আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৯:২৯
প্রেম-বিরহ-বিচ্ছেদ

প্রেমের টানে আমেরিকার যুবক ঢাকায়, ততদিনে বিরহে আত্মহত্যা প্রেমিকার

বিডিটাইমস ডেস্ক
প্রেমের টানে আমেরিকার যুবক ঢাকায়, ততদিনে বিরহে আত্মহত্যা প্রেমিকার

প্রেম। দুটি অক্ষরের একটি শব্দ যুগে যুগে সৃষ্টি করেছে কত ইতিহাস তার কোন ইয়াত্তা নেই। এই একটি শব্দকে কেন্দ্র করে কত মানুষ প্রাণ ফিরে পেয়েছে নতুন করে আবার এই প্রেমের বলি হয়ে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছে অকাতরে তারও কোন পরিসংখ্যান নেই।

সৃষ্টির আদি যুগ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত কত জুটিই এই প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।হয়েছেন ইতিহাসও। শিরি-ফরহাদ, দেবদাস-পার্বতী, চণ্ডিদাস-রজকীনি একেকটি প্রেম যেন ভঙ্গুর এই সমাজকে দেখিয়ে দিয়েছে প্রেম সেতো অমর। এখানে নেই কোন জাত-ধর্ম, আছে শুধু পবিত্রতা।

এমনি প্রেমের আরেক সাক্ষী হয়ে রইলেন বাংলাদেশী মেয়ে আনিকা ও আমেরিকান ছেলে ডেভিড ম্যান্টন।

আমেরিকার পড়তে যাওয়ার সূত্রে ২০১৩ সালে পরিচয় হয় ক্যালিফোর্নিয়ার ছেলে ডেভিড ম্যান্টনের সঙ্গে। প্রায়শই সাক্ষাতে মনের পারদ গলতে গলতে কখন যে দুটি হৃদয় এক হয়ে গিয়েছিল সেটা টেরই পায়নি একজনও। নিষ্পাপ মনের নিখাদ ভালবাসা তাদেরকে আষ্টে-পৃষ্টে এমনভাবে জড়িয়েছিল যে তারা যে দুই ধর্মের মানুষ এ কথা ভুলেই গিয়েছিলেন।ভুলে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যকার বয়সের পার্থক্যও।

কিন্তু নিষ্ঠুর আমাদের সমাজ ব্যবস্থা।পবিত্র প্রেমের এক সুন্দর পরিণতির আশা করেছিলেন আনিকা।বাবা-মা’র সম্মতিতেই চেয়েছিলেন এই পরিণতি।২০১৫ সালে সরল মনে অনুমতির আশায় ফিরে এসেছিলেন দেশে।

কিন্তু ধর্মের কারণে আনিকার পরিবার মেনে নেই নি এই সম্পর্ককে।আটকে রেখেছিল চার দেয়ালের মাঝে। 

সুদূর আমেরিকায় তার ভালবাসার মানুষকে ফোন করে বলেছিল, ‘তুমি জলদি করে এখানে (বাংলাদেশে)না আসলে আমি মরে যাবো’।

প্রেমিকার ডাকে সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে প্রেমিক ডেভিড ম্যান্টন এসেছিলেন বাংলাদেশে। কিন্তু কত নিষ্ঠুর আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। তাকে একটি বারের জন্যও দেখা করতে দেয়া হয়নি আনিকার সঙ্গে।

ডেভিড ম্যান্টন বলেছেন, আমি আরো আগে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আনিকার পরিবার আনিকাকে দ্রুত আমেরিকায় ফেরত পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিল কিন্তু তারা তা করেননি।

ঢাকায় আসার দু-মাসেরও বেশি হলেও একটি বারের জন্যও ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি ডেভিড।

হঠাৎ একদিন আনিকার দুলাভাই জানায়, আনিকা আর নেই। সে আত্মহত্যা করেছে।

তিনি বলেন, বয়সের ভিন্নতা, সংষ্কৃতির কারণে পরিণতি সুখকর হয়নি। যদি সে থাকতো তাহলে সে আমার দর্পণে পরিণত হত। আমাদের মাঝে থাকতো স্বচ্ছ কাছের দেয়াল।

পুরোনো সব স্মৃতি রোমন্থনে গলা শুকিয়ে আসে।গিটারে প্রিয় সঙ্গীনির সুর তুলতে গিয়ে ভিন্ন সংষ্কৃতি বাধা দেয় বার বার। চোখের জলে নিজেকে ভাসিয়ে একসময় দেশে ফিরে যায় ডেভিড।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে