আপডেট : ৫ মার্চ, ২০১৬ ১৪:০৮

যে গ্রামের সবাই বামন

বিডিটাইমস ডেস্ক
যে গ্রামের সবাই বামন

অবিশ্বাস্য হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ভুটান সীমান্ত ঘেঁষা উদালওড়িতে রয়েছে ‘বামনদের গ্রাম’। এ গ্রামের সবাই বামন। টংলা বাজা থেকে এক কিলোমিটার দূরে এ গ্রামটির বসত ঘরগুলো চাটাই ঘেরা। মানুষগুলোর মুখে বিষন্নতা ও হতাশার গ্লানি।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের পর দিন ‘উখো’ (লম্বা) মানুষদের তাচ্ছিল্য, ব্যঙ্গবিদ্রুপের সঙ্গে লড়াই করতে করতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে অবশেষে তারা এ গ্রাম তৈরি করেছেন। গ্রামের মানুষগুলোর উচ্চতা ৩ ফুটের বেশি নয়। অবশ্য এ গ্রামের স্বপ্নদ্রষ্টা নাটকপাগল পবিত্র রাভা কিন্তু বামন নন, আর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই তার উচ্চতা।

২০০৩ সালে দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে পড়া শেষ করে টংলায় নিজের প্রত্যন্ত গ্রামে ফেরা পবিত্র বামনদের প্রতি সমাজের অবহেলা দেখে মর্মাহত হয়েছিলেন। তাই বামনদের নিয়ে গড়ে তোলেন নাটকের দল দাপোন-এ (দর্পণ)। ২০০৮ সালে তাদের নিয়ে করলেন নাটকের কর্মশালা। পরে ২৩ জন বামন ও বিশালবপু সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মঞ্চস্থ করলেন নাটক ‘কিনো কঁও’।

গুয়াহাটি, কোকরাঝাড়, ডিব্রুগড় হয়ে সে নাটক পাড়ি দেয় দিল্লি। ‘স্বাভাবিক’ দর্শককুলের চেতনায় চাবুক মেরে যায় পবিত্র’র বামন বাহিনী। ‘দিল্লি জয়’ করে ফেরার পর শুরু হয় তাদের নিয়ে নতুন স্বপ্ন। এ স্বপ্ন হচ্ছে বাওনাদের (বামন)  নিজস্ব একটি বসতের ঠিকানা। সেই থেকেই শুরু।

ওই গ্রামের বাসিন্দা অক্ষয়কুমার দাস জানালেন, ‘শিরদাঁড়াটা শক্ত হয়েছে খানিকটা। এমন এক পৃথিবী গড়তে চলেছি, যেখানে কেবল উচ্চতার জন্য আপনাদের মতো মানুষদের কাছে খেলার জিনিস হয়ে থাকতে হবে না।’

১৮ বছর ধরে মুনলাইট সার্কাসে জোকারের চাকরি করা জেমস দইমারি বলেন, ‘আমরা ‘বাওনা’বা কাজ কিছু কম পারি না। হতে পারে, আমাদের দুঃখ-কষ্ট বাইরের সমাজ বোঝেনি। তবে, আমরা বুঝি শরীর কখন কী চায়।’

অক্ষয় ও জেমস, দুজনই বিবাহিত। তবে স্ত্রীরা তাদের মতো বামন নয়, লম্বা। একাধিক সন্তানও রয়েছে তাদের। তাদের খোঁজ-খবরে নিয়মিত যান নিজ গ্রামে। তবে, বামনদের যৌথ পরিবার, হাতে হাতে নিজেদের নতুন গ্রামকে গড়ে তোলার স্বপ্নে মশগুল তারা। গ্রাম গড়া শেষ হলেই সপরিবারে চলে আসবেন এখানে।

বামনদের গ্রাম সম্পর্কে পবিত্র বলেন, ‘চার বিঘা এলাকায় পুকুর, অসমিয়া ও বড়ো মাধ্যমের স্কুল, পনেরোটির মতো থাকার ঘর, একটি নামঘর (উপাসনালয়), পাঠাগার, কর্মশালা, বৃত্তিমূলক শিক্ষার ঘর ও প্রেক্ষাগৃহ গড়া হবে। এক প্রান্তে, উন্মুক্ত মঞ্চও গড়ব ভাবছি। থাকবে প্রবীণ মানুষদের বসতি, ফুটবল ও বাস্কেটবল কোর্ট।’

তিনি বলেন, ‘দলে বর্তমানে ২৩ জন বামন থাকলেও আশপাশের সব এলাকা মিলিয়ে ৭০ জন বামন রয়েছেন। সবাইকেই এই গ্রামে নিয়ে আসতে চাই।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

 

উপরে