আপডেট : ৭ মার্চ, ২০১৬ ১৬:৩২

সুখের আশায় পরকীয়া! অবশেষে স্বামী সন্তান সবই হারালেন

বিডিটাইমস ডেস্ক
সুখের আশায় পরকীয়া! অবশেষে স্বামী সন্তান সবই হারালেন

স্বামী বিদেশ থাকায় আতিক (ছদ্মনাম) এর পরকীয়ার ফাঁদে পড়ে সায়মা ইসলাম তন্দ্রা (ছদ্মনাম) নামে এক তরুণী। নিজের সব কিছু বিলিয়ে দিয়েছিল তন্দ্রা। এই সুযোগে সবকিছু ভোগ করাসহ অর্থ সম্পদ লুটিয়ে নিয়ে আতিক চলে গেছে তাকে ছেড়ে।

তন্দ্রা সরকারি চাকরি করেন। স্কুল পড়ুয়া একমাত্র সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর ইন্দ্রিরা রোডে থাকতেন তিনি। তার স্বামী থাকতেন মধ্যপ্রাচ্যে। স্বামীর এই দূরত্বটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তন্দ্রার জীবনে। কারণ এই সুযোগে তার জীবনে জড়িয়ে যায় আতিক। দীর্ঘদিন চুটিয়ে প্রেম করেছেন দুজনেই। এই আতিকের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েই জীবনের সর্বনাশ ঘটিয়েছেন এই নারী। এখন তার স্বামী নেই, আতিকও নেই। এখন একলা চলছেন তিনি।

শুরুটা ছিলো স্মরণীয়। সময়টা ২০০৭ সাল। দ্বিতীয় শ্রেণীতে পুড়ুয়া মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন তিনি। আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই দেখা হতো এক যুবকের সঙ্গে। সুঠামদেহী এই যুবক অপলক তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। কিছু একটা বোঝাতে চেষ্টা করতেন তন্দ্রাকে। সুযোগ পেলেই এই যুবক যে তার সঙ্গে কথা বলবে এতে কোন সন্দেহ নেই। ত্রিশোর্ধ তন্দ্রা তা বেশ উপভোগ করতেন। কিন্তু এসবে জড়ানোর কোন ইচ্ছে ছিলো না তখন। যুবকের আচরণে কলেজ জীবনের প্রথম বর্ষের দিনগুলো মনে পড়তো খুব। কিন্তু এখন সেই সময়, অবস্থান নেই। তন্দ্রার স্বামী আছে। সন্তান আছে। তিনি জড়াতে চান না কিছুতেই। যদিও যুবককের সঙ্গে কখনও কখনও দেখা না হলে কিছু খারাপ লাগে- তা অনুভব করেন। তবু তাকে পাত্তা দিতে রাজি না তিনি।


কিন্তু যুবক নাছোড়বান্দা। একদিন একদম কাছাকাছি দুজন। সেদিন বাসে চড়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গুলশানে যাচ্ছিলেন তিনি। বাসে প্রচন্ড ভীড়। এরমধ্যেই তাকে উঠতে হয়। নারী সীটগুলো যাত্রীতে পূর্ণ দাঁড়িয়ে থাকেন। পাশে একটি সীট ছেড়ে যাত্রী নামেন। তাড়াহুড়া করে বসতেই দেখেন পাশের জন সেই যুবক। যুবকও চমকে উঠেন। তিনিও ভাবতে পারেননি এভাবে এই নারীর কাছাকাছি বসার সৌভাগ্য হবে তার। পথচলতে বারবার দেখার সুবাধে যুবকই জিজ্ঞাসা করেন, কেমন আছেন? তারপর পুরো পরিচয়, পরিবারে কে কে থাকেন.. কিছুই বাদ যায়নি তাদের আলাপচারিতায়। এই যুবকের নাম আতিক। কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মতিঝিলে। মহাখালীতে যানজটে আটকে যায় বাস। আতিক মুচকি হাসেন। ভালোই হলো, আপনার সঙ্গে আরও কিছু সময় কাটানো যাবে। নিজের অজান্তেই মিষ্টি হাসির আভা ছড়িয়ে যায় তন্দ্রার ঠোঁট থেকে। আতিক তাতেই আপ্লুত। তন্দ্রার ছোট্ট মেয়েটির গাল টেনে আদর করে দেন আতিক। গুলশান-১ নেমে যান তন্দ্রা। আতিক জানালা দিয়ে হাত নেড়ে বিদায় জানান। জবাবে তন্দ্রা মিষ্টি হাসি দেন।

এর দিন পরে মেয়েকে স্কুলে দিতে গেলে দেখা হয় আতিকের সঙ্গে। সেদিন পাশের কফি হাউসে বসেন দুজন। কফি পান করেন। ওই দিনই ফোন নম্বর চেয়ে নেন আতিক। তারপর থেকেই তন্দ্রার প্রতি দায়িত্বশীল আতিক। প্রতিদিনই ফোনে খোঁজ-খবর নেন। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে। প্রথমে অল্প সময়। পরে আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় কথা হয় তাদের। হাসি-তামাশা হয়। এরমধ্যেই প্রবাসী স্বামী কল দিয়ে ফোন ব্যস্ত পান দীর্ঘ সময়। পরে মিথ্যা কথা বলে রক্ষা পান তন্দ্রা। বিষয়টি আতিকের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। পরবর্তীতে নতুন সংযোগসহ তন্দ্রাকে একটি মোবাইলফোন উপহার দেন আতিক। ওই ফোনেই কথা হয় দুজনের। এই ফোনটি শুধুই আতিকের জন্য। আগের মোবাইলফোনে স্বামীসহ অন্যান্যরা কথা বলেন। আতিকের সঙ্গে কথা হয় গভীর রাত পর্যন্ত। বিশেষ করে বন্ধের দিনের আগের পুরো রাতই কথা বলে পার করে দেন তারা।

মোটরসাইকেলে করে তন্দ্রাকে অফিসে পৌঁছে দেন। আবার বাসায় নিয়ে যান। বন্ধের দিন ছোট্ট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তারা বেড়াতে যান বিভিন্নস্থানে। এভাবে আর ভালো লাগে না। কাছে পেতে ইচ্ছে করে দুজনকে দুজনেরই। অবিবাহিত আতিক জানান, তন্দ্রার স্বামী-সন্তান না থাকলে তাকে বিয়ে করতেন তিনি। এভাবে থাকা খুব কষ্টকর। তারপর থেকে মাঝে মাঝে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় সময় কাটাতেন আতিক ও তন্দ্রা। বিশেষ করে তন্দ্রার মেয়েটি যখন স্কুল থাকতো। ওই সময়টাই বেছে নিতেন তারা। এভাবে চলতে থাকে কয়েক মাস। পরে কখনও কখনও রাতেও একসঙ্গে থাকতেন তারা। বিষয়টি বাড়ির প্রহরীর দৃষ্টি এড়াতে পারেনি। এক বিকালে তন্দ্রার কাছে জানতে চান, ম্যাডাম ওই লোকটি প্রায়ই বাসায় আসেন। তিনি কি হোন আপনার?

তন্দ্রার গলা শুকিয়ে যায়। অবশ্য সময় নেননি। ছটফট বলে দেন- আমার খালাতো ভাই। ঢাকাতেই থাকেন। আমার স্বামী এলে এ বাসাতেই থাকবেন তিনি। তারপর গতি বেড়ে যায় আতিক-তন্দ্রার প্রেমের। এরমধ্যে কক্সবাজারে দুই দিন ছিলেন তারা। অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে ভ্রমণে যাচ্ছেন অজুহাতে সন্তানকে বোনের বাসায় রেখে যান। সম্পর্কের বিষয়টি বেশি দিন গোপন কথা গোপন রাখতে পারেননি তিনি। ২০১০ সালে আসে বড় ঝড়টি। স্বামী তখন দেশে। স্বামীকে নিয়ে ব্যস্ত তন্দ্রা। আতিককে সময় দেওয়ার মতো সুযোগ কম। মাঝে-মাঝে অফিসের পাশে দেখা হয় তাদের। তা অল্প সময়ের জন্য। এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেন না আতিক।

এরমধ্যেই গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন তন্দ্রার স্বামী। আতিককে ফোনে খবরটি জানান তন্দ্রা। দ্রুত তন্দ্রার বাসায় ছুটে যান আতিক। এর কিছু সময়ের মধ্যেই হঠাৎ ডাকা বাস ধর্মঘটের কারণে বাসায় ফিরে কলিং বেল চাপেন তন্দ্রার স্বামী। কিন্তু দরজা খোলা হয় না। আবার বেল চাপেন। এভাবে কয়েক মিনিট। তারপর দরজা খোলে দেন তন্দ্রা। ড্রয়িংরুমে মেহমানের মতো বসে আছেন আতিক। চোখ বড় বড় হয়ে যায় তন্দ্রার স্বামীর। জানতে চান কে? সহকর্মী বলে পরিচয় দেন তিনি। তারপর ভেতরের কক্ষে গিয়ে এলোমেলো বিছানাটা চোখে পড়ে তার। বাসা থেকে বের হওয়ার আগেও যা গোছানো ছিলো। তারপর স্বামীর মুখে কোন রাঁ নেই।

এরমধ্যেই তন্দ্রার স্বামী খোঁজ নিতে শুরু করেন। পরদিন কথা বলেন বাড়ির প্রহরীর সঙ্গে। ওই রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রচন্ড বাকবিতন্ডা হয়। বাসা থেকে বের হয়ে ভাইয়ের বাসায় চয়ে যান। এর কিছুদিনের মধ্যেই তন্দ্রাকে ডিভোর্স দেন তার স্বামী। ডিভোর্স লেটার হাতে পেয়ে আতিকের সঙ্গে দেখা করে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন তন্দ্রা। আতিক আমতা আমতা করেন। মাথা ঠান্ডা রাখতে বলেন। তারপর থেকেই আতিকের ফোন বন্ধ। যে বাসায় থাকতেন আতিক সেই বাসাতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। বাসার মালিক জানিয়েছেন কয়েক দিন আগেই বাসা ছেড়েছেন তিনি। আতিকের বাড়ি বরিশালের পটুয়াখালীতে। এরচেয়ে বেশি জানা নেই তন্দ্রার। আতিকের কর্মস্থল মতিঝিলে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নাম কখনও জানতে চাননি তিনি।

এখন একমাত্র কন্যাকে নিয়ে ধানমন্ডির শঙ্করে বাস করেন এই নারী। তার প্রাক্তন স্বামী নতুন বিয়ে করেছেন। মেয়ের জন্য নির্দিষ্ট টাকা পাঠান তিনি। অন্যদিকে এখন আর আতিককে খুঁজেন না তন্দ্রা। শুধু চোখের জলে সিক্ত হন নিজের ভুলের কথা স্মরণ করে। স্বপ্ন দেখেন মেয়েকে নিয়ে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে