আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:১০

টোকাইদের কুড়ানো বোতল থেকে ‘স্বর্ণমুদ্রা’ বানাই

অনলাইন ডেস্ক
টোকাইদের কুড়ানো বোতল থেকে ‘স্বর্ণমুদ্রা’ বানাই

টোকাইদের কুড়ানো বোতল ও বাসাবাড়ির আবর্জনার সঙ্গে আসা প্লাস্টিকের বোতল ভাঙারি দোকানদারের হাত ধরে চলে আসে আমাদের কাছে, আর বোতল পরিষ্কার করে মেশিনে গুঁড়ো করে রপ্তানিযোগ্য কাঁচামাল বানাই।

সবশেষে সেই কাঁচামাল রপ্তানি করে আসে বৈদেশিক মুদ্রা তথা স্বর্ণমুদ্রা। আর এতেই গত আট বছর যাবত আমিসহ আমার প্রতিষ্ঠানের সাত শ্রমিকের স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চলছে।

অনেকটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনের পাশঘেঁষা পেটফ্লাস্ক কারখানার মালিক মো. ইকবাল হোসাইন (৪৭)। গত আট বছর ধরে পুরাতন বোতল ভাঙিয়ে বিক্রি করে সংসার বেশ ভালোই চলছে বলে জানালে তিনি।

গেন্ডারিয়া রেল স্টেশনের রেলপথ ধরে জুরাইনের দিকে হেঁটে যেতেই পশ্চিম পাশে চোখে পড়বে বোতলের স্তূপসহ একটি পুরাতন বোতল ভাঙানোর কারখানা। শ্যামপুর এলাকার আদি পেটফ্লাস্ক কারখানাটিতে পুরাতন বোতল পরিষ্কার ও ভাঙানোর কাজে ব্যস্ত যেন মালিকসহ এখানকার শ্রমিকরা।

এমন কর্মব্যস্ততার কারণ হিসেবে ওই কারখানার মালিক বললেন, ‘এ এলাকায় আমার প্রতিষ্ঠানটি একমাত্র পেটফ্লাস্ক ফ্যাক্টরি। অন্যদিকে রপ্তানি ছাড়াও এই কাঁচামাল দেশে সুতা ও তুলার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আর এতে মালের চাহিদার কারণে বর্তমানে কাজের চাপ অনেকাংশে বেড়েছে।’

এতো বোতল কীভাবে সংগ্রহ করেন জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘টোকাই ও ভাঙারিদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ত্রিশ টাকা দরে কিনি। কস্টিক সোডা দিয়ে বোতল পরিষ্কার করি এবং মেশিনে গুঁড়ো করে পাইকারি দরে কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দরে বিক্রি করি।’

কারা এই কাঁচামালের ক্রেতা জানতে চাইলে বলেন, ‘কাঁচামাল হিসেবে এসব মাল বিদেশে রপ্তানি হয়। রপ্তানিকারক ছাড়াও এখন দেশীয় প্লাস্টিকের বস্তা তৈরিকারকরা আমাদের কাছ থেকে কিনে। আবার শুনেছি পদ্মাসেতুর কাজেও এসব কাঁচামালের তৈরি বস্তা ব্যবহার হচ্ছে।’

ক্ষুদ্র এই শিল্পের প্রতিকূলতা কেমন জানতে চাইলে ইকবাল বলেন, ‘প্রতিকূলতা তো অছেই। শ্রমিক সংকট ছাড়াও রয়েছে বিদ্যুৎ বিলের চাপ। তাই শ্রমিকদের সঙ্গে নিজেও কাজ করছি প্রতিনিয়ত।’

এই শিল্পের ভবিষ্যৎ কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই কাঁচামাল যদি আমরা ভালো দামে বিক্রি করতে পারতাম, তবে অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই ধরনের কারখানা চালু করতো। এ পণ্যে মধ্যস্বত্তভোগীদের কারণে আমরা ব্যবসা করতে পারি না। সরকার আমাদের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি আরো মনোযোগী হলে এই শিল্প দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে