আপডেট : ২১ মার্চ, ২০১৬ ১১:১৮

ভয়ংকর রুপে আর্বিভূত হতে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা!!

মো. মনির হোসেন
ভয়ংকর রুপে আর্বিভূত হতে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা!!

যে বুড়িগঙ্গার রুপে মুগ্ধ হয়েছিলেন সেন, পাল, মূগল বৃটিশরা-আজ সেই বুড়িগঙ্গাই শ্রীহীন কুচকুচে কালো। যে বুড়িগঙ্গা ঢাকার হৃদপিন্ডে রক্ত সঞ্চালন করে ঢাকাকে বাঁচিয়ে রেখেছে আজ সেই ঢাকা বুড়িগঙ্গার বুকে ঢেলে দিয়েছে বিষ, চেপে ধরেছে টুটি, বুড়িগঙ্গা আজ মৃত্যু পথের যাত্রী। আমরা কি পারি না বুড়িগঙ্গার পাশে দাড়াতে?

বুড়িগঙ্গার গর্ভেই ঢাকার জন্ম, ঢাকার বেড়ে উঠা। এই নগরের সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি সবকিছুই বুড়িগঙ্গা কেন্দ্রিক। আমরা এই নদীর ঋন পরিশোধ করছি ঢাকা শহরের সকল আবর্জনা, মলমূত্র, বাজারবর্জ্য ও বিষ দিয়ে।বুড়িগঙ্গা আজ বিষের নহর।

সম্প্রতি নদী পরিব্রাজক দল গিয়েছিলো বুড়িগঙ্গা পরিদর্শনে। সরেজমিন এই পরিদর্শনে দেখা যায় সদরঘাট নদীবন্দর এলাকায় নদীর পাড় ও নদী বন্দরের ভাসমান ব্যবসায়ীরা ফলের উপরের প্লাস্টিক কাভার ফেলছেন বুড়িগঙ্গায়। ভাসমান হকারদের কাছ থেকে ক্রয় করা খাবার সামগ্রীর প্যাকেট বা আবর্জনাও যাত্রীরা ফেলছে বুড়িগঙ্গায়। লঞ্চগুলোতে সৃষ্ট যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা নদীতেই ফেলা হয়। পোড়া তেল, মবিল, জ্বালানী, মলমূত্র টনকে টন মিশে যাচ্ছে এ নদীতে। নদীর গভীরে জমে গেছে কয়েকফুট আবর্জনার স্তুপ। ছোট ট্রলারগুলো চলতে হিমশিম খেতে হয়। মূহুর্তের মধ্যেই অসংখ্য পলিথিন অক্টোপাসের মতো চেপে ধরে ট্রলারের পাখাকে।পুরো ঢাকা শহরের মলমূত্র, আবর্জনা তথা পয়ঃর্বজ্য অপরিশোধিত অবস্থায় এসে জায়গা করে নিচ্ছে বুড়িগঙ্গার বুকে। সেইসঙ্গে আছে হাজারীবাগের ট্যানারী শিল্পের মারাত্মক তরল ও কঠিন বর্জ্য।

নদীর দুইপাড় দখলের চিত্রও ভয়াবহ। টং দোকান থেকে শুরু করে মসজিদ, আবাসন, ফ্যাক্টরি সবই আছে এই তালিকায়। অনেক জেলেকে অলস বসে থাকতে দেখা গেছে। তাদের কণ্ঠে হতাশার সুর। পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায়ও স্থায়ী হতে পারছেনা অনভিজ্ঞতার কারণে।জলনির্ভর পাখিও আগের মত দেখতে পাওয়া যায়নি যা পরিবেশেরে ভারসাম্যের ক্ষেত্রে অশনি সংকেত।

বিশেষজ্ঞদের মতে জলচর প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য পানিতে অক্সিজেনের প্রয়োজন প্রতি লিটারে ৫ মি.গ্রা. বা তার উপরে। বুড়িগঙ্গার পানিতে অক্সিজেন আছে ০.৩৬ থেকে ০.৬৮ মি.গ্রা.। এছাড়া পানিতে ক্রোমিয়াম, লেডসহ ভারী ধাতব পর্দাথের উপস্থিতি অধিক পরিমাণে রয়েছে। যার জন্য পানি থেকে দূর্গন্ধ বের হয়। এই পানিতে মানুষের শ্বাস কষ্ট, ক্যান্সার ও চর্মরোগের আশংকা ব্যাপক।

ডুয়েটের একটি টেস্টে বুড়িগঙ্গার পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিলন বলেন, বুড়িগঙ্গার পানি সেচকাজে ব্যবহার করলে ভারী ধাতু শস্যে ঢুকে যেতে পারে। আর এ শস্য ভক্ষণেও মানবদেহের ক্যালসিয়াম ক্রোমিয়ামে স্থানান্তর হয়ে দেহের হাড় বাঁকা রোগ বা ইটাই ইটাই হতে পারে।কানাডীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী গবেষক ফিরোজ আলম বলেন, এভাবে চলতে থাকলে এ নদীর জলচর প্রাণী বিশেষ করে মাছ ফিস্ট্রেরিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হবে এবং এটা মহামারী রূপ ধারন করতে পারে যা থেকে আমরা কেউই রেহাই পাব না।

উপরে