আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:৫৪

স্তন ঢেকে রাখতেও কর দিতো উপমহাদেশের নারীরা!!

বিডিটাইমস ডেস্ক
স্তন ঢেকে রাখতেও কর দিতো উপমহাদেশের নারীরা!!

পশ্চিমা বিশ্বে এখন বক্ষ অনার্বিত রাখার একটি ফ্যাশান চালু আছে। কথায় কথায় মেয়েরা বক্ষ উন্মুক্ত করে প্রতিবাদ করে। পূবের দিকে বক্ষের এই ফ্যাশনটা অন্য রকম। এটি বক্ষ ঢেকে রাখার মধ্যে উন্মুক্ত করার কৌশল। যা আমরা হিন্দি/ বাংলা সিনেমায় হর হামেশায় দেখে থাকি। অথচও আজ থেকে ২০০ বছর আগেও ভারত মহাদেশের কোন কোন যায়গায় বক্ষ ঢেখে রাখার জন্য কর দিতে হতো নারীদের।

২০০  বছর আগে ভারতের কেরালা অঙ্গরাজ্যটি ছিলো নিম্নবর্নের হিন্দুদের জন্য বৈরী অঞ্চল। কেরালার রাজারা অনেক ধরণের কর বসাতো তাদের উপর। এর মধ্য সবচেয়ে উচ্চহারে কর বসানো হতো মেয়ে দের বক্ষ ঢেকে রাখার জন্য। করটির নাম- ‘স্তনকর বা breast tax’। কেরালায় এটি  মুলাককারাম (mulakkaram) নামেই পরিচিত।

নিয়ম ছিলো শুধু ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য কোন হিন্দু নারী তার স্তনকে ঢেকে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ শ্রেণীর হিন্দু নারীরা তাদের স্তনকে একটুকরো সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারতো, বাকি হিন্দু শ্রেণীর নারীদেরকে প্রকাশ্যে স্তন উন্মুক্ত করে রাখতে হতো। তবে যদি কোন নারী তার স্তনকে কাপড় দ্বারা আবৃত করতে চাইতো, তবে তাকে স্তনের সাইজের উপর নির্ভর করে ট্যাক্স বা কর দিতে হতো। এই নির্মম করকেই বলা হয় স্তনকর বা ব্রেস্টট্যাক্স। খবর দ্যা হিন্দু।


কেরেলার এই স্থানটির নাম মনোরোমা কাউলা। এখানেই ১৮০৩ সালে করের বদলে নিজের স্তন কেটে দিতে হয়েছিলো নাঙ্গেলীর।

ইতিহাসবিদ ও সাবেক এমএলএ অ আইনজীবী ড সুগাতান জানান, ১৮০৩ সালে নাঙ্গেলী (Nangeli) নামে এক নারী তার স্তনকে আবৃত করে রাখে। যথন গ্রামের ট্যাক্স কালেকটর তার থেকে স্তনকর চাইতে আসে, তখন নালেঙ্গী তা দিতে অস্বীকার করে এবং নিজের দুটি স্তনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে পাতা দিয়ে মুড়ে ট্যাক্স কালেকটরকে দিয়ে দেয়। তখন কাটা স্তন দেখে ট্যাক্স কালেকটর অবাক হয়ে যায়। স্তন কেটে ফেলার কিছুক্ষন পরেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য নাঙ্গেলীর মৃত্যু হয়। স্ত্রীর মৃত্যু শোকে নালেঙ্গীর স্বামীও সাথে সাথে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পর থেকেই স্তনকর রোহিত হয়।

তবে স্তনকর রোহিত হলেও দক্ষিণভারতে নারীদের স্তন আবৃত করার জন্য বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা পর্যন্ত করতে হয়েছে তাদের। ১৯ শতাব্দীর মাঝে এসে যখন কিছু হিন্দু নারী তাদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করার অধিকার দাবি করে, তখন হিন্দু পুরোহিতরা স্পষ্ট করে বলে দেয়, নিচু বর্ণের নারীদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করা ধর্ম বিরোধী। বিষয়টি নিয়ে ১৮৫৯ সালে দক্ষিণ ভারতে একটি দাঙ্গা হয়। এই দাঙ্গার উদ্দেশ্য ছিলো হিন্দু নারীদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করার অধিকার আদায় করা। এই দাঙ্গায় ‘কাপড়ের’ দাঙ্গা হিসেবেও পরিচিত।

উপরে