আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:১০

মৃত্যুদিনে কিংবদন্তীতুল্য হুমায়ুন ফরীদি সম্পর্কে ১১ তথ্য

পরাগ মাঝি
মৃত্যুদিনে কিংবদন্তীতুল্য হুমায়ুন ফরীদি সম্পর্কে ১১ তথ্য

২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ১লা বসন্তে হুমায়ুন ফরীদি ঢাকায় মৃত্যুবরন করেন। তার এই মৃত্যুকে এখনো মেনে নিতে পারেনা অনেক ভক্ত। বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে তিনি ছিলেন জীবন্ত এক কিংবদন্তী। তাকে নিয়ে এখনো কৌতুহলের শেষ নেই। তাই জানুন তার সম্পর্কে ১১টি তথ্য-

১. হুমায়ুন ফরীদি ১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে তার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।

২. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি আল-বেরুনী হলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অর্থনীতিতে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটকের শিক্ষক ও কিংবদন্তী নাট্যকার সেলিম আল-দীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আবদ্ধ হন। এ সম্পর্ক নাকি ছাত্র-শিক্ষকের ন্যায় ছিলো না; ছিলো বন্ধুত্বের। মূলত এই সম্পর্কই নাট্য ও অভিনয় জগতে তাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলো।

৪. ১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মূলত, এ উৎসবের মাধ্যমেই তিনি নাট্যাঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন।

৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার’র সঙ্গে মনোমানিল্যের সূত্র ধরে তিনি ছাত্রাবস্থায়ই ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন।

৬. ৭০’র দশক থেকেই গনমাধ্যম ও নাট্যজগতের পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেও ১৯৯০ সালের আগে তিনি কোন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। কিন্তু চলচ্চিত্রে খলনায়কের ভূমিকায় তার অনবদ্য অভিনয়গুলো তাকে এক জীবন্ত কিংবদন্তীতে পরিনত করে।

৭. শ্যুটিংস্থলে অন্য অভিনেতা ও নায়ক-নায়িকাদের থেকে সাধারন মানুষ হুমায়ুন ফররীদির দিকেই বেশি আকৃষ্ট হতো।

৮. বিশ্ববিদ্যালয়ে হুমায়ুন ফরীদি প্রচুর বাকী খেতেন। তার সময়কার দোকানদাররা এখনো ওইসব বাকী নিয়ে অভিযোগ নয়, বরং তারা গর্ব করেন।

কথিত আছে যে, ফরীদিকে একবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে সুমন নামে একজন ঠাট্টাচ্ছলে বলেছিলেন আপনি আলবেরুনীর ক্যান্টিনে ৩১৯ টাকা বাকী রেখেছেন, শোধ করে যাবেন!

জবাবে তিনি উত্তর দেন, ‘আমি এইটা শোধ করব না।’ সবাই বলে উঠল, কেন কেন?
উনি তখন উত্তরে বলেন, আমি এই ক্যান্টিন, হল, ক্যাম্পাস, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মানুষগুলোর কাছে আজীবন ঋণী থাকতে চাই।

৯. ব্যক্তিগত জীবনে হুমায়ুন ফরিদী দুবার বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে করেন ১৯৮০’র দশকে। ‘দেবযানী’ নামের তার এক মেয়ে রয়েছে এ সংসারে।  পরবর্তীতে বিখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফাকে তিনি বিয়ে করলেও তাদের মধ্যেকার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে ২০০৮ সালে। এ সংসারে কোন ছেলে মেয়ে নেই।

১০. মুক্তিযুদ্ধে তিনি গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা সনদের প্রয়োজন অনুভব করেননি কখনো। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্যও ছিলোনা তার।

১১. ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার লাভ করেন হুমায়ুন ফরীদি। নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাকে সম্মাননা প্রদান করে।

বাংলা চলচ্চিত্র ও অভিনয় জগতের অবিস্বংবাদিত প্রাণপুরুষ শ্রদ্ধেয় ফরীদি, যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন, থাকুন শান্তিতে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে