আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৩১

ঝিঁঝিঁপোকার যৌনতা হার মানাবে নীলছবিকেও!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ঝিঁঝিঁপোকার যৌনতা হার মানাবে নীলছবিকেও!

প্রাকৃতিক পরিবেশে কোন ক্লান্ত দুপুরে ঝিঁঝিঁপোকাদের আওয়াজে কখনো কখনো আপনি দারুণ বিরক্ত হন। এতে ঝিঁঝিঁ পুরুষদের বয়েই গেছে। তাদের মাথায় তখন কেবল ঝিঁঝিঁ রমনীদেরই ছবি। আপনার বিরক্তিকর আওয়াজটুকুই ঝিঁঝিঁ রমনীদের কাছে দারুণ এক কামনার গীত। সে সুরে আকৃষ্ট রমনীরা ঝিঁঝিঁ পুরুষদের কাছে অবলীলায় সমর্পন করেন নিজেদের।

ইনফ্রা-রেড ক্যামেরা আর মাইক্রোফোন দিয়ে তোলা একটি ফুটেজ দেখে তো বিজ্ঞানীদের চোখ ছানাবড়া! ঝিঁঝিঁপোকারা যে এমন উন্মত্ত প্রেমিক, তা কে জানতো৷

ব্রিটেনের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানীরা উত্তর স্পেনের আস্তুরিয়াসের একটি মাঠে ১৫২টি ঝিঁঝিঁপোকাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন৷ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ৯৬টি ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন ব্যাবহার করেন, যাতে ঝিঁঝিঁপোকারা নড়লে-চড়লে কিংবা কোনও রকমের আওয়াজ করলেই তা রেকর্ড হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীরা প্রত্যেকটি ঝিঁঝিঁপোকার পিঠে একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে দিয়েছিলেন এবং প্রত্যেক ঝিঁঝিঁপোকার ডিএনএ’র নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। এ প্রকৃয়ায় তারা আলাদাভাবে প্রত্যেক ঝিঁঝিঁপোকা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সন্তান-সন্ততিদের সনাক্ত করতে পারবেন।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য

ক্যামেরার ফুটেজ দেখেই বিজ্ঞানীরা বুঝেছেন, ঝিঁঝিঁপোকাদের কার্যকলাপ সম্প্রচার করলে সেন্সর বোর্ডের কোপে পড়তে হবে৷ তবে সাধারণ কিছু তথ্য পরিবেশন করা চলতে পারে৷ যেমন- ঝিঁঝিঁপোকারা যে শুধু গান গেয়েই স্ত্রী ঝিঁঝিঁপোকাদের আকৃষ্ট করে, শুধু তা নয়!  তারা রীতিমতো ‘যৌন শিকারে’ বের হয়৷ ঝিঁঝিঁ দম্পতিদের একযোগে ৪০ বার সহবাস খুবই স্বাভাবিক ঘটনা৷ আবার স্ত্রী ঝিঁঝিঁপোকারা তারই ফাঁকে আশপাশের পুরুষদের সঙ্গে চটজলদি সহবাস করে আসে৷

বংশবৃদ্ধি

স্ত্রী ঝিঁঝিঁপোকারা ডিমগুলো মাটির ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়৷ সেই স্থানটির ও ডিমগুলির সুরক্ষার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করে থাকে৷ সকলেই গ্রীষ্ম অবধি শত শত ডিম পাড়ে, কিন্তু সবচেয়ে সফল স্ত্রীদেরও গোটা কয়েক ছানা ছাড়া আর কিছু বাঁচে না৷ আর পুরুষ ঝিঁঝিঁপোকাদের তো কথাই নেই, তাদের অধিকাংশই কোন ছানাপোনা রেখে যেতে পারে না৷

কাম সঙ্গীত ও ঝিঁঝিঁপুরুষ

সম্প্রতি ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে অপর একটি দিকও চোখে পড়ার মতো! পুরুষ ঝিঁঝিঁপোকাদের স্ত্রীদের আকর্ষণ করার ক্ষমতার সঙ্গে তদের প্রজনন ক্ষমতার কোনও সম্পর্ক নেই৷ অপরদিকে দাপটশালী পুরুষদের যতো ছানাপোনা হয়, যেসব পুরুষরা নিয়মিত দ্বন্দ্বযুদ্ধে হারে, তাদেরও ঠিক ততটাই হয়৷ আবার যেসব পুরুষরা বেশীক্ষণ ধরে ‘গান গায়’, তারা বেশী সঙ্গিনী পায় বটে, সাইজে ছোট ঝিঁঝিঁপোকাদের কিন্তু বেশী সন্তান অর্জনের জন্যই গান গাইতে হয়৷ বড়মাপের ঝিঁঝিঁপোকাগুলোর অত ভালো গান না গাইলেও চলে৷

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে