আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২০:৫৩

ভয়ঙ্কর অখাদ্য!!! এগুলোও মানুষ খায়!!!!!!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভয়ঙ্কর অখাদ্য!!! এগুলোও মানুষ খায়!!!!!!

পৃথিবিতে হরেক রকমের ভোজন রসিক মানুষ পাওয়া যায় আবার তাদের জন্য রয়েছে হাজারো রকমের খাদ্য। দেশ জাতি ভেদে এক এক স্থানের মানুষের খাদ্যের পছন্দ এক এক রকম। কারো হয়তো দেশি খাবার আবার কারো বিদেশী। কিন্তু এদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন যাদের খুব অদ্ভুত ধরনের কিছু খাবারের প্রতি রয়েছে অদ্ভুত ধরনের আসক্তি। হয়তো আমরা সাধারণ মানুষেরা এসব দেখলেই গা গুলাবো কিন্তু অনেকের কাছে এগুলো অনেক বেশী পছন্দের।আবার এসব অদ্ভুত খাবার তারা অনেক দাম দিয়ে কেনে ও খায়। আসুন জেনে নেই এরকম ৫ টি অদ্ভুত খাবারের কথা ও বানানোর নিয়ম।

১. সেঞ্চুরি এগ বা শতাব্দীর ডিমঃ যেমন অদ্ভুত নাম তেমনি জিনিসটি ও অদ্ভুত। নাম শুনেই নিশ্চই বুঝতে পেরছেন যে অনেক পুরনো ডিম দিয়ে তৈরি এই খাদ্য। আসলে শতাব্দি পুরনো না’হলেও অন্তত কয়েক মাস পুরনো ডিম দিয়ে তৈরি হয় এ খাদ্য। মজার বিষয় হল এটি দেখতে একসাথে সুন্দর আবার বিরক্তিকর।

পদ্ধতিঃ ডিমটি কয়েক মাসের জন্য মাটি, ছাই এবং কলিচুনের একটি মিশ্রনে চুবিয়ে রাখা হয়। এরপর ডিমের কুসুম কালচে সবুজ রঙ ধারন করে এবং এর সাদা অংশ তামার রঙ ধারন করে এবং এটি গন্দক ও অ্যামোনিয়ার একটি মিশ্র গন্ধ দেয়।

২. বয়েলড ডাক এমবেরিয়া বা সেদ্ধ হাঁসের ভ্রুনঃ শুনে অবাক হচ্ছেন? তাহলে জেনে নিন সেদ্ধ হাঁসের ভ্রুন ফিলিপিন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামে অনেক জনপ্রিয় একটি খাবার।

পদ্ধতিঃ একটি ডিম নিয়ে সেটাকে প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত তা দেয়া হয় এবং যখন এতে বাচ্চা হাঁসের জীবন আসা শুরু করে তখন এই ডিমটিকে অনেক লম্বা সময়ের জন্য সেদ্ধ করা হয় আর তারপর এটিকে পরিবেশন করা হয়। এটি খাওয়ার নিয়ম হল আস্ত ডিমটিকে ভেঙ্গে ভিতরের সবকিছু একবারে মুখে পুড়ে নিতে হয়।

৩. সিউকারাঃ সিউকারা হল জাপানের একটি ডিস। জাপানিরা এটি খেতে পছন্দ করে কিন্তু মনে হয়না আমরা সেটা খেতে পারব। কারন হল এর উপাদান। আসলে এটি বিভিন্য সামুদ্রিক প্রানির কাচা মাংশ ও নাড়ীভুঁড়ি দিয়ে তৈরি একটি খাবার।

পদ্ধতিঃ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছকে পরিস্কার করে এর নাড়ীভুঁড়ি সংগ্রহ করা হয় এবং সেগুলোকে এক সাথে লবন মেখে কয়েকদিন রেখে দেয়া হয়। এরপর যখন গ্রাহকেরা চায় তখন তা তাদের খেতে দেয়া হয় এবং অবশ্যই অনেক চড়া মুল্যে।

৪. বেবি মাউস ওয়াইন বা বাচ্চা ইদুর মদঃ কি নাম শুনেই গা গুলোচ্ছে? তবে জেনে রাখুন এটি চায়না আর কোরিয়াতে অনেক বেশি পরিমানে জনপ্রিয় একটি মদ।

পদ্ধতিঃ এটি তৈরি করা হয় মুলত মদের মাঝে ইদুর রেখে। একটি মদের বোতলে ১৫ থেকে ১৬ টা চোখ না ফোটা ইঁদুর কয়েক মাসের জন্য রেখে দেয়া হয় এবং এরপর সে বোতল গুলোকে ইঁদুর সহ বিভিন্ন দোকানে পাঠানো হয়। মুলত এই মদে খুব জলদি নেশা হয় তাই কোরিয়ান রা এটি খেতে ভালবাসে।

৫. এলিফেন্ট ডাং কফি বা হাতির গোবরের কফিঃ এতক্ষনে হয়ত অনেকের বমি বমি ভাব চলে এসেছে তাই না? কিন্তু জানেন কি বিভিন্ন দেশে এ কফি খেতে আপনার খসাতে হবে ৫০ ডলার? আসলে এটি অনেক সুস্বাদু ও মসৃণ হয়ে থাকে তাই এর দাম অনেক বেশি হয়।

পদ্ধতিঃ থাই হাতি কে এই কফির বীজ খাওয়ানো হয়। এর বীজ খাওয়ার পর পেটে তা ভেঙ্গে যায় ও বিভিন্ন এনজাইম যুক্ত হয় ।এরপর যখন হাতিটি পয়ঃনিষ্কাশন করে সেখান থেকে পরিশধনের মাধ্যমে এর বীজ সংগ্রহ করা হয়। এরপর এটিকে পরিশোধিত করে গুড়ো করে কফি বানানো হয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসপি

উপরে