আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:৩১

৭ মানসিকতায় জীবনে আসবে নাটকীয় পরিবর্তন!

বিডিটাইমস ডেস্ক
৭ মানসিকতায় জীবনে আসবে নাটকীয় পরিবর্তন!

মানুষ নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে তার জীবন পাড়ি দেয়। কর্মের মধ্য দিয়েই আসে সে জীবনের পরিপূর্ণতা।

এমন উত্থান পতনে যারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন কিংবা প্রত্যাশা করছেন জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন আনা দরকার; তাদের মানসিকতায় ৭টি পরিবর্তন খুব জরুরী।

সম্প্রতি ব্রিটিশ দৈনিক হাপিংট পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে ওই ৭টি দিকের কথা উল্লেখ করে। পরিবর্তন প্রত্যাশীরা, চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন এই সাতটি বিষয়ে-

১. হিংসাকে কৌতুহলে রূপান্তরিত করুন:

আমরা সবাই কিছুনা কিছু ক্ষেত্রে ঈর্শান্বিত হই। কিন্তু হিংসুটে মনও আপনাকে এগিয়ে দিতে পারে যদি এই অনুভূতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে তা হলো- এই হিংসুটে শক্তিটাকে কৌতুহলে পরিনত করা। এমনটি করলে অন্যের ভালো কাজগুলোকে আপনি মূল্যয়ন করতে শিখবেন এবং ভালো কাজ করার তাগিদ আপনিও অনুভব করবেন।

হিংসুটে মন আপনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখে। এই সীমা থেকে বের হয়ে আসুন। জীবনে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। ঈর্শান্বিত না হয়ে বরং দেখুন কিভাবে অন্যরা তারে কাজ দিয়ে সব কিছুই পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম। অনুপ্রেরনা নিন।

২. শিক্ষাকে বাধ্যবাধকতায় রূপান্তরীত করুন:

কোন কিছু থেকে শিক্ষা না নিলে আপনার জীবন বিফলতায় পর্যবশিত হবে। জীবনে উন্নতি করতে হলে তাই শিক্ষার বিকল্প নাই। আপনি যে পেশায় আছেন তা থেকে এবং অন্যান্য বিষয় থেকে নতুন নতুন তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ার চেষ্টা করুন।

যে কোন বিষয়ে তথ্যভান্ডার এখন আগেরচেয়ে অনেক বেশি উন্মোচিত। খেলার মাঠ সবার জন্যই সমান। আপনি তথ্যে সমৃদ্ধ হয়ে উঠুন।

বিলিওনিয়ার ব্যাবসায়ী হয়েও ইলন মাস্ক রকেট সাইন্স বিষয়ে প্রভূত জ্ঞান লাভ করেছিলেন; এ সংক্রান্ত বই পড়ে। এমনকি এই ক্ষেত্রটিতে বিশেষজ্ঞও নিয়োগ করেছিলেন আরও পূঙ্খানুপুঙ্ক জানতে।

এটা একটা উদাহরণ মাত্র। তথ্যের ভান্ডার উন্মুক্ত। আপনি ইচ্ছেমাফিক বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানী হয়ে উঠুন।

৩. ‘আমি আছি’ নয়; হোক ‘আমি এক্ষেত্রে আছি’:

কর্মেই হোক আপনার পরিচয়। নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবনা ভাবুন এবং ইতিবাচক মন্তব্য করুন।

উদাহরণস্বরূপ, ‘আমি অলস’- এর পরিবর্তে বলুন, আমি আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছি।

‘আমি নি:স্ব’- এর পরিবর্তে বলুন, আমি আমার আর্থিক অবস্থাকে পরিবর্তন করতে শিখছি এবং আরও বেশি দক্ষ হতে চেষ্টা করছি যেন আরও বেশি আয় করতে পারি।

‘আমি বাকরুদ্ধ’- এর পরিবর্তে বলুন, আমি শিক্ষা প্রকৃয়ায় আছি যেন আরও জ্ঞানী হতে পারি।

মানসিকতায় এ ধরণের ছোট ছোট পরিবর্তন জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন নিয় আসবে।

৪. সাফল্য আপনাকে অনুসরণ করুক:

ভিক্টর ই ফ্রাঙ্কিল বলেন, ‘সাফল্যকে আপনার গন্তব্য ভাববেন না। যদি এটাতে আপনি লক্ষ স্থির করেন তবে লক্ষ মিস হয়ে যেতে পারে।’

কাজ করে যান আপনার সেরাটা দিয়ে। কাজের মধ্য দিয়েই আপনার সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে বিকশিত করুন। সাফল্য আপনাকে অনুসরণ করবেই।

উদাহরণ স্বরূপ- অনেক মানুষ কিনবে এমন চিন্তা ঝেড়ে ফেলে বরং একটি মানসম্মত পন্য তৈরীর চেষ্টা করুন।

অনেক মানুষ পড়বে এমন লেখার চেয়ে বরং একটি ভালো লেখা লিখতে চেষ্টা করুন।

মূল্যহীন পরিচয় খোঁজারচেয়ে বরং নিজের শিক্ষার দিকে মনোযোগ দিন।

যখন আপনি আপনার সেরা কাজে মনোযোগী থাকবেন তখন সাফল্য কিংবা মানুষ যাই বলেন না কেন সবই আপনাকে অনুসরণ করবে।

৫. পরিচয়-এর চেয়ে অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিন:

আমাদের অনেকেই মধ্যেই রয়েছে ঠকবাজের লক্ষণ! আপনার এমনটা ভাবা উচিৎ হবেনা যে, আপনি যোগ্যতাসম্পন্ন। কিংবা আপনার পরিচয় দিয়েই পথ চলবেন।

বিশেষজ্ঞরা জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তৈরী হয়, কাগজের টুকরো থেকে নয়।

যেভাবে আপনি প্রয়োজনীয় জ্ঞানের উন্নতি সাধন করবেন, মানুষজন সেভাবেই আপনাকে মূল্যয়ন করবে।

৬. সময় নষ্ঠ করবেন না:

সময়ের মূল্য দিতে শিখুন। কোন ভুল পথে পা বাড়িয়ে অর্থাৎ অহেতুক ভ্রমণে সময় নষ্ট করবেন না। যখন আপনি প্রত্যেকটা মহুর্তকে মূল্য দিতে শিখবেন তখনই বুঝবেন সময় নষ্ট করা কখনোই উচিৎ নয়।

যে কোন ক্ষেত্রে যখন আপনি খুব সচেতন থাকবেন, তখন সময় থেকে আপনি দারুণ কিছু পাবেন।

৭. শেষ পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত রাখুন:

অনেক মানুষই কোন কাজের মাঝখানে এসে হাল ছেড়ে দেয়। হাল ছেড়ে দিলে আপনি হোঁচট খাবেনই। তাই, সঠিক পথে- যে কোন কাছে শেষ পর্যন্ত লেগে থাকুন।

এজন্য প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা। মনকে সেভাবেই তৈরী করুন।

শ্রম, মেধা আর সময়ের মূল্য দিয়ে মানুষ পারে সবকিছুর মোড় ঘুরিয়ে দিতে। আর এসব কিছুরই যখন সম্মিলন ঘটবে আপনার মাঝে, আপনি তখন সফল হবেনই। নাটকীয় পরিবর্তন আসবে আপনার জীবনে।

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে