আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০১৬ ১৯:২৬

যারা রাতের ট্রেন জার্নি করেন, তারা সাবধান!

এস.আই ইমরান
যারা রাতের ট্রেন জার্নি করেন, তারা সাবধান!

গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা চট্টগ্রাম ট্রেন লাইনের কিছু কিছু স্পটে প্রায় দেড়শ মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় আখাউড়া, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, কসবা, বি-বাড়িয়া হয়ে নরসিংদী পর্যন্ত। পুলিশ এই লাশগুলা বেশিরভাগ অজ্ঞাতপরিচয় আত্মহত্যা হিসেবে রেকর্ড করে। তারপর মর্গ হয়ে মাটিচাপা।

হিন্দু মুসলিম ব্যাপার নাই, সব মাটিচাপা। ডোম মৃতব্যাক্তির জামাকাপড় রেলওয়ে ডোমঘরের সামনে ঝুলিয়ে রাখে। যদি বছর দুয়েকের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা এসে জামাকাপড় দেখে সনাক্ত করতে পারে তাহলে কবর দেখিয়ে দেওয়া যাবে।

মৃত ব্যক্তির জামাকাপড় রোদে শুকায়, বৃষ্টিতে ভিজে চেহারা সুরত আস্ত থাকেনা। এই লাশগুলো বেশিরভাগই মার্ডার কেস। দশ-বিশ, পাঁচশ টাকা, পকেটে থাকা মোবাইল ফোন, এগুলা ছিনতাই করার জন্যই মার্ডারগুলা করা হয়। বিশ টাকার জন্যও তারা মানুষ খুন করছে।

ছিনতাইয়ের নিয়মটা হচ্ছে ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে করিডোরের মত থাকে, দুই পাশে দরজা, বাথরুম। রাতের ট্রেনে এসব যায়গায় সুবিধামত লোক পেলে ছিনতাইকারী চক্রের দুইজন পেছন থেকে আক্রমণ করে।

আক্রমণের নিয়ম হচ্ছে গামছাকে পেঁচিয়ে চিকন করা হয় প্রথমে। তারপর দুই মাথা দুইজন ধরে যাকে আক্রমণ করা হবে, তার গলায় পেছন থেকে এক প্যাঁচ দিয়ে দুপাশ থেকে হেঁছকা টান। ১৫ সেকেন্ডের ভিতরই ঐলোক মারা যাবে। না মরলেও তার জীবন ঐখানেই শেষ।

এরপর তার পকেট থেকে যা নেওয়ার নিয়ে পাশের দরজা দিয়ে ফেলে দিবে। রাতের ট্রেনে সবাই ঘুমায়। তাছাড়া ট্রেনের আওয়াজ থাকে। কেউ কিচ্ছু টের পাবেনা। পুরো কাজটা করতে সময় লাগে সর্বোচ্চ দেড় মিনিট।

এরা ধরা পড়ে, আবার জামিনে বের হয়ে যায়। আদালতের কাছে এভিডেন্স থাকেনা পর্যাপ্ত। এভিডেন্স না থাকলে বিচারও করা সম্ভব হয় না তাই সতর্ক থাকুন। সচেতনতা বৃদ্ধি করুন।

এসআই ইমরান
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)
রংপুর।

উপরে