আপডেট : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:৩৪

১০ টোটকায় খুশি রাখুন বসকে; উন্নতি আসবে

বিডিটাইমস ডেস্ক
১০ টোটকায় খুশি রাখুন বসকে; উন্নতি আসবে

বসের হাতেই উন্নতির চাবিকাঠি। তাই বসকে খুশি রাখতেই হবে। কী কী করলে বসদের হাতে রাখা যায় সে ব্যাপারে অল্প-বিস্তর জ্ঞান সবারই রয়েছে। তারপরও বসকে কিভাবে খুশি রাখা যাবে সেটা নিয়ে আমাদের ভাবনার অন্ত নেই।

কী করলে বসের মন পাওয়া যাবে সেটা নিয়ে আজ অবধি বহু গবেষনা হয়েছে। অনেকেই অনেকভাবে বসকে খুশি রাখার চেষ্টা করেন। বসকে খুশি করতে গিয়ে আবার অনেক সময় হিতে বিপরীতও হয়ে যায়। ঠিক কি করলে বস খুশি হবেন সেটা যারা বুঝতে পারেন না, তারা জেনে নিন বসকে খুশি রাখার ১০টি কৌশল-

১. মাথা ঠান্ডা রাখুন: আপনার চারপাশে প্রলয় ঘটে গেলেও নিজের মাথা সব সময় ঠান্ডা রাখুন। বসেরা সব সময় সেই লোকজনদেরই পছন্দ করেন যারা খুব বিগড়ে যাওয়া পরিস্থিতিতেও ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে পারেন। তাদের উপরেই বসেরা বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

২. সহকর্মীর বদনাম করবেন না: সহকর্মীকে নিয়ে কাজ ছাড়া অন্য কোনও আলোচনা করবেন না বসের সঙ্গে। বস যদি জিজ্ঞাসা করেন ‘অমুক সহকর্মী কেমন মানুষ’ তবে বুদ্ধি করে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। যদি ভাল কথা বলতে ইচ্ছে না হয় তো বলবেন না, তবে সহকর্মীর নামে খারাপ কথা বলবেন না। ‘অমুক ভালই’ বলে চুপ করে যান। বস বুঝে যাবেন।

৩. দেরি করে অফিসে ঢুকবেন না : পাঁচ-দশ মিনিট দেরি হওয়া নিয়ে কেউ কিছু মনে করেন না কিন্তু তার বেশি দেরি করে অফিসে ঢোকা কোনও কাজের কথা নয়। এক-আধ দিন দেরি করে এলে কিছু হবে না কিন্তু মাসের মধ্যে ২০ দিনই দেরি করে ঢুকলে বস মুখে কিছু না বললেও মনে রেখে দেবেন। তার প্রভাব অনেক কিছুতেই পড়তে পারে।

৪. বসের প্রশংসা করুন বুঝেশুনে : তোশামোদী আর প্রশংসার মধ্যে পার্থক্য আছে। পঞ্চাশ বছর আগে শুধু তোশামোদে কাজ হত, এখন আর সেই ওষুধ চলে না। বরং বেশি বেশি করে বসের সামনে তার গুণগান করলে বসেরা বুঝতে পারেন আপনার আসল উদ্দেশ্য কী। সেক্ষেত্রে বস আপনাকে এড়িয়ে চলতেও পারেন। তাই বুঝেশুনে প্রশংসা করুন বসের।

৫. বসের ‘বস’-এর সঙ্গে খাতির বাড়ান : সব সময় অবশ্য এই সুযোগ আসে না কিন্তু সুযোগ পেলে তার সদ্ব্যবহার অবশ্যই করবেন। বসের উপরে যিনি নজর রাখেন তার সঙ্গে এমনিই খেজুরে আলাপটা সেরে রাখবেন। তিনি যদি আপনাকে নামে চেনেন তো কথাই নেই। আর তিনি যে আপনাকে চেনেন বা আপনার সঙ্গে কথা বলেছেন বা বলেন, সেই কথাটা বসের কানে তুলে দিন। তবে এমনটা যেন না মনে হয় যে আপনি বসের ব্যাপারে তাঁর বসের কাছে খবর সরবরাহ করেন।

৬. বসের বন্ধু হয়ে যান : বসেরা অফিসে খুবই বিপন্ন বোধ করেন। অনেক সময় এই থেকেই রাগারাগি-চেঁচামেচি করে ফেলেন তারা। একবার যদি বসের বন্ধু হয়ে যেতে পারেন তবে তো কথাই নেই। তা বলে সব বস বন্ধু হয় না। বস যদি দাম্ভিক, বদমেজাজি এবং জটিলমনস্ক সাইকো হয়ে থাকেন তবে কাজ ছাড়া অন্য কোনও কথা বলবেন না তার সঙ্গে। কিন্তু বস যদি মানুষ হিসেবে ভাল হন, ভাল ব্যবহার করেন, তবে তাকে সুপরামর্শ দিন, তার বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন।

৭. কাজ নিয়ে আলোচনা করুন : কীভাবে আরও ভাল কাজ করা যায় সেই নিয়ে সুযোগ পেলেই আলোচনা করুন বসের সঙ্গে। কাজের প্রতি যাদের উৎসাহ রয়েছে তাদেরকে বসেরা পছন্দ করেন। নতুন নতুন আইডিয়া দিন বসকে। আপনি আপনার নিজের কাজ নিয়ে কী কী পরিকল্পনা করছেন, সেই নিয়ে কথা বলুন। বস মুখে না বললেও মনে মনে প্রশংসা করবেন আপনার উদ্যোগের।

৮. যখন-তখন ছুটি নয় : ঘন ঘন ছুটি নেওয়া কোন বসই পছন্দ করেন না। এমার্জেন্সি ছাড়া ছুটি নেবেন না। চেষ্টা করবেন, হাফ-ডে লিভ নিতে। আপনি যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অফিসে আসার চেষ্টা করেন সেটা তাকে বোঝান।

৯. অফিসে বসে ফোন নয় : অফিসে বসে যারা দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলে যান, তাদের অপছন্দ করেন বসেরা। খুব দরকারি ফোন এলে বা বেশিক্ষণ কথা বলাটা খুব জরুরি হলে বসকে বলে তবে ঘরের বাইরে গিয়ে কথা বলুন।

১০. কাজে খামতি নয় : আপনার কাজে যেন কোনও ভুল-ত্রুটি না থাকে, উদ্যোগেরও যেন অভাব না থাকে। বসের সঙ্গে গল্প-সল্প করলেও এই বেসিক ব্যাপারটায় খেয়াল রাখুন। বসকে আঙুল তোলার সুযোগ দেবেন না এবং সহকর্মীদের কাছেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করুন যাতে কেউ আপনার পিছনে, আপনার বিরুদ্ধে বসকে কিছু না বলতে পারে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে