আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৩১

বিশ্বের আলোচিত ১০টি ব্যাংক ডাকাতি

বিডিটাইমস ডেস্ক
বিশ্বের আলোচিত ১০টি ব্যাংক ডাকাতি

ব্যাংকো সেন্ট্রাল বুরগ্ল্যারি (ফোর্টালিজা, ব্রাজিল)

২০০৫ সালে ওই ব্যাংক থেকে প্রায় ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের মুদ্রা ডাকাতি করা হয়। এ ডাকাতির সঙ্গে জড়িতরা অনেকদিন ধরে তারা নানা প্ল্যান করেছে ব্যাংকটি ঘিরে। ডাকাতির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে শহরের ঠিক মধ্যখানে তারা একটি কমার্শিয়াল জায়গা ভাড়া নেয়। এতে সবাইকে ফাঁকি দেওয়াটা সহজ হয় তাদের জন্য। গ্যাংটি প্রায় তিন মাস ধরে তাদের কমার্শিয়াল স্পেসের নিচ দিয়ে ২৫৬ ফুট টানেল তৈরি করে ব্যাংকের নিচ পর্যন্ত। এরপর আগস্ট মাসের একটি সপ্তাহে তারা বুঝেশুনে সেই টানেল দিয়ে ব্যাংকের ভোল্ট পর্যন্ত পৌঁছে যায় খুব সহজেই। কাজটি যদিও তাদের জন্য খুব সহজ না হলেও দ্রুততার সঙ্গেই তারা তাদের কাজ করে সম্পন্ন করে। গ্যাংটি ওই দিন প্রায় ৩ দশমিক ৫ টন ব্রাজিলিয়ান নোট চুরি করেছিল। ব্রাজিলিয়ান সরকার এ গ্যাঙের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে ধরতে পেরেছিল। ধারণা করা হয়, ইতিহাসের এই জঘন্যতম ডাকাতির সঙ্গে ২৫ জনের মতো জড়িত ছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে শুধু ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মুদ্রা উদ্ধার সম্ভব হয়। বাকি টাকা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ব্রিঙ্কস-ম্যাট রবারি (লন্ডন)

১৯৮৩ সালে নভেম্বরের এক মিস্টি সকালে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি ডাকাত দল হিথ্রু এয়ারপোর্টের পাশে থাকা ব্রিঙ্কস ম্যাটে আক্রমণ চালায়। ডাকাত দলটি সেখানে কর্মরত এক সিকিউরিটির মাধ্যমে ব্যাংকে ঢুকে পড়ে। দলটির পরিকল্পনা ছিল সেখানে থাকা ৩ মিলিয়ন ইউরো তারা ডাকাতি করবে। কিন্তু ব্যাংকের ভোল্টে পৌঁছানোর পরই তাদের চোখ ছানারড়া হয়ে যায়! লকার খুলে তারা দেখে সেখানে ৩ মিলিয়ন ইউরোর পাশাপাশি প্রচুর স্বর্ণালঙ্কার ও হীরাও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা সেখান থেকে ২৬ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ এবং মালামাল লুট করে, যার মধ্যে কেবল তিন টন ওজনের স্বর্ণ ও হীরা ছিল। টাকা উদ্ধার করা গেলেও চুরি যাওয়া স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয়, এ ডাকাতির সঙ্গে এ ছয়জন ছাড়াও আরও অনেকে জড়িত। 

সিকিউরিটাস ডিপো রবারি (ইউকে)

সিকিউরিটাস ডিপো রবারি ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি। এ ডাকাতিতে লুট করা হয় প্রায় ৮৩ মিলিয়ন ডলার। ২০০৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে প্রায় ২২ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর পর্যন্ত ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। ডাকাত দলটি ব্যাংকটির ম্যানেজারের পরিবারকে অপহরণের ভয় দেখায়, সেখানে কর্মরত ১৪ জন কর্মচারীকে বেঁধে ব্যাংক থেকে সমুদয় অর্থ লুট করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নর্দার্ন ব্যাংক রবারি (ইউকে)

২০০৪ সালে ক্রিস্টমাস ডের আগের দিন অর্থাৎ ২৪ ডিসেম্বর এই ডাকাতি অনুষ্ঠিত হয়। ডাকাত দলটির কয়েকজন সদস্য প্রথমে যায় ব্যাংকের দুটি ব্র্যাঞ্চের ম্যানেজারের বাসায়। সেখানে তারা তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের জিম্মি করে অস্ত্রের মুখে। এরপর ম্যানেজারদের বলা হয়, স্বাভাবিকভাবে আচরণ করে যেন ব্যাংকের লকার খুলে দেওয়া হয়। নতুবা তাদের পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত হুমকির মুখে তারা ব্যাংকের লকার খুলতে বাধ্য হন এবং ডাকাত দলের সদস্যরা সেখান থেকে ৪১ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। পরে অবশ্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের আহত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত এ ডাকাতির কোনো রহস্য উন্মোচন করা যায়নি।

সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরাক রবারি (ইরাক)

ব্যাংক থেকে সবচেয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ চুরির ইতিহাসে ১ নম্বরে আছে সাদ্দামের ছেলের নাম। সাদ্দামের লেখা নোট ইউজ করে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরাক থেকে ডাকাতি করা হয় ৯২০ মিলিয়ন ডলার। পরে অবশ্য সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি তল্লাশি করে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অর্থ পাওয়া যায়। সাদ্দাম হোসেনের ছেলে কুশে তার বাবার লেখা নোট জালিয়াতি করে ইরাকের সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে সমুদয় অর্থ লুট করে। তৎকালীন সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে তার ওপর কেউ কথা বলার সাহস রাখত না। সেই সুযোগ নিয়ে তার ছেলে কুশে এ ঘটনা ঘটায়।

দ্য নাইটব্রিজ ভোল্ট রবারি (লন্ডন)

এ ঘটনার মূল হোতা ছিলেন ইতালিয়ান প্লেবয়-খ্যাত ভ্যালেরিও ভিকেই। ভ্যালেরিও ভিকেইয়ের পেশাই যেন ছিল ব্যাংক থেকে টাকা লুট করা। বলা হয়ে থাকে, তিনি তার জীবনে ৫০টিরও বেশি আলাদা আলাদা ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিংস ব্রিজ থেকে ডাকাতির সময় তিনি সাধারণ একজন গ্রাহক হিসেবে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে ব্যাংকে প্রবেশ করেন। পরে তিনি ও তার সহযোগীরা অস্ত্রের মুখে ম্যানেজার এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটিদের বাধ্য করেন ব্যাংকের লকার খুলে দিতে। পরে তারা সেখান থেকে ৬৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের টাকা এবং স্বর্ণ, হীরা ইত্যাদি নিয়ে পালিয়ে যান। ধারণা করা হয়, ওই দিন সেখান থেকে প্রায় ৯৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অর্থ এবং স্বর্ণালঙ্কার তারা ডাকাতি করেন।

দার-ইস-সালাম ব্যাংক রবারি (ইরাক)

এ ব্যাংক থেকে ২০০৭ সালে প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের টাকা চুরি হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ ব্যাংকে কর্মরত কিছু সিকিউরিটি গার্ডের যোগসাজশে এই চুরি সংঘটিত হয়।

ব্রিটিশ ব্যাংক অব মিডল ইস্ট রবারি (ইউকে)

এ ব্যাংক থেকে টাকা চুরির ঘটনাটি ঘটে ১৯৭৬ সালে, লেবাননে। লেবাননে তখন যুদ্ধ চলছে। প্যালেস্টানিয়ান লিবারেশন অর্গানাইজেশনের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের কিছু লোক এ ঘটনা ঘটায়। তারা ব্যাংকের দেয়াল উড়িয়ে দিয়ে ভোল্ট থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লোপাট করে নিয়ে যায়।

ডানবার্ড আরমোর্ড রবারি (ইউএসএ)

আমেরিকার ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ডাকাতি। ১৯৯৭ সালে এটি সংঘটিত হয়। ডানবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে কর্মরত ইন্সপেক্টরের তত্ত্বাবধানে ওই ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে বলে জানা যায়। এই ডাকাতির ঘটনায় প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলারের মতো অর্থ চুরি গেছে বলে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ ব্যাংকে চুরি (বাংলাদেশ)

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরি করেছে হ্যাকাররা। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ গত ৫ ফেব্রুয়ারি হ্যাক করেছে চিনভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ। চক্রটি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এ অর্থ সরিয়ে নিয়েছে শ্রীলংকা ও ফিলিপাইনে। ব্যাংক থেকে টাকা ডাকাতির এক অভিনব কায়দা এই হ্যাকিং। প্রত্যেক ব্যাংকের কিছু সুইফট কোড থাকে, যা দিয়ে প্রত্যেক ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে ট্রানজেকশন করে থাকে। হ্যাকাররা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এই সুইফট কোডগুলো বের করে তা দিয়ে ফেডারেল ব্যাংক থেকে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার তাদের সুবিধামতো অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়েছে। ব্যাংক থেকে সবচেয়ে বেশি টাকা চুরির ঘটনার ইতিহাসে এটির অবস্থান পঞ্চম।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে