আপডেট : ১৩ মে, ২০১৬ ১৪:৫৮

সুখী হতে চাইলে বদভ্যাসগুলো ঝেড়ে ফেলুন

ফিচার
সুখী হতে চাইলে বদভ্যাসগুলো ঝেড়ে ফেলুন

আনন্দই জীবনের চালিকা শক্তি৷ সুখী মানুষরা বেশিদিন বাঁচেন৷ আশাবাদ ও ইতিবাচক চিন্তা হৃদরোগ ঠেকিয়ে রাখে, আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়৷ কিছু বদভ্যাস আমাদের জীবন থেকে সুখকে কেঁড়ে নেয়। তাই আপনাদের সামনে তেমন কিছু বদভ্যাস তুলে ধরা হল, যা বাদ দিয়ে হয়ে যান সুখী মানুষ৷

বাদ দিন অহেতুক দুঃখ বিলাসঃ

হ্যাঁ, দুঃখ একটা বিলাসিতাই। এবং তাও কেবল অলস মানুষদের জন্য। কারণ একজন কর্মঠ মানুষ নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পরিশ্রম করা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, দুঃখ নিয়ে বিলাস করার সময় তার অন্তত নেই। এই যে ইন্টারনেটে বসে এই লেখা পড়ছেন, আপনি বাংলাদেশের সেই ৩০ শতাংশ মানুষদের একজন যারা কিনা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পায়। তাহলে একবার ভেবে দেখুন তো, কত ভাগ্যবান আপনি! নিজের দেশের অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষের চাইতে আপনি বেশি সৌভাগ্যশালী। ঠিক মত খেতে পারছেন, ঘুমাতে পারছেন, মাথার ওপরে ছাদ আছে। পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষের সেই সুবিধাটুকুনও নেই। সুতরাং ভেবে দেখুন একবার, কি ভীষণ ভাগ্যবান আপনি। জীবন থাকলে, কষ্ট থাকবেই। দুঃখ/কষ্ট/ব্যথা না থাকলে আর জীবন কিসের? কিন্তু সেগুলো আছে বলেই সারাক্ষণ গোমড়া মুখে থাকতে হবে বা কপাল চাপড়ে কাঁদতে বসতে হবে, তার কোনও মানে নেই। সেটা কেবল বোকা মানুষেরাই করেন।

লোভ করবেন নাঃ

পৃথিবীতে সবাইকে সব কিছু পেতেই হবে, এমন কোনও কথা আছে? আপনি হয়তো বিশাল ধনী হতে চান, কিংবা হতে চান কোনও নায়িকার মতন সুন্দর। নিজেকে আপনার হয়তো খুব কুৎসিত লাগে, কিংবা খুব গরীব মনে হয়- তাই না? আচ্ছা, একবার ভাবুন তো- কি করবেন আপনি বিশাল ধনী হয়ে, কিংবা খুব সুন্দর হয়ে? এই সমস্ত কিছু কি মৃত্যুর পর সাথে নিয়ে যেতে পারবেন? খুব ধনী বা সুন্দর হওয়াটাই জীবনে বড় নয়, বড় হচ্ছে মানুষ হিশাবে আপনি কেমন একমাত্র সেটাই। যারা আপনাকে সত্যি ভালবাসবে, তারা কিন্তু এই একটা গুণের জন্য ভালবাসবে। আর যারা ভালবাসবে অর্থ কিংবা সৌন্দর্যের খাতিরে, তেমন মানুষের ভালোবাসা না পাওয়াই ভালো।

আগামীকালের অপেক্ষা নয়, বাঁচুন আজকেইঃ

যা হয়ে গেছে, সেটাকে বদলাবার ক্ষমতা কারো নেই। আর এই কথাটা ভুলে যাবেন না কখনও যে জীবনের রিওয়াইনড করার কোনও ব্যবস্থা নেই। চাইলেই জীবনকে নতুন করে শুরু করা যায় না, কিংবা এক ঘণ্টা পিছিয়ে নিয়ে অতীতে ফিরে যাওয়া যায় না। আর তাই আমাদের অবশ্যই বর্তমানকে মেনে নিতেই হবে, আর বাঁচতে হবে বর্তমানেই। অনেকেই আছেন, আগামীকালের আশায় বেঁচে থাকেন। আগামীকাল এটা করবো, সেটা হবে ইত্যাদি হাজারো পরিকল্পনা নিয়ে তাদের বাস। কেউ কেউ হয়তো নিজেকে বর্তমানে কষ্ট দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সাশ্রয় করেন। কিন্তু আগামীকাল কি আসবে? আপনি নিশ্চিত জানেন আগামীকাল সম্পর্কে? আমরা কেউই কিন্তু জানিনা ! তাহলে কেন জীবনকে অপেক্ষা করিয়ে রাখা? জীবনটা বর্তমানেই, তাই উপভোগ করে নিন সবটুকু।

‘পজিটিভ’ চিন্তাধারাঃ

আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টির মতো ইতিবাচক আবেগ শুধু কিছু সময়ের জন্য ভালো নয়৷ বার বার এই সব অনুভূতি ফিরে আসলে জীবন সার্বিকভাবে আরও সুখকর হয়ে ওঠে৷ জীবনে সুখ-দুঃখ আছে বটে, কিন্তু কোনো পরিস্থিতির ভালো দিকটির প্রতি মনোযোগ দিলে সত্যি উপকার হয়৷ পাত্রের অর্ধেকটা ভরা দেখলেই ভালো, অর্ধেকটা খালি নয়৷

নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুনঃ

কেউই নিখুঁত নয়৷ কিন্তু আমরা বার বার বাকিদের সঙ্গে নিজের তুলনা করি৷ নিজের যা নেই, তা নিয়েই যদি বেশি মাথা ঘামাই, তাহলে সুখী হওয়া কঠিন৷ বরং যা আছে, তা নিয়েই বেশি ভাবা উচিত৷ বিশেষ করে কঠিন সময়ে আমরা যেমন, সেটা মেনে নিতে শিখলে এবং নিজের প্রতি আরো সদয় হলে জীবনে আনন্দ বাড়বে৷ অন্যদেরও তাদের মতো করে মেনে নিতে সুবিধা হবে৷

যে চলে যাচ্ছে, তাকে যেতে দিনঃ

জীবন থাকলে সম্পর্ক থাকবে। আর সম্পর্ক থাকলে ভাঙ্গা- গড়াও থাকবে। আমাদের জীবনের সবচাইতে বড় কষ্টের ব্যাপারটা হচ্ছে প্রিয় মানুষগুলো থেকে বিচ্ছেদ। কখনও মৃত্যু, কখনও দূরত্ব... বিচ্ছেদের কারণ যাই হোক না কেন, প্রিয় মানুষের বিরহ আমাদের আচমকাই শুন্য করে ফেলে। হয়তো প্রাণপণে চেষ্টা করি তাকে ঠেকাবার। কিন্তু লাভ হয় কি? একদমই তো না! আর তাই, যে চলে যাচ্ছে তাকে যেতে দিন। আটকে রাখার চেষ্টা করে কোনও লাভ নেই, কেননা মৃত্যু হোক বা দূরত্ব- কোনটার সাথেই যুদ্ধ করে জিততে পারবো না আমরা। যে চলে যেতে চায় তাকে কি ধরে রাখা যায়? ধরে যখন রাখতেই পারবেন না, তখন কষ্ট আর না বাড়িয়ে যেতে দিন।

 

বিডিটাইমস৩৬৫/এএ

উপরে