আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০১৬ ১১:০০

রাজধানীর ফুটপাতে মিলছে ৩০ টাকায় প্রশান্তির ঘুম

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর ফুটপাতে মিলছে ৩০ টাকায় প্রশান্তির ঘুম

ঢাকা:  রাজধানী ঢাকায় বেড়োলেই দেখা যায় মহা মহা বিল্ডিং, রাজকীয় সব শপিং মল, দামী দামী গাড়ি। হচকচিয়ে যাওয়া এ শহর দেখলেই মনে হয় ইউরোপে চলে গেছেন আপনি। কিন্তু থামুন, এসব দৃশ্যের পাশাপাশি ঢাকায় আরেকটি দৃশ্যও দেখা যায়, তা হচ্ছে হতদরিদ্র মানুষদের খোলা আকাশের নিচে রাত্রীকালীন প্রশান্তির ঘুম।

সারাদিন পরিশ্রম শেষে বাসায় না ফিরে ফুটপাতে থাকতে হচ্ছে অনেককেই।  তবে, সেটাও ফ্রি নয়।  ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকার বিনিময়ে তারা মাথা গোঁজার জায়গা পাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে।  থাকার জন্য মিলছে পাটি, বালিশ আর কাঁথা।

রাতে রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী মাজারের পূর্ব-দক্ষিণ দিকে মার্কেট সংলগ্ন রাস্তার পাশের ফুটপাতে এমনই চিত্র দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দিনমজুর, শ্রমিক কিংবা ছোট আয়ের মানুষরা দুই ক্যাটেগরিতে এখানে রাত কাটাতে পারেন। এখানে ৩০ টাকার বিনিময়ে মিলবে একটি পাটি আর বালিশ। আর ৪০ টাকা দিলে মিলবে দু’টি কাথা (একটি বিছানোর, অপরটি গায়ে দেওয়ার), বিছানা আর বালিশ। 

এই স্থানে ফুটপাতে কাঁথা, বালিশ, আর পাটি সরবরাহ করেন ২৭ জন বৃদ্ধ নারী। আবার ভাগ করা হয়েছে ওই স্থানটি। তাদের কেউ চারটি পাটির মালিক আবার কেউবা পাঁচটি পাটির মালিক। 
পাটির মালিকেরা জানান, পাটির বিনিময়ে তারা ভাড়া পান। তারা সন্ধ্যার পরে এই স্থানে আসেন। আবার সকাল ৭/৮টার দিকে চলে যান।
পাটির মালিক নারীরা আরও জানান, পাটি ভাড়া দিয়ে টাকা উপার্জন তারা নিজেরাই করেন। এ জন্য কাউকে চাঁদা কিংবা ভাগ দেওয়া লাগে না।

এখানে রাত কাটানো মানুষেদের কেউ রিকশাচালক, কেউবা দিন মজুর। আবার অনেকে কাজের সন্ধানে দূর-দূরান্ত থেকে এসে রাত কাটাচ্ছেন এখানে।
এ জায়গায় মানুষ রাত কাটাতে আসার অন্যতম কারণ, জায়গাটি নিরাপদ, লোকজন প্রায় সারারাতেই চলাফেরা করেন। এছাড়া, জায়াগা ভাড়া দেওয়া বৃদ্ধ নারীরাও সারারাত সেখানে থাকেন। 

জায়গাটিতে ঘুমাতে আসা রহিম নামে বলেন, তিনি পেশায় বাসের হেলপার। মাজার থেকে দূরে একটি টিনশেডের বাড়িতে থাকেন। বেশি রাত করে বাড়িতে গেলে অন্য ভাড়াটিয়ার ডিস্টার্ব হয়। এ জন্য অভিযোগ দিতে পারে তারা। তাই তিনি এখানে রাত কাটাচ্ছেন।

তবে, অনেকেই ভাড়ায় না থেকে পাশের দোকানে বসে চা খেয়ে সময় কাটান। নূর আলম নামে একজন জানান, তিনি মালামাল ফেরি করে বিক্রি করেন। চায়ের দোকানে বসে আছেন। সকাল হলে কাজে যাবেন।

কথা হয় শাকিল নামে একজনের সঙ্গে। তার বাড়ি যশোর জেলায়। তিনি দিন মজুরের কাজ করেন। নিয়মিত ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে এখানে রাত কাটান। সকালে কাজের উদ্দেশে বের হন তিনি।

মাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় এখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেকটা ভালো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাজার ও পার্শ্ববর্তী স্থানে টহলরত থাকেন। এতে করে এখানে আসা ব্যক্তিরা নিরাপদে রাত কাটাতে পারেন।

ফুটপাতের এই অস্থায়ীরাতযাপনের স্থানে কয়েকজন শিশুকেও ঘুমুতে দেখা গেল গেল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাকের খোঁজে আশা ব্যাক্তিদের সাথে শিশূরাও সেখানে থাকেন। তাঁদের ক্ষেত্রে অর্ধেক ভাড়া নেয়া হয়। রিপন নামে একজন জানান, তিনি নিয়মিত এখানে রাত কাটান। দিনে দিনমজুরের কাজ শেষে রাতে এসে বিশ্রামের স্থান হিসেবে এ স্থানটিই বেছে নিয়েছেন তিনি।

হতদরিদ্র, শ্রমিক কিনবা রিক্সাচালক। রাত কাটাতে আশা এইসব মানুষ গুলোর জন্যশাহ আলী মাজার সংলগ্নএই জায়গাটি  যেন তাদের বাসস্থান। সড়কের ধুলো-বালিতে স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে, কিংবা অন্য কোনো ভাবে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এসব জেনেও যেন নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছেন তারা। এটাই যেন তাদের শ্রেষ্ঠ বিশ্রামাগার।  

উপরে