আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৩৫

ঘরহারা শরনার্থী ও ১ লাখ শূন্য তাঁবুর গল্প

অনলাইন ডেস্ক
ঘরহারা শরনার্থী ও ১ লাখ শূন্য তাঁবুর গল্প

কি অদ্ভূত আচরণ! একদিকে লাখো লাখো শরনার্থী অমানবিক জীবন যাপন করছে। হাড় কাঁপানো শীতে যেমন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে তেমনি প্রচুর বৃষ্টিতেও রেহাই নেই তাদের। কাদা পানিকে সঙ্গী করে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস পার করতে হচ্ছে। ঠিক একই সময় সৌদি আরবে অন্তত ১ লাখ তাঁবু শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। যে সব তাঁবুতে নূন্যতম সুযোগ সুবিধার কোনো ঘাটতি নেই। এমনকি এসব তাঁবুতে তাপানূকুল ব্যবস্থা রয়েছে। অবাক ব্যাপার যে এই তাঁবুগুলো বছরে মাত্র পাঁচটা দিন ব্যবহার করা হয়। বছরে মাত্র পাঁচটা দিন এসব তাঁবুতে লোকজন থাকে। বাকি ৩৬০ দিন এগুলো অব্যবহৃত থাকে। অথচ এসব তাঁবুতে সহজভাবেই ৩০ লাখ লোক ভালোভাবে থাকতে পারে। বিশ্বকে তাহলে শরনার্থীদের নিয়ে এতটা দুঃশ্চিন্তায় ভুগতে হয় না।

এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক এসব তাঁবু কেনো তৈরি করে অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। ফেলে রাখা হয়েছে এটা বলা যাবে না। ৬৪ বর্গমিটার আয়তনের তাঁবুগুলো তৈরি করা হয়েছে হজ্বযাত্রীদের জন্য। ১৯৯০ সালের দিকে সৌদি সরকার হজ্বযাত্রীদের জন্য স্থায়ীভাবে এই তাঁবুগুলো তৈরি করেন। ১৯৯৭ সালে এগুলো আরো উন্নত করে ফায়ারপ্রুফ করা হয়। প্রতিটি তাঁবুতে যেমন চমৎকার বাথরুম ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি রয়েছে রান্নাবান্নার চমৎকার সুযোগ সুবিধা।

ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং অন্য মুসলমান রাষ্ট্রগুলো সিরিয়ার শরনার্থীদের ব্যাপারে কিছু করছে না। অথচ এই তাঁবুতেই সিরিয়ান শরনার্থীদের সহজেই জায়গা হয়ে যেতে পারে। যদিও সৌদি আরব দাবি করছে তারা ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখ সিরিয়ান শরনার্থীদের জায়গা দিয়েছে। তবে মানবাধিকর সংস্থার দাবি এসব সিরিয়ান শরনার্থী হিসেবে লিপিবদ্ধ নয়, তারা বৈধভাবে সৌদি আরবে এসেছে এবং সেখানে তারা কাজ করছে। 

উপরে