আপডেট : ১০ আগস্ট, ২০১৮ ২১:০৮

বাবার রক্তাক্ত লাশের ছবিটি যেভাবে খুঁজে পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা!

অনলাইন ডেস্ক
বাবার রক্তাক্ত লাশের ছবিটি যেভাবে খুঁজে পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা!

হত্যার পর নানা অ্যাঙ্গেলে ধারণ করা হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের লাশের ছবি। ধারণা করা হয় আমেরিকায় পাঠানোর জন্য নির্বাক এই ফুটেজটি বিশেষভাবে ধারণ করা হয় মার্কিন দুতাবাসের তরফে, যেমন করা হয়েছিলো চে গুয়েভারা ও আলেন্দের লাশেরও। অবশ্য লাশের ছবি তুলেছিলেন কয়েকজন সংবাদকর্মী। কিন্তু সব প্রিন্ট খুঁজে খুঁজে পুড়িয়ে ফেলেছিল সামরিক সরকার। কিন্তু তারপরও রয়ে যায় একটি প্রিন্ট। লাশের সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

বঙ্গবন্ধুর এই ছবিটি কে তুলেছিলেন? এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেছে নতুন সব তথ্য। সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর পরই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলেন দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিকরা। তাঁদেরই একজন দৈনিক বাংলার প্রধান আলোকচিত্রী (প্রয়াত) গোলাম মওলা। তাঁর তোলা ছবি প্রিন্ট করেছিলেন সহকর্মী বাবু আনসারী। বাবু আনসারী এবং আরও কয়েকজনের স্মৃতিকথা নিয়েই এই প্রতিবেদন।

সেনাবাহিনীর জিপটা এসে ঢুকল দৈনিক বাংলার ভেতর। ১ নম্বর ডিআইটি এভিনিউ তখন দৈনিক বাংলার ঠিকানা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা শহরের রাস্তায় ট্যাংক আর সেনাবাহিনীর জিপ ছাড়া সাধারণ গাড়ির চলাচল নেই বললেই চলে। পথচারী আর দৈনিক বাংলার কর্মচারীরা সেই কারণে একটু বাড়তি ঔৎসুক্য নিয়ে তাকায় দৈনিক বাংলায় ঢুকে পড়া জিপটির দিকে। জিপ থেকে সেনাসদস্যদের পর পরই নামলেন ছোট্ট ক্যামেরার ব্যাগটি হাতে দৈনিক বাংলার তৎকালীন প্রধান আলোকচিত্রী গোলাম মওলা। চোখের মোটা পুরু লেন্সের চশমাটা বারবার নেমে আসছে নাকের দিকে। যেকোনো অ্যাসাইনমেন্ট থেকে ফেরার সময় মোটরসাইকেল থেকে যে উদ্দীপনা নিয়ে গোলাম মওলা নামেন, আজ যেন সে উদ্দীপনার লেশমাত্র নেই। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার শক্তি পর্যন্ত তাঁর নেই।

দৈনিক বাংলার ছোট্ট লিফটটায় ঠাসাঠাসি করে গোলাম মওলাসহ জওয়ানেরা উঠে এলেন বার্তাকক্ষে। আরও এক ধাপ ওপরে ডার্করুম। কিন্তু ডার্করুমে যাওয়ার শক্তি পর্যন্ত তাঁর নেই। বার্তাকক্ষের বড় টেবিলটার সামনে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লেন তিনি। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। হাতের ইশারায় এক গ্লাস পানিও চাইলেন। চশমাটা খুলে টেবিলে রেখে রুমাল দিয়ে মুখটা মুছে নিলেন। চোখ বন্ধ করতেই যেন বীভৎস দৃশ্যগুলো ভেসে উঠল। ভয়াবহ সব দৃশ্য। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সিঁড়ির মাঝখানটায় ঘুরতেই বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখে হৃদযন্ত্রের গতি বেড়ে গিয়েছিল তাঁর। এমনিতেই উচ্চরক্তচাপ। নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলেন না। সাদা পাঞ্জাবির মধ্যে লাল রক্তের ছোপ। বুকের দিকটায় একটু বেশি লাল। লাল রক্ত, সিঁড়িতে কোথায় পা রাখবেন, শুকনো জায়গাটি পর্যন্ত নেই। সেনাসদস্য কজন বঙ্গবন্ধুর লাশ টপকে ওপরে উঠে গেলেন।

১২০ মিমি রলিকর্ড বক্স ক্যামেরায় ফ্ল্যাশগানের কর্ড ততক্ষণে লাগিয়ে ফেলেছেন গোলাম মওলা। ফোকাস করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর মুখটায় চোখ রাখতে পারছিলেন না। বারবার মনে হচ্ছিল তাঁর, ‘কী দেখছি আমি? এই মানুষটির কত দুর্লভ ছবিই না তুলেছি। ৭ মার্চের ভাষণ, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, আরও কত কত ছবি। আর আজ এ কী ছবি তুলছি আমি! এই ছবিটিও আমাকে তুলতে হলো।’ চোখ ঝাপসা হয়ে আসে গোলাম মওলার। একটা, দুইটা, তিনটা ফ্ল্যাশের আলোয় ঝলসে ওঠে রক্তস্নাত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সিঁড়ি।

বঙ্গবন্ধুর ছবি তোলার পর জওয়ানেরা ইশারায় গোলাম মওলাকে সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসতে বললেন। মুহূর্তে থমকে গেলেন তিনি। সিঁড়িতে উঠবেন কোন দিক দিয়ে। পুরো সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর বিশাল দেহ। এতটুকু জায়গা নেই। পায়ে যদি ছোঁয়া লেগে যায়, কী করবেন তিনি। ওপর থেকে কেউ একজন ধমকে উঠল, ‘উঠে আসুন।’ সিঁড়ির রেলিং ধরে যত্ন করে বঙ্গবন্ধুর শরীর বাঁচিয়ে পা রাখলেন। তখনই চোখে পড়ে গেল তাঁর আলপনার ছাপ। মাত্র কদিন আগেই বিয়ের উৎসব লেগেছিল বাড়িটায়। এক ধাপ, দুই ধাপ খুব সন্তর্পণে পা ফেলে উঠে পড়লেন দোতলায়। রক্তস্নাত ঘরগুলোতে পড়ে আছে লাশগুলো। বেগম মুজিব, রাসেল, শেখ কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, সুলতানা কামাল। একেকজন একেক জায়গায়। ছবি তুললেন একটির পর একটি। আলাদা আলাদা করে সবার ছবি। ফ্লোরজুড়ে শুধু রক্ত আর রক্ত। এত নিস্তব্ধতা বাড়িজুড়ে। কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই।

বাবু আনসারীর ডাকে চোখ খুলে তাকালেন গোলাম মওলা। বাবু আনসারী তখন দৈনিক বাংলার সিনিয়র ফটোসাংবাদিক। গোলাম মওলা বাবু আনসারীকে দেখে যেন অবলম্বন খুঁজে পেলেন। ক্যামেরার ব্যাগ থেকে বেশ কয়েকটা এক্সপোজ করা ফিল্ম বের করে দিলেন তাঁর হাতে। রলিকর্ড ক্যামেরার ভেতর থেকে বাকি ফিল্মটাও বের করলেন টেনে। বললেন, ‘আমি আর পারছি না। ফিল্মগুলো ডেভেলপ আর প্রিন্ট করে উনাদের দিয়ে দাও বাবু।’ বাবু আনসারী তাকিয়ে দেখলেন, গোলাম মওলার পেছনে দৈনিক বাংলার বার্তাকক্ষে দাঁড়িয়ে আছেন সেনাবাহিনীর দুজন অফিসার। তাঁদের দুজনের চোখজোড়া লাল টকটকে। এমনিতে ভীতবিহ্বল সবাই। লাল চোখ দেখে ভয়ের মাত্রা আরও বেড়ে গেল।

অফিসার দুজন বাবু আনসারীর দিকে তাকিয়ে যেন হুংকার দিয়ে ওঠে, ‘তাড়াতাড়ি করুন।’ গোলাম মওলার হাত থেকে ফিল্মগুলো বুঝে নিয়ে আর দেরি করেননি বাবু আনসারী। সেনা অফিসার দুজনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শুধু বললেন, ‘আমার সাথে আসুন।’ সিঁড়ি দিয়ে উঠে তিনতলার ডার্করুমে ঢুকে গেল বাবু আনসারী। পেছন-পেছন অস্ত্র হাতে ওই দুজনও। কেমিক্যালের ট্রেতে প্রয়োজনমতো কেমিক্যাল ঢাললেন। পানির ট্রেতে পানি রাখলেন। নতুন করে হাইপো ঢেলে নিলেন কিছু ফিকচার ট্রেতে। ফিল্মগুলো খুলে ফেলার জন্য রাখলেন এনলার্জারের মাস্কিং বোর্ডের ওপর। তারপর ডার্করুমের দরজা বন্ধ করতে গেলেই বাদ সাধলেন দুজন সেনা অফিসার, ‘দরজা বন্ধ করছেন কেন?’ বাবু আনসারী বললেন, ‘দরজা তো বন্ধ করতেই হবে। তা না হলে ফিল্ম ডেভেলপ করব কী করে, প্রিন্ট করব কী করে?’ দুজনের একজন বলে উঠলেন, ‘দরজা খোলা রাখলে অসুবিধাটা কোথায়?’ বাবু আনসারী এবার সাহস করে বললেন, ‘শুধু দরজা নয়, লাইটও বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আলোতে যে ফিল্ম নষ্ট হয়ে যাবে।’ দুজন দুজনের চোখ চাওয়াচাওয়ি করল। কিন্তু কাজটি করতেই হবে। অগত্যা আর কী করা?

বাবু আনসারী দরজা এবং লাইট দুটিই বন্ধ করে দিলেন। মুহূর্তে অন্ধকারে ডুব দিল সবাই। কে একজন অস্ত্রটা ঠেকিয়ে বসেছে বাবু আনসারীকে। ভড়কে গেলেন তিনি। মনে মনে ভাবলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুকে মেরে এসেছে, একটু ওলটপালট করলে আমাকেও মেরে ফেলবে।’ ফিল্ম ডেভেলপ করতে করতে মাথার মধ্যে এসব ঘুরপাক খাচ্ছে। একটা-দুটো নয়, বেশ কয়েকটা ফিল্ম ডেভেলপ করতে করতে অনেকটা সময় ঘুটঘুটে অন্ধকারে তাঁরা তিনজন। কেমিক্যালের ট্রেতে ফিল্ম আর হাতের ঘর্ষণের শব্দ ছাড়া আর কিছুই নেই। কে একজন জানতে চাইলেন, ‘অন্ধকারে কী করছেন, কিছুই তো বুঝছি না। আর কত সময় লাগবে।’ বাবু আনসারী বোঝাতে চান, কেমিক্যালের ভেতরে ফিল্ম ডেভেলপ করেন। একটা-দুটো নয়, বেশ কয়েকটা। সময় তো লাগবেই। ছোট্ট ডার্করুমে অস্ত্র হাতে তারা উসখুস করতে থাকে। বাবু আনসারী কেমিক্যাল থেকে রোলগুলো ক্লিন পানিতে ওয়াশ করে এবার হাইপোতে এসে দাঁড়ালেন। ছোট্ট ডার্করুমে দাঁড়িয়ে থাকা দুই অফিসারের সঙ্গে প্রায় ধাক্কাধাক্কি হয়ে গেল। অফিসার দুজনই সমস্বরে বলে উঠলেন, ‘কী ব্যাপার? কী করছেন?’ ‘ফিল্মটা ডেভেলপ হয়ে গেছে। এখন ফিক্স করছি হাইপোতে’, উত্তর দিলেন বাবু আনসারী। একজন বলে উঠলেন, ‘তাহলে লাইটটা জ্বালিয়ে দিই।’

বাবু আনসারী চিৎকার করে উঠলেন, ‘না, না, না। এখনো ফিল্মগুলো ফিক্স হয়নি। আরও মিনিট পাঁচেক লাগবে হাইপোতে ফিক্স করতে।’ ফিক্সের পরপরই লাইট জ্বালিয়ে দিলেন বাবু আনসারী। অনেকক্ষণ পর অন্ধকারের মধ্যে আলো দেখে চোখ কুঁচকে ফেলেন দুজন অফিসার। বলে উঠলেন, ‘উফ, বাঁচালেন।’

ফিল্ম শুকিয়ে নেগেটিভ থেকে এবার ছবি বানানোর পালা। বাবু আনসারী গোলাম মওলার এই কাজে অবাক হয়ে গেলেন। বঙ্গবন্ধু আর তাঁর পরিবারের সদস্যদের লাশগুলোর ছবিগুলো তুলেছেন অসাধারণ কম্পোজিশন আর এক্সপোজারের মাধ্যমে। ভয়াবহ দৃশ্যগুলোর ছবি গোলাম মওলা একজন দক্ষ শিল্পীর মতোই তুলে এনেছেন। কী করে পারলেন তিনি নিজেকে সামলে রাখতে। এতটুকু ফোকাস কিংবা লাইটের তারতম্য নেই ছবিতে। পারবেনই বা না কেন? এক অসাধারণ শিল্পী যে গোলাম মওলা। ছবির প্রতি ভালোবাসার যে অন্ত নেই। এতটা পথ পেরিয়েছেন নিজে নিজেই। দৈনিক পাকিস্তান থেকে দৈনিক বাংলার পাতায় পাতায় অবিস্মরণীয় সব ছবি তাঁর। নগর দর্পণ থেকে শেষের পাতা সবখানেই তো গোলাম মওলা। পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালিয়েছেন ছবি নিয়ে। সে সময় অটো ফোকাস, মোটর ড্রাইভ কোনো কিছু না পেলেও থেমে থাকেননি তিনি। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ছিলেন দেশের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ। হাইজাম্পের জন্য দৌড়ে চলেছেন ট্র্যাকে। গোলাম মওলা স্লো শাটারেও ক্যামেরা হাতে রেখে প্যান করে চলেছেন। ক্রীড়া পাতার এই ছবি অপূর্ব এক শৈলী নিয়ে উঠে এসেছিল প্রথম পাতায়।

প্রিন্টের কাজ শুরু করলেন বাবু আনসারী। পুরো অন্ধকারের পরিবর্তে ডার্করুমে শুধু একটি লালবাতি জ্বলে উঠল। ওই আলোতে অফিসার দুজন আশ্বস্ত হলেন। বললেন, ‘যাক, অন্তত লালবাতি তো জ্বলেছে।’ এখন কি লালবাতিই জ্বলবে? বাবু আনসারী মনে মনে হাসলেন এবং বললেন, ‘হ্যাঁ, এখন থেকে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লালবাতিই জ্বলবে।’ একটির পর একটি ছবি প্রিন্ট করে চলেছেন। ৩২ নম্বরে না গিয়েও মনে হয় তিনি যেন ৩২ নম্বরে দাঁড়িয়ে আছেন। কয়েকটি ছবি প্রিন্ট করতে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেল। সেগুলো বাবু আনসারী বাস্কেটে ফেলে দিলেন। কিন্তু অফিসার দুজন কোনো কিছুই ফেলে গেলেন না। নেগেটিভ, প্রিন্ট, এমনকি নষ্ট ফেলে দেওয়া ছবিও বাস্কেট থেকে কুড়িয়ে নিলেন। বাবু আনসারীর সামান্য আপত্তি তাঁরা গ্রাহ্যই করলেন না। ভেজা ছবিগুলো পটাপট কাগজে রোল করে ডার্করুম থেকে বেরিয়ে গেলেন অস্ত্রধারী অফিসার দুজন। যাওয়ার আগে বাতি জ্বালিয়ে ডার্করুমের আনাচকানাচে উঁকি দিয়ে দেখলেন, কিছু ফেলে যাচ্ছেন কি না।

নিচে নেমে এলেন বাবু আনসারী। বার্তাকক্ষে গোলাম মওলা তখনো ঠায় বসে। বাবু আনসারীকে আসতে দেখে ফ্যালফ্যাল করে তাকালেন। বললেন, ‘ওরা চলে গেছে।’ বাবু আনসারী উত্তর দিলেন, ‘নেগেটিভ, প্রিন্ট, ওয়েস্টেজ সবই নিয়ে গেছে।’

সপ্তাহখানেক পরের কথা। বঙ্গবন্ধুর লাশের সেই ছবিটি বিদেশে কোথাও প্রকাশ হয়েছে— এই অজুহাতে গোলাম মওলাকে তুলে নেওয়া হলো ক্যান্টনমেন্টে। প্রশ্নের পর প্রশ্ন করা হলো, কোত্থেকে গেল ছবি। গোলাম মওলার একটাই কথা, ‘সবকিছুই আপনারা নিয়ে এসেছেন। নেগেটিভ, প্রিন্ট সবই। আমার কাছে তো কিছুই নাই।’ ফিরে এসেছিলেন গোলাম মওলা। সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন বিশাল এক যন্ত্রণার বোঝা।

নিহত বঙ্গবন্ধু যতক্ষণ পড়ে ছিলেন ৩২ নম্বরের সিঁড়িতে, এই সময়টিতে হয়তো আরও অনেকে ছবি তুলতে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্বনামধন্য ফটোগ্রাফাররা থাকতে পারেন। তবে তাঁদের ছবি তোলার ঘটনা, প্রিন্ট এবং প্রকাশ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গোলাম মওলার তোলা ছবিগুলোর সঙ্গে (বাবু আনসারীর প্রিন্ট করা) বঙ্গবন্ধুর সেই ছবিটি হুবহু শুধু মিলেই যায় না, বাবু আনসারী দাবি করেন, ছবিটি গোলাম মওলারই তোলা।

মা, বাবা, ভাই আর আত্মীয়স্বজন হারিয়ে প্রবাসে পাগলপ্রায় শেখ হাসিনা। ভয়াবহ সেই ৩২ নম্বরে ফিরে আসতে চান তিনি। কিন্তু তা তখন সম্ভব হয়নি। খুঁজে ফিরছেন কিছু একটা। অন্তত সেদিনকার কোনো স্মৃতি। কী ঘটেছিল, কোনো ছবি যদি পাওয়া যায়। খবর পাচ্ছিলেন পঁচাত্তরের ঘাতকেরা কিছু ছবি প্রচার করার চেষ্টা করছে। তিনিও খুঁজতে শুরু করলেন ছবিগুলো। কোথায় পাওয়া যায়? অনেকের কাছে ধর্ণা দিয়েছেন এরই মধ্যে। টাইম, নিউজউইক কিংবা নিউইয়র্ক টাইমস-এর সব নামকরা সাংবাদিকের কাছে। তাঁর প্রচেষ্টা সফল হলো। ১০ বছর পর নিরন্তর প্রচেষ্টায় অর্থের বিনিময়ে জোগাড় করে ফেললেন গুলিবিদ্ধ-রক্তাক্ত বাবার শেষ ছবিটি।

১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সে এক নিদারুণ সময়। বাবার গুলিবিদ্ধ ছবিটি তিনি ছড়িয়ে দিতে চান হত্যার বিচারের দাবিতে।

এক সন্ধ্যায় দৈনিক বাংলার বাণীর ডার্করুমে নিজেই হাজির হলেন তিনি। সঙ্গে শেখ সেলিম। শেখ সেলিম তখন বাংলার বাণীর সম্পাদক। ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে সযত্নে বের করে আনলেন নেগেটিভটি। এনলার্জারে সাদা-কালো প্রিন্ট করে ফেললেন ফটোসাংবাদিক স্বপন সরকার। এরপর শহর থেকে গ্রামে, পোস্টার থেকে পত্রিকায় ছড়িয়ে পড়ল সেই ছবিটি।

কৃতজ্ঞতা: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও ব্লগার অমি রহমান পিয়াল এবং জন্মযুদ্ধ ৭১

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে