আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২২:০২

ভুল মিলনে অবিশ্বাস্য ১০টি সংকর প্রাণী!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ভুল মিলনে অবিশ্বাস্য ১০টি সংকর প্রাণী!

রাশান লেখক আলেক্সান্দার বেলায়েভ তার ‘উভচর মানুষ’ বইয়ে সালভাদর নামে এক ডাক্তারের কথা বলেছেন, যে একটু পাগলাটে ধরণের। বিশাল উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা তার বাড়ি। আর এর ভেতরই তিনি প্রতিনিয়ত পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান পশু পাখিদের নিয়ে। এক পশুর মাথা জুড়ে দেন আরেক পশুর মাথায়। দেখা গেল, আপনার সামনে একটি মোরগ এসে হাজির কিন্তু তার মাথাটা হাঁসের। কিংবা কোন ছাগল এসে চিৎকার শুরু করে দেবে কুকুরের মতো। পাগল বিজ্ঞানীটি একটি মানুষের শরীরেও জুড়ে দিয়েছিলেন হাঙরের কানকো। যে জলে স্থলে বিচরন করতে পারে। পুত্রসম ওই মানুষটিকে তিনি ইকথিয়ান্ডর নামে ডাকতেন। সে-ই ওই উপন্যাসটির নায়ক!

এসব তো গেল উপন্যাসের কথা। সত্যিকারেও যে এমন প্রাণী থাকতে পারে তা কি আপনার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে? যদি মনে না হয়, তবে চিনে নিন এমন ১০টি অদ্ভুৎ দর্শন প্রাণীকে-

১. পুমাপার্ড:

একটি মহিলা লিওপার্ড ইচ্ছা করলে এমন একটি পুমাপার্ডের জন্ম দিতে পারে। এর জন্য তাকে অবশ্য পুরুষ পুমার সঙ্গে সঙ্গম করতে হবে। আনুমানিক ১৮’শ শতকের দিকে এমন একটি পুমাপর্ডের জন্ম হয়েছিলো যখন একটি পুমা ও একটি লিওপার্ডকে একই খাঁচায় মূর্খের মতো থাকতে দেয়া হয়েছিলো।

২. জঙ্কি:

এই জঙ্কিটি একটি পুরুষ জেব্রা এবং একটি মাদি গাঁধার মিলনে জন্ম নিয়েছিলো। এ ধরণের প্রাণীকে দিয়ে অনেক ভারি বস্তু বহন করানো সম্ভব। যদিও জঙ্কির স্বাভাবিক প্রজনন সম্ভব নয়। এদের জন্ম মানুষের ইচ্ছের ওপর নির্ভরশীল।

৩. জাগলিয়ন:

২০০৬ সালের ৯ এপ্রিল দুটি জাগলিয়ন শাবকের জন্ম হয়, যার মেয়েটির নাম জারা এবং ছেলেটির নাম সুনামি। বিয়ার ক্রিক অভয়ারন্যে একটি পুরুষ জাগুয়ার এবং একটি সিংহীর মিলনে এদের জন্ম হয়েছিলো। সারা পৃথিবীতে সম্ভবত জারা আর সুনামিই কেবল জাগলিয়নের উদাহরণ। তারা কেবল সুন্দরই নয় বরং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং কর্মঠ।

৪. টিগলন

১৯৩০ সালে লন্ডনের জিওলজিক্যাল গার্ডেনে একটি আশ্চর্য রকম মিলন হয়েছিলো। কারণ এমনটি ঘটিয়েছিলো একটি পুরুষ বাঘ এবং একটি সিংহী। আর তাদের ওই মিলনেই জন্ম নিয়েছিলো টিগলন। টিগলন, বাঘ এবং সিংহের চেয়ে আয়তনে ছোট হয় এটি একটি ভুল ধারণা।

৫. লিগার

একটি সিংহ এবং একটি বাঘিনীর সমন্ময়েই মূলত একটি লিগারের জন্ম হয়। লিগার’রা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিড়াল। এমনকি তারা তাদের বাবা-মা’র চেয়েও বড় হয়ে থাকে। এর মধ্যে থাকে সিংহের শক্তি এবং বাঘের ক্ষিপ্রতা।

৬. ওলফিন

এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত; যার জন্ম একটি মাদি ডলফিন এবং একটি পুরুষ তিমির সংমিশ্রণে। ১৯৮৫ সালে ওয়াহু দ্বীপের সামুদ্রীক পার্কে ৬ ফুট লম্বা ডলফিন একটি ১৪ ফিট লম্বা তিমির সঙ্গে মিলিত হয়েছিলো। আর এতেই পৃথিবীর আরো দেখলো ওলফিন।

৭. বিফেলো

১৯৭০ সালের শুরুর দিকে আমেরিকার ক্যালিফোরনিয়ায় একটি আমেরিকান বাইসন এবং একটি গাভীর সংমিশ্রণে বিফেলোর জন্ম হয়েছিলো। বিফেলোটি দেখতে বিরাট দর্শন এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলো। শুধু তাই নয়, এটি দারুণ প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম।

৮.সাভান্না ক্যাট:

সাভান্নাহ্ বিড়াল আসলে আফ্রিকান বনবিড়াল এবং গৃহপালিত বিড়ালের সংমিশ্রণে তৈরী। সাভান্নাহ’দের সাধারনত লম্বা লেজ থাকে, থাকে সরু শরীর এবং বড় কান। এটি সাধারন বিড়ালের চেয়ে দ্বিগুন জোড়ে দৌড়াতে পারে।

৯. ক্যামা:

প্রথম ক্যামাটির জন্ম হয়েছিলো দুবাইয়ে ১৯৯৮ সালের ১৪ জানুয়ারীতে। মূলত একটি পুরুষ উট ও একটি মহিলা দুম্বার সমন্বয়ে। একটি দুম্বা’র চেয়েও বেশি পরিমানে উল তৈরী করতে সক্ষম এবং শক্তি ও শরীরে উটের মতো প্রাণী তৈরীর ইচ্ছা থেকেই জন্ম হয়েছিলো ক্যামা’র।

১০. লিওপন

পুরুষ লিওপার্ড ও সিংহীর সংমিশ্রণে লিওপনের জন্ম। এই প্রাণীর মাথাটি দেখতে সিংহের মতো যদিও সারা শরীরটুকুতে লিওপার্ডের চিহ্ন বয়ে চলেছে। প্রথম লিওপন পাওয়া গিয়েছিলো ভারতে। তারপর ইতালিতে; যদিও সেখানে একটি পুরুষ সিংহের সঙ্গে একটি মাদি লিওপার্ডের সঙ্গম হয়েছিলো।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে