আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:২২

দুনিয়া কাঁপানো ৮টি ছবি!

বিডিটাইমস ডেস্ক
দুনিয়া কাঁপানো ৮টি ছবি!
শরণার্থী শিশু মৃত আয়লানের এ ছবিটি দেখে কেঁদেছিলো সারা বিশ্ব

ছবি তোলার অভ্যেস কম-বেশি আমাদের সবারই আছে। ক্যামেরায় ধারণ করা সেসব মহুর্তের ছবি দেখে অনেকই হয়তো খুব আগ্রহ নিয়ে দেখেন। ছবির প্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু প্রভাবিত করে অনেককেই। কিন্তু যদি এমন হয়, আপনার তোলা কোনো ছবি সারা দুনিয়াটাকেই দেয় কাঁপিয়ে! আপনি হয়তো বলবেন, সেটা কি করে সম্ভব! অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলো এমন আটটি ছবি দেখে তবে অনুপ্রানীত হন আপনিও-

নিজের কাপড় ছিঁড়ে বেঁচেছিল মেয়েটি

নাপাম বোমার আঘাতে দক্ষিণ ভিয়েতনাম তখন কেঁপে উঠেছে। ৯ বছরের ফান থি কিম পুক কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখলো সবাই পাগলের মতো ছুটছে৷ নিজে ছুটতে শুরু করার আগেই দেখে গায়ের জামাকাপড়ে আগুন। আগুন নেভানোর চেষ্টা করে কাজ হলো না, বুদ্ধি করে নিজের কাপড় ছিড়ে ফেলে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াতে শুরু করলো। ৯ বছরের মেয়েটির ছবিও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় তুলেছিল। এ ছবির জন্য ১৯৭৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন ফটোগ্রাফার নিক উট।

কাঁটাতারে শুমান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি তখন সবে আলাদা হয়েছে, দু’দেশের মাঝখানে গড়া শুরু হয়েছে প্রাচীর। পূর্ব জার্মানির সৈন্য কনরাড শুমান সেই সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁটা তারের বেড়া ডিঙিয়ে চলে আসেন পশ্চিম জার্মানিতে। ১৯৬১ সালের আগস্ট মাসের এই ছবিটিও সবার হৃদয় ছুঁয়েছিল। শুমান নিজেও কোনোদিন ভুলতে পারেননি সেই দিনটির কথা। ১৯৯৮ সালে আত্মহত্যা করেন তিনি। ৪৪ বছর আগে শুমানের এই ছবিটি তুলেছিলেন পেটার লাইবিং।

ধুলায় ঢাকা নারী

মার্সি বর্ডার। ধুলায় তার শরীর ঢেকে যাওয়ার কারণ বিশ্বের নিষ্ঠুরতম সন্ত্রাসী হামলা। ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বরের ছবি এটি। টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে সেখানে ছিলেন মার্সি বর্ডার। এই ছবির কারণে ৯/১১-র পর থেকে সবাই ‘ডাস্ট লেডি’ নামেই সবাই তাকে চিনতো। ওই হামলার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় পাকস্থলীতে ক্যানসার হয়েছিল। ক্যানসারে ভুগে গত বছরের ১৫ আগস্ট ৪২ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

নির্ভিক এক মানুষ

১৯৮৯ সালের ৫ই জুন তিয়েনানমেন স্কয়ারের প্রতিবাদ বিক্ষোভকে দমন করতে যখন চীনা সেনাবাহিনী হামলা চালায় তখন ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন একজন। এভাবে বেশ কয়েকটি ট্যাংককে কিছুক্ষণ থামিয়েও রেখেছিলেন। সেই মুহূর্তটিকে ক্যামেরায় ধরে রেখেছিলেন জেফ উইডেনার। ছবিটি তোলার পরপরই অকুতোভয় ব্যাক্তিটিকে সেখান থেকে নিয়ে যায় পুলিশ। ২৬ বছরেও অসম সাহসী লোকটির পরিচয় জানা যায়নি, জানা যায়নি তিনি কোথায়, কেমন আছেন!

প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে প্রাণ দিল জার্মান তরুণ

ইরানের রেজা শাহ পেহলভির রাষ্ট্রীয় সফরের প্রতিবাদে বার্লিনের রাস্তায় বিক্ষোভে নেমেছিল অনেক মানুষ। শাহ বার্লিন অপেরায় বসে দিব্যি মোৎসার্টের ‘দ্য ম্যাজিক ফ্লুট’ উপভোগ করছেন। বাইরে শুরু হয়ে গেল জনতা-পুলিশ মারামারি। উত্তেজনা তৈরির পেছনে শাহ-র গোয়েন্দাদের উসকানির অবদান ছিল বলে অনেকে মনে করেন। একটা সময়ে প্রতিবাদী ছাত্র বেনো ওনেসর্গ-কে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

জন এফ কেনেডির মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির আততায়ীর গুলিতে নিহত হবার ছবিটিও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। কেনেডি তখন গাড়িতে। হঠাৎ আততায়ীর গুলি। মাথায় লেগেছিল গুলি। অ্যাব্রাহাম জ্যাপারডার তুলেছিলেন ছবিটি। আর কোনো ক্যামেরায় ধরা পড়েনি মুহূর্তেরও খণ্ডাংশের সেই দৃশ্য।

অলিম্পিকে সন্ত্রাসী হামলা

১৯৭২ সালে জার্মানির মিউনিখে বসেছিল অলিম্পিকের আসর। অনেকের কাছে আসরটি বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে ইসরায়েলের অলিম্পিক দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার কারণে। ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর নামের একটি ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সশস্ত্র কর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের ১১ জন ক্রীড়াবিদকে জিম্মি করে ফেলে। পরে তাদের হত্যা করা হয়। ছবিতে এক ভবনের ব্যালকনিতে দেখা যাচ্ছে এক অপহরণকারীকে।

আফগান মেয়ে

আফগানিস্তান তখন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলে। পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়া এই আফগান কিশোরীর ছবি তখনই তুলেছিলেন স্টিভ ম্যাককারি। ১৯৮৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক প্রচ্ছদ ছবির মর্যাদা দেয় ছবিটিকে। শরবত গুলা নামের মেয়েটি তা জানেনইনা। ২০০২ সালে তাকে খুঁজে পায় সংবাদমাধ্যম। শরবত গুলা তখন জানতে পারেন তার ১২ বছর বয়সের কোনো ছবির জগৎ বিখ্যাত হওয়ার সত্যি কাহিনি!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটহম/মাঝি

উপরে