আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১৬:৩৮

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১০টি জঙ্গি সংগঠন

বিডিটাইমস ডেস্ক
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১০টি জঙ্গি সংগঠন

ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে বিশ্বের সব চাইতে ধনী দশটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রিপোর্টটিতে এসকল সংগঠনের আয়ের উৎস, অবস্থান, লক্ষ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কেও বর্ননা করা হয়েছে। আসুন আমরা দশম থেকে শুরু করে জেনে নিই প্রথমটিকে-

১০. বোকো হারাম (বার্ষিক আয় ৫২ মিলিয়ন ডলার): বোকো হারাম কথার অর্থ হল- ‘পশ্চিমা শিক্ষা পাপ’। যারপরনাই কট্টরপন্থী ও দূর্ধষ্য এই মুসলিম সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বিশ্বাস, পশ্চিমা শিক্ষা বা মতাদর্শকে কোনও মতেই জায়গা দেওয়া যাবে না।

আয়ের মূল উৎস: কিডন্যাপিং ও মুক্তিপণ আদায় করেই এই জঙ্গি সংগঠনের তহবিল ভারী হয়ে চলেছে। পাশাপাশি ব্যাংক লুট ও ধনী ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলে এই জঙ্গি সংগঠন।

বিস্তার: নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন

লক্ষ্য: ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ও নাইজেরিয়ায় শরীয়তি কানুন চালু করাই এই জঙ্গিদের মূল লক্ষ্য।

৯. রিয়েল আই আর এ (বার্ষিক আয় ৫০ মিলিয়ন ডলার): রিয়েল আইআরএ-এর পুরো নাম রিয়েল আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি। এটি মূল ‘আইআরএ’ সংগঠন থেকে ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া চরম উগ্রপন্থী শাখা, যারা ১৯৯৮ সালের ত্রিপাক্ষিক শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করেছিল। সংগঠনটি এখনও ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদে’র বিরুদ্ধে নাশকতামূলক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। সংগঠনটিকে জঙ্গি সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকা।

আয়ের মূল উৎস: অপহরণ, চোরাকারবার এবং অনুদানই এদের আয়ের মূল উৎস।

বিস্তার: উত্তর আয়ারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেন

লক্ষ্য: একটি আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ আইরিশ রাষ্ট্র গঠন।

৮. আল শবাব: সোমালিয়ার সবচেয়ে বড় এই জঙ্গি সংগঠনের জন্ম ২০০৬ সালে। বার্ষিক আয় ৭০ মিলিয়ন ডলার।

আয়ের মূল উৎস: অপহরণ, মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায়, জলদস্যুবৃত্তি ও অনুদান

বিস্তার: সোমালিয়া, কেনিয়া ও উগান্ডা

লক্ষ্য: সোমালিয়ায় কট্টরপন্থী ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

৭. লস্কর-ই-তোইবা: পাকিস্তানের কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠন লস্কর জঙ্গিদের সংগঠন আজও ভারতীয় উপমহাদেশে নিজেদের দাপট ও আতঙ্ক টিকিয়ে রেখেছে। বার্ষিক আয় ১০০ মিলিয়ন ডলার।

আয়ের মূল উৎস: বিদেশি শক্তির আর্থিক সাহায্য ও অনুদান

লক্ষ্য: অবিলম্বে কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন করা ও সমগ্র উপত্যকাকে পাকিস্তানের আওতায় নিয়ে রক্ষণশীল মুসলিম শরিয়তি আইন চালু করা।

৬. আল-কায়েদা: বিশ্বের কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠনের তালিকায় জ্বল জ্বল করে আল-কায়েদার নাম। ইসলামের প্রতি পশ্চিমী দুনিয়ার দৃষ্টিভঙ্গিই পালটে দিয়েছে এই কট্টরপন্থী মুসলিম সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। এই সংগঠনের বার্ষিক আয় ১৫০ মিলিয়ন ডলার।

আয়ের মূল উৎস: বিদেশি শক্তির অনুদান, অপহরণ, ড্রাগ পাচার

লক্ষ্য: ঘোষণামতো খ্রিস্টান ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিশ্বজোড়া ‘জিহাদ’। পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামিক ফ্রন্ট গঠন।

৫. তালিবান: রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রথম গঠিত এই জঙ্গি সংগঠনটি আফগানিস্তানে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত শাসন চালায়। বার্ষিক আয় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। শরীয়তি আইনের ধ্বজাধারী এই জঙ্গি সংগঠনটি এখন টুকরো টুকরো৷ তবু তা পাকিস্তান ও আফগানিস্তান, উভয় দেশেই এক বিষফোঁড়ার মতো।

আয়ের মূল উৎস: ড্রাগ পাচার (মূলত আফিম ও হেরোইন), কর্পোরেট স্পনসরশিপ ও অনুদান।

লক্ষ্য: আফগানিস্তানে ফের কট্টরপন্থী মুসলিম সরকার গঠন।

৪. হিজবুল্লাহ: ফিলিস্তিনের হামাসের মতো এই জঙ্গি সংগঠনেরও একটি রাজনৈতিক পটভূমি রয়েছে। মূলত লেবাননের শিয়াপন্থী জঙ্গিদের নিয়ে ইরানের পৃষ্ঠপোষকায় এই সংগঠন গঠিত৷ বিশ্বের ধনী জঙ্গি সংগঠনের তালিকায় চার নম্বরে রয়েছে হিজবুল্লাহর নাম। এই সংগঠনের বার্ষিক আয় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।

বিস্তার: প্রধানত লেবানন

আয়ের মূল উৎস: বিদেশ থেকে আর্থিক সাহায্য (বিশেষত ইরান), ড্রাগ পাচার ও উৎপাদন

লক্ষ্য: লেবাননে ইসলামিক সরকার প্রতিষ্ঠা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে জঙ্গি আক্রমণ।

৩. ফার্ক (দ্য রেভলিউশনারি আর্মড ফোর্স অফ কলম্বিয়া): উগ্র বামপন্থী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। কলম্বিয়ায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সংগঠন বিস্তারলাভ করেছে৷ প্রথমে ছিল ফিদেল কাস্ত্রো-চে গেভারাদের মতো মার্কসবাদে অনুপ্রাণিত গেরিলাদের সংগঠন। পরে মাওবাদী সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে রূপান্তরিত হয়৷ অতঃপর অনিবার্যভাবে কলম্বিয়ার ড্রাগ মাফিয়াদের খপ্পরে পড়ে৷ বার্ষিক আয় ৬০০ মিলিয়ন ডলার।

বিস্তার: কলম্বিয়া

আয়ের মূল উৎস: ড্রাগ উৎপাদন ও পাচার, মানুষ পাচার, অপহরণ, সোনা উত্তোলন

ঘোষিত লক্ষ্য: পুঁজিপতিদের হটিয়ে মার্কসিস্ট সরকার গঠন।

২. হামাস: মাত্র এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে ফিলিস্তিনের হামাস ইজরায়েল ও পশ্চিমা দুনিয়ার ত্রাস হয়ে ওঠে। সংগঠনের বার্ষিক আয় ১ বিলিয়ন ডলার। যদিও ইজরায়েলের প্রিসিশন টার্গেট মিসাইল আক্রমণে তাদের দুই শীর্ষনেতা ইয়াসির আরাফাত ও রানতিসির পরপর মৃত্যু ঘটায় হামাসের আগের শক্তি অনেকাংশে লোপ পেয়েছে৷

বিস্তার: জর্ডন নদীর পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা

আয়ের মূল উৎস: করের নামে ফিলিস্তিনের মহল্লাগুলি থেকে চাঁদা আদায়, আর্থিক সাহায্য ও অনুদান

লক্ষ্য: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা ও জর্ডান নদীর ধারে ইসলামিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা।

১. আইএসআইএস: বর্তমান বিশ্বের সব থেকে ধনী জঙ্গি সংগঠন। বার্ষিক আয় ৩ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে।

বিস্তার: সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অংশ

আয়ের মূল উৎস: বিভিন্ন কর্পোরেট ও শেখশাহির গোপন পৃষ্ঠপোষকায় তেলের ব্যবসা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অধিকৃত সিরিয়া ও ইরাকের ব্যাংক লুট।

লক্ষ্য: সিরিয়া, ইরাক, জর্ডন, প্যালেস্তাইন, লেবানন সহ ভূমধ্যসাগরীয় আফ্রো-এশীয় তল্লাটে এক সঙ্ঘবদ্ধ ইসলামিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে