আপডেট : ৭ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৫৩

ভাল স্বামীর আশায় শিবরাত্রি পালন!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ভাল স্বামীর আশায় শিবরাত্রি পালন!

ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিই বাঙালির শিবরাত্রি। তবে ত্রয়োদশী থেকে চতুর্দশীর গোটা রাত্রিই শিবের উপাসনা হয়। তাই এই উৎসবের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে আছে ‘রাত্রি’ শব্দটি। 

শিবরাত্রি পালন কিন্তু শুধু কলকাতায় নয়, গোটা ভারতে। আর এটা শুধু মেয়েদেরও নয়। পুরুষ, মহিলা সকল শিব-ভক্ত মানুষই এই ব্রত পালন করে থাকেন। কিন্তু কলকাতায় মহিলাদের, বিশেষত অবিবাহিত মেয়েদের শিবরাত্রি পালনের রেওয়াজ রয়েছে। আসলে ভাল বর পাওয়া যাবে এমন একটি বিশ্বাস বা সংস্কার থেকেই প্রজন্মর পর প্রজন্ম ধরে এই রীতি চলেছে। এর মধ্যে কোনও ধর্মীয় নির্দেশ নেই। 

সমাজতাত্বিকরা মনে করেন— বাংলায় কন্যাসন্তানের অভিভাবকরা বরাবরই নিজেদের ‘কন্যাদায়গ্রস্ত’ হিসেবে ভেবে এসেছেন। তাদের বিয়ে দিয়ে হিল্লে করতে হবে। এই ধারণা থেকেই শিবরাত্রির জনপ্রিয়তা এই বাংলায় শুধু শিব-ভক্তদের মধ্যে নয়, সকলের মধ্যেই। আর সেই কারণেই বাংলায় ভাল বউ পাওয়ার জন্য কোনও ‘পার্বতীরাত্রি’ নেই।

শিব-ভক্তদের কাছে পরম পবিত্র এই রাত। পুরাণ বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই দিনটিতেই শিব লিঙ্গরূপে প্রথম প্রকাশ পেয়েছিলেন। আবার পুরাণে এও আছে যে, এই দিন শিব ও পার্বতীয় বিয়ে হয়েছিল। সম্ভবত এই একটি বক্তব্য থেকেই শিবরাত্রির সঙ্গে বিয়ে এবং ভাল বর পাওয়ার যোগাযোগ তৈরি হয়।

বাংলায় শিবের যে ছবি তাতে অবশ্য ‘সর্বংসহা’ ভাবটি ছাড়া বাকি যে গুণগুলি রয়েছে তাতে তিনি খুব পছন্দের বর নয়। অন্তত নেশা এবং শ্মশানে জীবন কাটানোর যে ফিরিস্তি পাওয়া যায়, তার থেকে এমনটাই মনে হয়। আর শিবের বিয়ে নিয়েও কম ঝঞ্ঝাটের উল্লেখ নেই পুরানে। তবে স্ত্রীর অপমান সহ্য করতে না পেরে যে তাণ্ডব তিনি করেছিলেন সেটা ‘ভাল স্বামী’র পরিচয়।

অনেকের বিশ্বাস, ফাল্গুণ মাসের এই দিনটায় উত্তর গোলার্ধের আকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের এমন সমাবেশ হয়, যাতে মানুষ তার অভ্যন্তরীণ শক্তি বিশেষভাবে জাগ্রত করে তুলতে পারে। শিব নিজেও নাকি উমাকে বলেছিলেন, এই তিথি পালন করলে সমস্ত পাপের ফল থেকে নিষ্কৃতি মিলবে এবং মোক্ষলাভ হবে।

শিবরাত্রির ব্রত অনুসারে এই দিনে উপবাসে থেকে সারা রাত জেগে চার প্রহরে চার বার শিবের মাথায় জল দিতে হয়। যদিও উপবাস কথার আসল অর্থ না খেয়ে থাকা নয়, বরং প্রিয় দেবতার সমীপে বাস করা। তবে সেসব তত্ত্ব কথা। উৎসব প্রিয় বাঙালির গড় শিবরাত্রি পালনের ছবি অবশ্য আলাদা।

কিছুকাল আগেও শহরে শহরে এমনকি কলকাতাতেও সারারাত চলত সিনেমা। সিনেমা হলগুলি কমপক্ষে তিনটি শো চালাত। শিব-ভক্তরা ব্রত পালনের জন্য রাত জাগতেন হলে বসে। গ্রামাঞ্চলে ‘ভিডিও-শো’-এ পর পর চারটে সিনেমা চার প্রহরে। এখনও চলে কোথাও কোথাও।  

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে