আপডেট : ৩০ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৯:১৮

পিরিতি কাঁঠালের আঠা (তৃতীয় পর্ব): ইউসুফ-জুলেখা

উম্মে জান্নাত
পিরিতি কাঁঠালের আঠা (তৃতীয় পর্ব): ইউসুফ-জুলেখা

ইউসুফ-জুলেখা জুটির কাহিনী নিয়ে বাংলা সাহিত্যে অনেক রোমান্টিক প্রনয়াখ্যান রচিত হয়েছে। যুগ-যুগ ধরে প্রেমের উদাহরণ হিসাবে সমাদৃত হয়ে আসছে এই প্রেমের গল্পটিও।কবি -সাহিত্যিকদের অতিরঞ্জনের ভিড়ে আমাদের নিয়মিত আয়োজন ‘পিরিতি কাঁঠালের আঠা’র তৃতীয় পর্বে কাহিনীর মূল অংশটুকুই তুলে ধরছি আজ-

ইউসুফ ইসলাম ধর্মের একজন নবী ছিলেন। তার ১০ জন বৈমাত্রীয় ভাই ছিল। বাবা ইউসুফকে বেশি স্নেহ করতেন তাই অন্য ভাইরা তাকে হিংসা করতো। একসময় তারা তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের লিপ্ত হয় এবং তাকে দূরে এক অন্ধকার প্রাচীন কূপে ফেলে এসে বাবাকে জানায়, ইউসুফকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে।

ঘটনাচক্রে একটি কাফেলা ওই অন্ধকার কূপের কাছে পৌঁছে যায়। যারা সিরিয়া থেকে মিশর যাচ্ছিল। তারা ইউসুফকে উদ্ধার করে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়।

তারপর থেকেই ইউসুফের জীবনে ঘটতে থাকে একের পর এক চমকপ্রদ ঘটনাবলী। ভাগ্যের পথ পরিক্রমায় দাস হিসেবে আজহার নামের এক শস্য ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি হয়ে যান বালক ইউসুফ। আর এই আজহারের সঙ্গে ঘটনাক্রমে রাজপ্রাসাদে গিয়েই তার পরোপকারবৃত্তির গুণে চোখে পড়ে যান শস্য অধিকর্তা আজিজের। এদিকে আজিজের স্ত্রী জুলেখা স্বামীর মুখেই প্রথম শোনেন ইউসুফের কথা!

জুলেখা’র গৃহেই ইউসুফ বালক থেকে যৌবন প্রাপ্ত হলেন। কিন্তু সেই জুলেখাই তার প্রেমাসক্ত হয়ে পড়লেন এবং তার সঙ্গে কুবাসনা চারিতার্থ করার জন্য তাকে ফুসলাতে লাগলেন।

একদিন গৃহের সব দরজা বন্ধ করে জুলেখা ইউসুফকে বলল তোমার মাথার চুল কত সুন্দর! ইউসুফ বলল, মৃত্যুর পর এই চুল সর্বপ্রথম আমার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এরপর জুলেখা বলল, তোমার নেত্রদ্বয় কতই না মনোরম। ইউসুফ বললেন, মৃত্যুর পর এগুলো পানি হয়ে আমার মুখমন্ডলে প্রবাহিত হবে। জুলেখা আরও বলল, তোমর মুখ-মন্ডল কতই না কমনীয়। ইউসুফ বললেন, এগুলো সব মৃত্তিকার খোরাক!

দিনে দিনে ক্রমেই ইউসুফের প্রতি আসক্তি বাড়তে থাকে সুন্দরী জুলেখার। কিন্তু ইউসুফ এই প্রেমকে অন্যায় জেনে প্রত্যাখান করেন।

কিন্তু ইউসুফের প্রতি জুলেখার লালসা ও প্রেম’র কথা সব মহিলাই জেনে গেল। এবং হাসি ঠাট্টা শুরু করে দিল। ব্যাপারটা জুলেখার কাছে অস্বস্তিকর মনে হল। সে তাদের বাক্য বান এড়াতে সকল মহিলাকে নিজের বাড়িতে দাওয়াত করল।

জুলেখার বাড়িতে সব মহিলা এসে যখন ছুঁরি দিয়ে ফল কাটতে ব্যাস্ত তখন হঠাৎ ইউসুফকে তাদের সামনে নিয়ে আসে জুলেখা। ইউসুফ আসার সঙ্গে সঙ্গে তার রূপে মুগ্ধ হয়ে নারীরা নিজেদের হাত কেটে রক্তাক্ত করল।

শুধু তাই নয় সেসময় জুলেখা ইউসুফকে শারীরিক মিলনের আহবান জানালে নারীরাও তার সঙ্গে সুর মেলালো। কিন্তু ইউসুফ তাকে প্রত্যাখ্যান করলো।

প্রত্যাখ্যাত হবার এই অপমান সইতে না পেরে জুলেখা সম্ভ্রমহানির অভিযোগ আনেন ইউসুফের বিরুদ্ধে। তার অভিযোগ অনুযায়ী বন্দী করা হয় ইউসুফকে। এদিকে বন্দী থাকা অবস্থাতেই স্বপ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে ফারাও রাজের বিশ্বস্ততা অর্জন করেন ইউসুফ। একসময় ভুল বুঝতে পেরে জুলেখাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিতেও উদ্যত হন বাদশা। তবে ইউসুফের অনুরোধে তাকে প্রাণে না মেরে নির্বাসনে পাঠানো হয়। আর ইউসুফকে নিযুক্ত করা হয় শস্য অধিকর্তা। এরই মাঝে কেটে যায় আরও কিছুদিন।

এদিকে ইউসুফের প্রেমে জুলেখা পাগলিনীর মতো হয়ে গেলেন। হলেন বৃদ্ধাও! অতপর আল্লাহ একসময় তার প্রতি দয়াপরাবশ হন এবং তাকে তার রূপ যৌবন ফিরিয়ে দেয়া হয়।

তারপর জুলেখা স্রস্টার প্রেমেই মজলেন। ইবাদত বন্দীগিতে মনোনিবেশের কারনে ইউসুফের কথা অনেকটা ভুলেই গেলেন। একদিন ইউসুফই তার সান্নিধ্য লাভের জন্য প্রচেষ্টা চালালে জুলেখা তাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য ইউসুফের মতনই দৌড়ে পালাতে উদ্ধত হন এবং সময় চান আরও ১৪ বছর। তবে ১৪ বছর পর আর দেখা হয়নি ইউসুফ-জুলেখার।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে