আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৩:৫৮

ভালোবাসার ৬ ফালতু দিক! জাস্ট রাবিশ!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ভালোবাসার ৬ ফালতু দিক! জাস্ট রাবিশ!

ভালোবাসতে বাসেতে একেবারে ফতুর হয়ে যাওয়ার ভুরি-ভুরি উদাহরণ আছে। আছে দেওলিয়া হয়ে যাওয়ারও। কিন্তু কেন?

কারণ, ভালোবাসা কখনো কখনো জাস্ট রাবিশ!

জেনে নিন ৬টি কারণ; যেগুলোর জন্য ভালোবাসাকে আপনার উচিৎ পরিত্যাগ করা! চিরদিনের জন্য।

১. একত্রে প্রচুর সময় কাটাতে হয়:

একসময় আপনি ভাবতেন ছুটি পেলে ভালো একটি বইয়ের ভেতর ডুব দেবেন এবং সবার যোগাযোগের বাইরে থাকবেন। কিন্তু ভালোবেসে থাকলে আপনি ওই বিশেষ কাজ গুলোর দিকে কোন মনোযোগ দিতে পারবেননা।  

যদি কিছু মনে না করেন, হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের একদল গবেষক দেখেছেন যে, সুদৃঢ় সম্পর্ক এবং যত্নশীল আচরণ চাপ-কমানো হরমোন নি:সরণ বন্ধ করে দিতে পারে। গবেষকরা আরো বলেন আপনার এমন বন্ধন আপনাকে দীর্ঘায়ু করতে পারে। যদিও চাপহীন দীর্ঘজীবন যাপন আপনার প্রয়োজন নেই কোন।

২. নতুন নতুন আবেগে প্লাবিত হন:

বিশেষ কাউকে দেখলেই আপনার হৃদয়ের স্পন্দন বেড়ে যায়। এসময় আপনার মস্তিষ্কে ভালোবাসার হরমোন ডোপামিনের বন্যা বয়ে যায়। ‘এমন অনুভূতি আপনাকে দেবে নিমগ্নতা, শক্তি এবং আশাবাদ; এই ব্যাপারগুলো চাপ মোকাবিলায় ভালো ভালো উপকরণ হতে পারে’ হাফিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মনোবিজ্ঞানী হেলেন ফিশার এমনটাই বলেছিলেন।

কিন্তু আপনার সঙ্গী’র চোখে চোখ রাখলে আপনি কি ভালো বোধ করেন? বলুন প্লিজ-

৩. প্রশংসায় ভেসে যান এবং একসময় সেগুলোতে বিশ্বাস করতে থাকেন:

ভালোবাসার সম্পর্কে আপনি আপনার প্রিয় মানুষের কাছ থেকে প্রচুর স্থুতি বাক্য শুনতে পাবেন। মাঝে মাঝে প্রশংসায় আপনি ভেসে যাবেন। এসব প্রশংসার বেশির ভাগই হয়তো আপনাকে খুশি করার জন্য! কিন্তু বাস্তব ব্যাপার হলো এই ব্যাপারগুলো একসময় আপনি বিশ্বাস করতে শুরু করে দেবেন।

আপনি যদি মোরগ রান্না করতে গিয়ে তা পুড়িয়েও ফেলেন; আপনার সঙ্গী হয়তো এর মাঝেই মজার কিছু খুঁজে পাবে। আদতে কি এটা ভালো?

৪. অতিরিক্ত যৌন সম্পর্ক:

লেখার শুরুতেই যেমন বলা হয়েছিলো; ভালোবাসায় পতিত হলে আপনার ডোপামিন নি:সরণের মাত্রা বেড়ে যাবে, যা আপনার শরীরে যৌন উদ্দীপক টেস্টোস্টোরেনের পরিমানও বাড়াবে। বেশি বেশি যৌন মিলন এই বাড়তি টেস্টোস্টোরেনের জন্যই দায়ী।

হেলেন ফিশার বলেন, ‘সঠিক মানুষের সঙ্গে যৌনমিলন স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।’ এইসব উপকারীতার মধ্যে রয়েছে রক্তচাপ কমে যাওয়া, এনডোরফিন থেকে মুক্তি এবং ভালো ঘুম হওয়া।

কী লজ্জা!

৫.অন্য কারো সুখ হয়ে ওঠে আপনারও সুখানুভূতির কারণ:

ভালোবাসা মানেই যৌথজীবন। একে-অপরের আনন্দ বেদনাকে ভাগাভাগি করে নেওয়া। ধরা যাক, ঘুমুতে আপনার খুব ভালো লাগে। তাই বলে, ছুটির দিনে আপনাকে ৯টার পর ঘুম থেকে উঠলে চলবেনা। অন্যজনের সকালের নাশতা নিয়েও তো আপনাকে ভাবতে হয়!

ভালোবাসা আপনাকে দিয়ে বেকুব কিছু কাজ করায়, এক্ষেত্রে ভালো কোন কারণ না থাকলেও আপনাকে সঙ্গীর খুশির কথা ভেবেই অনেক কাজ করতে হয়।

স্থুল!

৬. জীবনের বৃহত্তম অংশটাই পূর্নতা পায়:

কী অস্বাভাবিকতা এমনটিতে। ৭৫ বছর ধরে প্রায় ২৫০ মানুষের ওপর চালানো এক জরিপে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন ভালোবাসা এবং সম্পর্ক আন্য যে কোন কিছুর চেয়ে একটি সুখী এবং পরিপূর্ন জীবন যাপনে সহযোগীতা করে।

হার্ভার্ডের গবেষকদের অন্যতম জর্জ ভেইলেন্টের মতে, ‘সম্পর্ক হলো আনন্দের উৎসমূল।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুখ হলো ভালোবাসার সমান।’

বলতে হয়, এবার দাড়ি টানুন এমন ভোগবাদী সতর্ক পরামর্শে।

বাস্তবে যে কারো ভালোবাসা অনেক বেশি সুবিধা বয়ে নিয়ে আসে যতটুকু তিনি বপন করেন। সত্যিকার অর্থে ভালো, মন্দ এবং কুৎসিত ব্যাপারগুলো থাকা সত্ত্বেও ভালোবাসা দারুণ এক ব্যাপার!

মানুষের অভিজ্ঞতায় যত আবেগ আছে, তার মধ্যে ভালোবাসাই সবচেয়ে বিচিত্র। নান্দনিক উঁচু-নিচু দিয়ে বয়ে চলা এই রোলার কোস্টারকে বলা হয়- মানব মানসের সবচেয়ে পঠিত এবং নিগূঢ় তত্ত্ব।

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে