আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৮ ০৭:৫৭

একটি অনুমতির অভাবে তৈরী হয়না অনেক সাকিব-তামিম!

অনলাইন ডেস্ক
একটি অনুমতির অভাবে তৈরী হয়না অনেক সাকিব-তামিম!

ভর দুপুরের শেষ রোদে ছেলে এসে ব্যাট নিয়ে রেডি হয়ে যেই না দরজায় দাঁড়াবে, মা ডাক দিবেন। মায়ের ডাক শুনে ছেলে মাঠের দিকে দ্বিগুণ বেগে দৌড়। মা বলবে কোন ক্রিকেট নয় আজ থেকে, ছেলের টানটা আরও দ্বিগুণ বাড়বে, একসময় যখন সময় হবে নিজেই সব বাধা অতিক্রম করে সাকিবিয়ানায় নিজেকে সাজিয়ে নিবে। এভাবেই সাকিবরা এসেছে, হয়ত! কেননা বাউন্ডারীর উপর দিয়ে যাওয়া বলগুলোই চিরকাল ছক্কা হয়, বিজয় আনে শেষ বলে।

কিন্ত প্রশ্ন হলো সেই বাধাকে উপেক্ষা করতে পারে কয়জন? সেই সামর্থ্যই বা থাকে কয়জনের। খুব কম মানুষই পারে সেই বাধাকে উপেক্ষা করে নিজেকে মেলে ধরতে।

স্বাভাবিক যে দৃশ্যটা চোখে পরে সেটা হলো; একজন মা এগিয়ে চলছেন, তাঁর পেছন পেছন ছেলে হেঁটে যাচ্ছে। কাঁধে নিজের ওজনের সমান কিংবা মাঝে মাঝে তারচেয়ে বেশি ওজনের ভারী ব্যাগ। মা হেঁটে বা রিকশায় করে নিয়ে যাচ্ছেন স্কুলে কিংবা কোচিংয়ে। শুধু রাজধানী শহর ঢাকা নয়, এদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মফস্বল কিংবা একদম গ্রামের দিকেও এই দৃশ্যটা হরহামেশাই আপনার চোখে পরবে।

ছেলেকে কেনো মাঠে পাঠান না? প্রশ্নের জবাবে অনেক বাবা-মা’ই বলেন, ‘খেলার মাঠ নেই।’ পাল্টা প্রশ্ন জুড়ে দেন, ‘স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট, গানের টিচার,নাচের ক্লাস,সপ্তাহান্তে প্রাইভেট টিউটরের পরীক্ষা সব শেষে ছেলেপেলেদের সময় কোথায় মাঠে গিয়ে খেলার? ও খেলে তো, কম্পিউটারে ভিডিও গেমস।’

বাঙালি বাবা-মা নিজের সন্তানকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না কোনোকালেই। ছেলে পড়ালেখায় ভালো না, কিন্ত দুর্দান্ত ক্রিকেট বা ফুটবল খেলছে। পাড়ায়,স্কুলে, বন্ধুমহলে সর্বত্র তাঁর প্রশংসা তবুও বাবার কড়া চোখ রাঙ্গানি ছেলে খেলে খেলে উচ্ছন্নে যাচ্ছে। মা ব্যাট-প্যাড দিয়ে লাকড়ি বানিয়ে চুলোয় দিয়ে নিজের রাগ নেভাচ্ছেন সেই আগুনে সেই দৃশ্য বহু পুরাতন।

কিন্ত এর ব্যাতিক্রমও ঘটছে আজকাল। সাকিব-তামিমে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক বাবা-মা’ও ছেলেকে সাকিব-তামিম বানানোর স্বপ্ন দেখেন। তাইতো দেখা মিলে প্র্যাক্টিস শেষে ছেলের খেলার সামগ্রী কাঁধে ঝুলিয়ে ছেলেকে পাশে নিয়ে মাকে হেঁটে যেতে। আর সেই দৃশ্য দেখে আফসুসে পোড়েন বাবা-মায়ের অনুমতির অভাবে খেলা ছেড়ে দেওয়া একসময়ে দুর্দান্ত ক্রিকেট কিংবা ফুটবল খেলা ছেলেগুলো। যারা হলেও হতে পারত আজকের সাকিব-তামিম-মুশফিক।

কেউ কেউ আজকের সাকিব-তামিমকে দেখে আফসুস করেন। হতাশা ঝাড়েন নিজের এবং নিজের পরিবারের উপর। আপন মনে ক্ষোভ ঝাড়েন, ‘ছোটবেলায় একবার ক্রিকেট ডিভিশনাল টিমে চান্স পেয়েছিলাম। বাবার কড়া নিষেধ, পড়ালেখা কর। পড়ালেখা ছাড়া এই দুনিয়াতে ভাত নাই। মাঝে দিয়া ফুটবলের গোলকিপারের জন্য সুযোগ তৈরি হয়। আবারো সেই একই কথা, একই বারণ, পড়ালেখা ছাড়া ভাত নাই। এখন রোনালদো, মুস্তাফিজদের দেখি। এরা ভাত খায় না। খাইলেও শখ কইরা খায়। আর আমার মত পড়াশুনা কইরা ছাপোষা চাকরি করে ৩ বেলা ভাতই খাইতেছি। আব্বা ঠিক বলছিলো, পড়ালেখা ছাড়া এই দুইন্নাইত ভাত নাই।‘

আবার ছেলেকে নিয়ে ক্রিকেট প্র্যাক্টিস শেষে হেঁটে যাওয়া মাকে দেখে অনেককে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ব্যাগ টানতে হতো না। শুধু ক্রিকেট খেলার অনুমতি পেলেই হতো।‘

সিলেবাসে ঢুকে যেতে হয় ম্যাক্সিমামকেই। সেই গৎবাঁধা রুটিনের বাইরে এসে কিছু করার সামর্থ্য ছোট বয়সে কারও থাকে না। যারা সেসব ভেঙ্গে সামনে আসতে পেছে তারাই আজকের সাকিব, আজকের তামিম,আজকের মুশফিক,রিয়াদ। সমাজের ট্যাবু যত তাড়াতাড়ি ভাঙবে, পড়ালেখার বাইরে অন্যকিছুও করা যায় এই সত্যটা যেদিন প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিন আর এই বাংলাদেশ থাকবে না। আমাদের দলে একটা বিশ্বসেরা অলরাউণ্ডার থাকবে না, ব্যাটিং, বোলিং সব র‍্যাংকিংয়ে আমাদের জয়জয়কার থাকবে।

বিডিটাইমস৩৬৫/জামি

উপরে