আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ১১:৫৭

পতিতার বিরল ভালোবাসা! কিডনি দিয়ে বাচাঁলেন খদ্দেরকে

অনলাইন ডেস্ক
পতিতার বিরল ভালোবাসা! কিডনি দিয়ে বাচাঁলেন খদ্দেরকে

আমেরিকান চেইন রেস্তোরা 'হুটার্স'। যার অর্থ 'বুবস'। এখানে কাজ করে কালো আঁটো আভরণ ঠেলে বেরিয়ে আসা বক্ষ বিভাজিকা ও স্তনসর্বস্ব সুন্দরী ওয়েট্রেস।  এই ওয়েট্রেসদের বিকশিত বক্ষ পিপীলিকার মতো যৌনবুভুক্ষ নানাবয়সি পুরুষদের টেনে আনে হুটার্সে। যেখানে কাস্টমারের মুখে কাটা-চামচ ধরা থাকলেও, ওয়েট্রেসের বিভাজিকায় আটকে থাকা পলকহীন চোখজোড়া অন্য কিছুর স্বাদ নিতে চায় চেটেপুটে। দর মিললে হলে কখনো কখনো খদ্দের আর ওয়েট্রেস হোটেলের রুম ভাড়া করে মেতে উঠেন আদিম উল্লাসে। যেখানে ভোজনবিলাসীরা একই সঙ্গে যৌনতাবিলাসীও। তাই 'ওরা বুক দেখিয়ে লোক টানে' এমন কটাক্ষও হজম করে হুটার্স।
এই রেস্তোরাঁয় কেউ কিছু যদি পেয়েই থাকেন, সেটা যৌন সুড়সুড়ানিরই সুখ। হুটার্সের এক নারী ওয়েট্রেস মারিয়ানা ভিলারিয়াল।বছর বাইশের এই ওয়েট্রেসের সঙ্গে থমাস ডোনাল্ডের আলাপ হয় হুটার্সেই।মারিয়ানার সঙ্গে বছর বাহাত্তুরের এক বুড়োর 'সম্পর্ক'টা এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, এমন আত্মীয়তার জায়গায়, কে বলবে এই সম্পর্কের বয়স মাত্রই তিন মাস! প্রেম বললে, প্রেম। ভালোবাসা বললে, ভালোবাসা। কিন্তু, তার পরেও এদের দু-জনের সম্পর্কের রসায়নের সঠিক ব্যাখ্যা মেলে না। তিন মাসের সম্পর্কে কেউ যে এতদূর এগিয়ে যেতে পারে, মারিয়ানাকে না দেখলে, সত্যিই বিশ্বাস হতো না!
মারিয়ানা কী এমন করেছেন, তা নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে? মারিয়ার মুখেই শুনুন-
'তিন মাস ধরে আমাদের রেস্তোরাঁয় আসছিলেন থমাস। তার আগে কোনও দিন দেখিনি। মুখচেনা হল। তার পর আলাপ। একদিন শুনলাম, থমাসের দুটো কিডনিই খারাপ। বাহাত্তরের এক বৃদ্ধের জন্য কে আর কিডনি দেবে! তাই শেষের সেদিনের অপেক্ষাই করছিলেন। ওঁর সঙ্গে কয়েক দিন কথা বলে, কেন জানি না আমার ঠাম্মার কথা খুব মনে পড়ছিল। ঠাম্মার জীবনের শেষক'টা দিনের সঙ্গে ওঁর মিল পাচ্ছিলাম। ঠাম্মার জন্য তো সেদিন কিছু করে উঠতে পারেনি। এ বার তাই সাহসী সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললাম।'
হ্যাঁ, এরপর কোনও কিছুর পরোয়া না-করে, নিজের ভবিষ্যতের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না-করে, প্রবীণ ভালোলাগার মানুষটির জন্য নিজের একটি কিডনি দান করছেন এই যুবতী। পরিবারের কারও মত নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেননি। প্রথমদিকে একটা খটকা ছিল। খটকাটা এই কারণেই, দুজনের বয়সের বিস্তর ফারাক। কিন্তু, অদ্ভুত ভাবেই দু-জনের কিডনি মিলে যায়। ফলে, কিডনি প্রতিস্থাপনে শেষমেশ সমস্যা হয়নি। অস্ত্রোপচারও সফল।
এখন দুজনেই ভালো রয়েছেন। তবু এক্ষুনি নিজের কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন না ওই যুবতী। ছ-সপ্তাহ সম্পূর্ণ বিশ্রাম। হলে হবে কী, সেই বিশ্রামের মধ্যেই ডোনাল্ডের জন্য আরও কিছু দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। অনলাইনে এই মানুষটির জন্য টাকা সংগ্রহ করতে উদ্যোগী হয়েছেন। যাতে প্রবীণের চিকিত্‍‌সায় খামতি না থেকে যায়। ইতিমধ্যে অবশ্য আট হাজার মার্কিন ডলার তুলেও ফেলেছেন।
এক অনাত্মীয়ের জন্য হুটার্সের এই ওয়েট্রেস যা করেছেন, সবাই কী তা আর পারে! ওঁরা ভালো থাক, সুস্থ থাক। বেঁচে থাক মারিয়ানাদের মানবিক মন।

উপরে