আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:১৮

পুলিশ সার্জেন্টের নৈপূণ্যে পাঁচ লাখ টাকা ফিরে পেলেন এক যুবক

বিডিটাইমস ডেস্ক
পুলিশ সার্জেন্টের নৈপূণ্যে পাঁচ লাখ টাকা ফিরে পেলেন এক যুবক
জনগনের বন্ধু বলা হয় পুলিশকে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় পুলিশের ইমেজ কিছুটা হলেও ক্ষুন্ন হয়েছে। এমন কিছু নেতিবাচক খবরের মধ্যেও ইতিবাচক খবরও আছে। এক পুলিশ সার্জেন্টের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এক যুবক ফিরে পেয়েছেন তার ব্যাগে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং ল্যাপটপ।
রাজধানীর নিকুঞ্জের বাসিন্দা শরীফ আহমেদ সিএনজি অটোরিকশায় করে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় কেরানীগঞ্জ থেকে বাবুবাজার ব্রিজের ঢাকা অংশে এসে নামেন। নামার সময় সঙ্গে থাকা ব্যাগ অটোরিকশায় রেখে নামেন। ভাড়া দিয়ে ব্যাগ হাতে নিবেন। ভাড়া দেয়ার জন্য পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করছিলেন এর মধ্যেই অটোরিকশা দ্রুত ঘুরে বিপরীতে চলতে থাকে। শরীফের ব্যাগে তার বাড়ি নির্মাণের জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা ও ল্যাপটপ। কার কাছে অভিযোগ করবে বুঝতে পারছিলেন না। অগত্যা সামনে একজন পুলিশ সার্জেন্টসহ কয়েক পুলিশকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দৌড়ে তাদের শরণাপন্ন হন। পুলিশ দল তাকে সান্তনা দিয়ে বসতে বলেন। আর সাথে সাথেই পুলিশের সেই সার্জেন্ট তার মোটরসাইকেলে রওনা দেন শরীফকে বহনকারী স্কুটারটির পেছনে। অন্য পুলিশ সদস্যরা এ সময় তাকে সান্তনা দিচ্ছিলেন।
১৫ মিনিট পর পুলিশ সার্জেন্ট শরীফের হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ, অটোরিকশা ও চালককে নিয়ে হাজির।  শরীফ যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না । তার সামনে সেই ব্যাগ। তখনো তার মনে সন্দেহ ব্যাগে কি টাকা আছে। ব্যাগ খুলে দেখেন যে সব কিছু ঠিকঠাক আছে। পুলিশ এ সময় আইনগত ব্যবস্থা নিতে চালক কালামকে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে শরীফ তার অর্থ ও মালামালসহ ব্যাগ ফিরে পাওয়ায় এবং চালক ক্ষমা চাওয়ায় তাকে ছেড়ে দিতে পুলিশকে অনুরোধ করেন।
এরপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পালা। সেই পুলিশ সার্জেন্ট কে কৃতজ্ঞতা জানাতেই তিনি বলেন, ‘আপনার হারিয়ে যাওয়া টাকা ও ব্যাগ উদ্ধার করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। আমি তা পালন করেছি মাত্র।’
পুলিশ সার্জেন্ট শরীফকে চা খাইয়ে অন্য একটি গাড়িতে তুলে দিয়ে নিরাপদে যাত্রার ব্যবস্থা করেন। যে সার্জেন্টের সহযোগিতায় শরীফ তার নগদ টাকাসহ ব্যাগ ফিরে পেয়েছে তার নাম মো. আহসান হাবিব প্রামাণিক। তিনি ডিএমপি’র কোতোয়ালি জোনে কর্মরত।
এ ব্যাপারে সার্জেন্ট আহসান হাবিবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিডিটাইমস৩৬৫ডটকমকে জানান, ‘সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি ২০১১ সালে পুলিশে যোগ দেন। সে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার উত্তর দলগ্রাম পাটেয়ারীটারী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা স্কুল শিক্ষক। এর আগেও সংবাদ পেয়ে জীবন বাজি রেখে রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে তাৎক্ষণিক অটোরিকশা ছিনতাইকারীদের আটক করেন।
আহসান হাবিব বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছা ছিল মানুষের উপকার করবো। আল্লাহ আমার সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন। পুলিশের পেশা একটি সেবামূলক পেশা। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে আমি বাকি জীবন মানুষের উপকার করে যেতে চাই। মানুষের উপকার করার এ দীক্ষা আমার পিতার কাছ থেকে পেয়েছি।’
ব্যাক্তিগত জীবনে এক সন্তানের জনক আহসান হাবিব প্রামাণিক।
উপরে