখানে নতুনভাবে সাজানো মানে নতুন করে কিনে ফেলতে হবে, তা নয়। বরং, পুরোনোকেই নতুন করে সাজানো যায়। শুধু হালকা কিছু সংযোজন বা পরিবর্তন।

দুজন মিলে ভেবে নিন কি করবেন। প্রথমে মন দিন ঘরের দেয়ালের রঙ পাল্টানো, পর্দার কাপড় বদলে ফেলা, আসবাবপত্রের অবস্থান সঠিকভাবে রাখায়। রঙের ক্ষেত্রে ঘরের একটা দেয়ালে করতে পারেন উজ্জল বা গাঢ় রঙের রঙ। আবার বিভিন্ন নকশায় রাঙানো ওয়ালপেপার দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন পছন্দের একটি দেয়াল। পাশাপাশি যদি ঘরের পর্দাগুলো রঙিন আর উজ্জ্বল হলে আকর্ষণীয় হবে ভেতরের পরিবেশ।

এবার নজর দিন আসবাবের দিকে। এতেই সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন দরকার হয়। পড়ে। ড্রেসিং টেবিল থেকে শুরু করে আলমারি বা ক্যাবিনেটের মতো স্টোরেজ ইউনিট জরুরি। বিয়ের আগেই একটা অ্যাডজাস্টেবল ক্যাবিনেটের পরিকল্পনা করে রাখতে পারেন। এতে অনেককিছু একসঙ্গে রাখা যাবে, জায়গাও বাচবে।

নতুন বাসা নেওয়ার সময়ে মাথায় রাখবেন যেন আপনাদের রুমের সঙ্গে একটা বারান্দা থাকে। এতে নিজস্ব সময় কাটানোর ভালো একটা পরিবেশ তৈরি করা যায়। সেখানে ছোট দুটো চেয়ার বা টুল, সঙ্গে একটা টেবিল রাখতে পারেন। সবচেয়ে  ভালো হয় বারান্দায় একটা দোলনা ঝোলানোর ব্যবস্থা করলে। চাইলে দোলনাটি বিভিন্ন লেইস বা কাপড় দিয়ে রঙিন করতে পারেন। আবার নরম গদি আর কুশন দিয়ে করতে পারেন আরামদায়ক বসার জায়গা। বারান্দায় ঝুলিয়ে দিতে পারেন টুংটাং শব্দের উইন্ড চাইম। বাতাসে এটা দুলবে, দেখতেও ভালো আর বারান্দাটা আপনার ভালোলাগার বিভিন্ন ছোট ছোট গাছ, ফুলের টব দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। এতে দারুণ ভালোলাগা কাজ করবে।

এছাড়া ঘরের ভেতরে প্রাকৃতিক আলোর পাশাপাশি কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থাও করে নিতে পারেন। ঘরে লাগাতে পারেন নান্দনিক কোনো সিলিং। ভারী সিলিং না করে হালকা কিছু ছোট সিলিং বা ঘরের চারপাশে বর্ডার করে সিলিং করাতে পারেন। এছাড়াও ঘরের কোণে হালকা আলোর ল্যাম্পশেডও আপনাদের একান্ত সময়ে দারুণ সঙ্গ দেবে। এছাড়া ঘর বা বারান্দার ঢোকার মুখেও ছোট আকৃতির ল্যাম্পশেড ঝোলাতে পারেন।

চাইলে আপনার আবাসস্থলটাকে সুগন্ধে ভরিয়ে দিতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন সুগন্ধি এবং সুবাসযুক্ত মোম পাওয়া যায়। সেগুলো ঘরের সর্বত্রই ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে ঘরে ভালোবাসার আবেশ আর সতেজতা ঘিরে থাকবে। আপনাদের বাথরুমেও এই সুগন্ধিগুলো রাখতে পারেন।

আর বাথরুমের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য হলো বাথরুমের প্রয়োজনীয় ফিটিংসগুলো ঠিক করে রাখা। যদি কোনো অসুবিধা থাকে তবে দ্রুত সারিয়ে নিতে হবে কিংবা নতুন করে লাগিয়ে নিতে হবে।

ঘর সাজাতে তাজা ফুল আর গাছপালার কোনো বিকল্পই নেই। রুমটা ছোট হলে সাদা ফুল ঘরকে মন থেকে বিস্তৃত করে দেবে। ঘরের কোণে রাখার জন্য বড় ফুলদানি কিনে নিতে পারেন। সেখানে তাজা বড় ফুল বা প্লাস্টিকের ফুল রাখবেন। টেবিল, ওয়ারড্রবে রাখার জন্য ছোট ফুলদানিই ভালো।

দুজনের জন্য ছোট ডাইনিং টেবিল প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘর না থাকলে ড্রইংরুম বা বড় ঘরটির এককোণে ছোট ডাইনিংটি সাজিয়ে নিতে পারেন।

উপরে