আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৯:১১

তিনটি ঐতিহাসিক সত্য; জানেনি কেউ!

উম্মে জান্নাত
তিনটি ঐতিহাসিক সত্য; জানেনি কেউ!

প্রতিটি মানুষের জীবনেই থাকে বেশকিছু কথা যেগুলোকে সবসময় লুকিয়ে রাখতেই ভালোবাসে সে। আর মানুষের এই গোপন করা কথাগুলোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে নানা রকম দূর্গম সব রহস্য! কোনোটা একেবারেই পারিবারিক, থেকে যায় অন্দরমহল অব্দিই। কিন্তু এমন কিছু গোপন কথা আর ঘটনা লুকিয়ে আছে ইতিহাসের পাতায়, যেগুলো ঘটিয়েছে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। বলাই বাহুল্য সে কারণেই তারা জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।

আসুন জেনে নিই ইতিহাসের এমনই কিছু গোপন সত্যের কথা, যা জানে নি কেউ!

১. টাইটানিকের গোপন কথা

টাইটানিকের কথা আমরা সবাই জানি। টাইটানিক ডুবে গিয়েছিল বরফের সাথে ধাক্কা লেগে। তবে প্রায় ১,৫০০ মানুষ সেই দূর্ঘটনায় মারা গেলেও কিছু মানুষ বেঁচে গিয়েছিলেন। আর তাদের ভেতরে অন্যতম একজন ছিলেন জাহাজটির বেঁচে যাওয়া একমাত্র কর্মকর্তা সেকেন্ড অফিসার চার্লস লাইটোলার। এই সত্যিটা কেবল তিনিই জানতেন আর কেবল তার স্ত্রীকেই জানিয়েছিলেন। আর তার স্ত্রীও সেটিকে সযত্নে গোপন করে গিয়েছিলেন আজীবন। তবে মৃত্যুর আগে পরিবারের এই গোপন সত্যিটা জানান তিনি নাতনী লুইস প্যাটেনকে। নিজের বইয়ে সত্যিটা প্রকাশ করেন প্যাটেন।

আর সত্যিটা ছিল এই যে- টাইটানিক বরফের সাথে ধাক্কা লাগতোই না। তখন নতুন জাহাজ চালানোর নতুন রকমের নিয়ম তৈরি হয়েছিল। আর সেই নিয়মের হেরফেরেই বরফে ধাক্কা লেগে যায়। জাহাজের ফার্স্ট অফিসার উইলিয়াম মরডক বরফ দেখার সাথে সাথেই হিচিনসকে বলে জাহাজের মুখ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন। কিন্তু চালক হিচিনস ভুল করে বরফের দিকেই ঘুরিয়ে ফেলেন জাহাজটিকে। ধাক্কা খায় টাইটানিক বরফের সাথে। এরপরেও হয়তো টিকে যেত জাহাজটি, সাহায্যের আশায় জাহাজ থামিয়ে রাখতে চেয়েছিল সবাই। কিন্তু নিজের কোম্পানির নাম খারাপ হবার ভয়ে টাইটানিকের মালিক ইসমে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন জাহাজটিকে। এরপর আর বেশিক্ষণ চলতে পারেনি টাইটানিক। একে ফাটল, তার ওপর একই গতিতে ধেয়ে যাওয়া খুব দ্রুতই এর ভেতরে পানি ঢুকে যেতে সাহায্য করে। নিজে বেঁচে ফিরলেও কোম্পানির বদনাম হওয়ার ভয়ে কখনোই মুখ খোলেনি চার্লস!

২. জন ডেমজানজুকের পরিচয়

১৯৮৬ সালে ইসরায়েলিরা তেরেব্লিনকা ক্যাম্পের একজন প্রহরী ‘আইভান দ্যা টেরিবল’ হিসেবে চিহ্নিত করে জনকে। কিন্তু কিছু বছর পর হঠাৎ করেই সত্যিকারের আইভান দ্যা টেরিবল ধরা পড়ে এবং মুক্তি পায় জন। তবে এতেও শান্তি মেলেনি তার। ২০০৯ সালে জার্মানিতে ঢোকার পরপরই নাজিদের হাতে ধরা পড়ার পর এসএস-এর জন্যে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত হন তিনি। নানারকম বিভত্স ঘটনার সাক্ষী ও প্রহরী ছিলেন তিনি। ২৮,০০০ ইহুদীকে হত্যা করার সাথে তার সংযোগ ছিল বলে ধারনা করেন অনেকের। সেই শুরু আবার। যদিও জনের ভাষায় ক্রিমিয়া যুদ্ধের একজন কয়েদী ছিলেন তিনি। জার্মানির সাথে এক হয়ে এরপর ভ্লাসভ আর্মিতে যোগদান করে সোভিয়েতের বিরুদ্ধে লড়েছে সে। তবে কেউই সেসব বিশ্বাস করেনি। এরপর কেটে গিয়েছে অনেকগুলো বছর। একসময় ৯১ বছর বয়সে এসে মারাও গিয়েছেন জন ডেমজানজুক। তার ছেলেও বারবার জানাবার চেষ্টা করেছেন নিরপরাধ হওয়ার কথা। কিন্তু সেসবের সত্যি মিথ্যে ছাপিয়ে এখনো যে প্রশ্নটা সবার মনে জেগে আছে সেটি হচ্ছে- আসলেই কে ছিলেন এই জন ডেনজামজুক?

৩. ডেরেক পার্সির রহস্য

ছোটবেলা থেকেই অদ্ভুত এক রোগ বাসা বাঁধে ডেরেক আর্নেষ্ট পার্সির মাথায়। স্যাডিস্ট পার্সি পৈশাচিক আনন্দ পেত বাচ্চাদেরকে আঘাত করতে ও মেরে ফেলতে। এমনটা দেখা যেত যে, ঠিক যেখানটায় পার্সি থাকতো তার আশেপাশেই কোন না কোন ছোট বাচ্চা হারিয়ে যেত বা মারা যেত। ২০ বছর বয়সে পার্সি তার এই হত্যার কথা স্বীকার করে। তবে সেটা হাতে নাতে ধরা পড়ার পরেই। তবে মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়নি তাকে। অনেকটা বছর জেলে কাটানোর পরেও কখনো মৃতদের নিয়ে মুখ খোলেনি পার্সি। তবে ধারনা করা হয় আরো আটজন শিশুকে এমনভাবে হত্যা করেছিল সে। পরবর্তীতে ৬৪ বছর বয়সে ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়লে মৃতদের বাবা-মা পার্সিকে তাদের সন্তানের খোঁজ দিতে বলে। হোক না সেটা লাশ! তবে কিছুই বলেনি পার্সি। নিজের ভেতরের গোপন কথাগুলোকে নিয়েই শেষবারের মতন শ্বাস নেয় সে।

তথ্যসূত্র: লিজভার্স

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে