আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৫:১৯

এক পাঞ্জাবি পরেই দেড় যুগ কাটান মন্ত্রী ছায়েদুল হক!

অনলাইন ডেস্ক
এক পাঞ্জাবি পরেই দেড় যুগ কাটান মন্ত্রী ছায়েদুল হক!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের উন্নয়নের ‘মহানায়ক’ বলা হয় প্রয়াত মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী সায়েদুল হককে। দেশের অন্যতম সৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত তিনি। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ভিটেবাড়িটি টিনের দোচালা ঘরই তাঁর একমাত্র সম্বল ছিল।

লোকজনের মুখে মুখে একই কথা : তিনি যা করেছেন জনগণের জন্য করেছেন। দেশবাসীর জন্য করেছেন। সে সবের প্রমাণও মিলেছে। বাবার নির্মিত দোচালা টিনের ঘরটি ছিল তাঁর ভরসা। সে ঘরটিও জীর্ণশীর্ণ। কোথাও কোথাও ভেঙে পড়েছে। বাড়িতে রাতযাপনের সময় বাবার নির্মিত বৈঠকখানায় রাত যাপন করতেন। এখানেও তিনি দুটি টেবিল জোড়া দিয়ে চৌকি বানিয়ে ঘুমাতেন। বিলাসী জীবন তাঁর পছন্দ ছিল না। তবে তিনি সব সময় পরিপাটি থাকতেন। চোখে সুরমা ব্যবহার করতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। সহকর্মী রাজনৈতিককর্মীদের দীক্ষা দিতেন ‘কখনো অর্থের কোনো অপচয় করো না। সব কিছুর হিসাব দিতে হবে।’

প্রয়াত মন্ত্রীর ৫১ বছরের সহযোগী ভানেশ্বর দেবনাথ বলেন, ‘উনি ছাত্রজীবনের পর যখন আইন পেশায় ভর্তি হন, তখন ১৭ বছর একাধারে একটি পাঞ্জাবি পরেছেন। নিজ হাতে সেলাই করে পাঞ্জাবি পরতেন। সায়েদুল হকের থেকে আমার জীবনটা ও সাধু-সন্ন্যাসীর পর্যায়ে চলে এসেছে। যদিও আমি সাধু নই।’ তিনি আরো বলেন, তাঁর জীবনে খুব বেশি দামি কাপড় পরেননি। সাধারণ কাপড়েই তিনি চলাফেরা করতেন।

একই গ্রামের আবদু মিয়া বলেন, তিনি ২০ বছর ধরে একটি শাল পরেছেন। ১৪টি সেলাই দিয়ে তা ব্যবহার করতেন। ১০০-২০০ টাকা দামের লুঙ্গি পরে খুবই সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন।

করিম মিয়া নামের একজন বলেন, মন্ত্রী ছায়েদুল হক বাড়িতে এলে দুটি টেবিল জোড়াতালি দিয়ে ঘুমাতেন।

পূর্বভাগ গ্রামের এক এক আত্মীয় বলেন, যে ঘরে এসে থাকতেন এটি তাঁর বাবার বসতঘর। তিনি সৎ ব্যক্তি ছিলেন। তা না হলে তিনি কীভাবে পাঁচবার এমপি হলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ছায়েদুল হক। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দশম সংসদ নির্বাচনের পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।

স্থানীয়রা জানায়, জরুরি অবস্থা জারির পর সারা দেশে দুর্নীতিবাজদের ধরতে সেনা পরিচালিত অভিযানের সময় তাঁর বাড়িতে গিয়ে জীর্ণ অবস্থা থেকে সেনাসদস্যরা অবাক যান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে