আপডেট : ২৯ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৬:০০

পিরিতি কাঁঠালের আঠা (দ্বিতীয় পর্ব): লাইলি-মজনু!

উম্মে জান্নাত
পিরিতি কাঁঠালের আঠা (দ্বিতীয় পর্ব): লাইলি-মজনু!

শাশ্বত প্রেম নিয়ে আমাদের নিয়মিত আয়োজন ‘পিরিতি কাঁঠালের আঠা’র প্রথম পর্বে আপনারা শুনেছেন শিরি-ফরহাদের অমর প্রেমের কাহিনী। দ্বিতীয় পর্বে আজ শুনুন আরো একটি কালজয়ী প্রেমের গল্প। আজকের প্রেমের জুটি লাইলি আর মজনু।

ইতিহাসের পাতায় আর সময়ের পরিক্রমায় মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে যে ভালোবাসার গল্পগুলো তার মধ্যে লাইলি-মজনুর অমর প্রেমগাঁথা আলোচিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যদিও কালজয়ী এই প্রেমের কাহিনীর সত্যাসত্য নিরূপণ করা এখন অনেকটাই কষ্টসাধ্য।

সময়ের বিবর্তনে নানা জাতি আর নানা দেশের মানুষের মুখে মুখে লাইলি-মজনুর গল্প বিবর্তিত হয়েছে নানাভাবে। যদিও অধিকাংশ কাহিনীতেই নায়ক মজনু আবির্ভূত হয়েছেন একজন রাজপুত্র ও কবি হিসেবে। অন্যদিকে, লাইলির পরিচয় হিসেবে বেদুইন সর্দারের মেয়ের পরিচয়টিই সবচেয়ে বেশি এসেছে।

ইতিহাসবিদদের একটি অংশ মনে করেন মজনু নামের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া প্রেমিক পুরুষটি প্রকৃতপক্ষে প্রাচীন আরবের বিখ্যাত কবি কয়েস বিন আমর। এদের ধারণা অনুযায়ী, আরবিতে ‘মজুনু বা মাজনুন’ শব্দটির অর্থ ‘প্রেমে উন্মাদ’ বলেই কয়েস-এর নাম কালক্রমে মজুনু হিসেবে পরিচিতি পায়।

কয়েস ওরফে মজনু ছিল আল বাহরামের সুলতান আমর-বিন-আবদুল্লাহ’র পুত্র। সুলতান রাজ্যচ্যুত হওয়ার পর পুত্র কয়েসকে সঙ্গে নিয়েই আশ্রয় নেন একটি সরাইখানায়। আর সে সময়ই কয়েস প্রেমে পড়েন হিজ্জা সর্দার আল মাহদীর কন্যা লায়লা ওরফে লাইলি’র।

কয়েসের সব কবিতাই ছিল এই লায়লাকে নিয়ে।

লায়লা আর কয়েসের এই প্রেমের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বুরিদানের বাদশা নওফেল। অসামান্য রূপসী লায়লাকে একবার দেখেই তার প্রেমে পড়ে যায় নওফেল। লায়লাকে পাওয়ার জন্য নানান কৌশলও করতে থাকে সে। তবে লায়লা’র পোষা হরিণ জিন্দান শিকারি নওফেলের তীরবিদ্ধ হয়ে মারা গেলে প্রেমের পরিবর্তে লায়লার অভিশাপই জোটে নওফেলের ভাগ্যে। জিন্দানের শোকে মুহ্যমান লায়লা কামনা করে নওফেলের অপমৃত্যু!

একসময় শাহজাদা কয়েস আর রূপবতী লায়লার বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়। তবে এরই মাঝে একটি ভিন্ন ঘটনা লাইলি-মজনুর প্রেমকে ঠেলে দেয় বিরহের প্রান্তরে। বিয়ের আসরে লায়লার পোষা কুকুর ওজ্জা’কে দেখে ব্যাকুল কয়েস বলে ওঠে ‘এই মুখে তুই লায়লার পায়ে চুমু খেয়েছিস’। আর এরপরই প্রেমের অতিশয্যে ওজ্জার মুখে চুমু খেয়ে বসে কয়েস! কয়েসের এই কাণ্ড দেখে উপস্থিত সবাই তাকে পাগল ভাবতে থাকে। বেঁকে বসেন স্বয়ং বাদশাহ্ও।

বিয়ের আসর থেকে অপমানিত হয়ে কয়েস নিরূদ্দেশ হয় মরুভূমির পথে। অন্যদিকে কোনো উপায়ান্তর না দেখে লায়লার পিতা সওদাগর আল মাহদি কুচক্রী নওফেলের সঙ্গেই লায়লার বিয়ের উদ্যোগ নেন। তবে ফুলশয্যার রাতে অবিশ্বাস্যভাবে ফলে যায় লায়লার দেওয়া অভিশাপ। নিজের হাতে পান করা শরবতের বিষক্রিয়ায় মারা যায় নওফেল। আর পোষা কুকুর ওজ্জাকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায় লায়লা।

প্রিয়তম কয়েসের খোঁজে মরুভূমির মরীচিকার মাঝে ঘুরতে থাকে লায়লা। কিন্তু সেই রাতের সাইমুম মরুঝরে রচিত হয় লাইলি-মজনুর প্রেমের সমাধি। পরদিন পথচলতি এক কাফেলা বালির স্তুপের নিচে আবিষ্কার করে লায়লা, কয়েস আর কুকুর ওজ্জার মরদেহ।

লাইলি-মজনুর মাজার শরীফ

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে