আপডেট : ২৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৮:১১

পিরিতি কাঁঠালের আঠা: শিরি-ফরহাদ

উম্মে জান্নাত
পিরিতি কাঁঠালের আঠা: শিরি-ফরহাদ

যুগে যুগে ‘প্রেম’ নামক এক অনন্যসুন্দর অনুভুতিকে ধারণ করে আসছে মানব সভ্যতা। নর-নারীর প্রেমের কারণেই সভ্যতার সৃষ্টি। আবার, এই প্রেমের কারণেই যে কত যুদ্ধ-বিগ্রহ হয়েছে, তা কে না জানে?

মনের মানুষকে নিজের মত করে না পাওয়ার মতন কষ্টের অনুভুতি পৃথিবীতে আর একটিও নেই, তাইতো লোকে বলে- ‘প্রেমের মরা জলে ডোবে না’!

কারণ, প্রেমের উল্টোপিঠেই আছে তার বিধ্বংসী রূপ! প্রত্যেক মানুষের জীবনের কোন না কোনো পর্যায়ে আসে প্রেম। বদলে দেয় জীবনকে।

প্রিয় মানুষকে দেখলেই মনের কোথায় যেন ভায়োলিন বেজে উঠে। চারদিক যেন হয়ে উঠে রঙিন!

যাই হোক, এতক্ষণ প্রেম নিয়ে অনেক তত্ত্ব-কথা হলো, এইবার শুনবো মানব ইতিহাসের অনন্য এক প্রেমের কথা! প্রেমের এই নিদর্শন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে কালে কালে অমর গাঁথা হয়ে।

আমাদের নিয়মিত আয়োজন ‘পিরিতি কাঁঠালের আঠা’র প্রথম পর্বে আজ থাকছে ইতিহাস আর বহু মিথের জন্ম দেওয়া ‘শিরি –ফরহাদ’ এর কথা-

শিরি-ফরহাদের প্রেম, এটি একটি প্রাচীন এই ইরানি লোকগাঁথা। নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এই গাঁথাকে। অনেক সূত্রের মধ্যে সবচেয়ে সমর্থনযোগ্য যে সূত্রগুলো পাওয়া যায় তাতে, শিরিন কে দেখানো হয়েছে রানি বা রাজকন্যা হিসেবে। তবে নায়ক ফরহাদের পরিচয় দিতে যেয়ে কেউ তাকে উল্লেখ করেছেন এক ‘বাঁধ নির্মাতা’ হিসেবে। আবার কেউবা তাকে আখ্যায়িত করেছেন স্থপতি বা ভাস্কর হিসেবে। এক্ষেত্রে যেসব ইতিহাসবিদ ফরহাদকে বাঁধ নির্মাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তাদের যুক্তি হলো, ‘ফরহাদ’ শব্দটি হলো ‘বৃত্ত’ বা বাঁধের কাছাকাছি।

এই ধারায় বিশ্বাসীদের বর্ণিত কাহিনীতে দেখা যায়, নায়িকা শিরি একসময় ফরহাদকে বলেছিল যে, ‘তুমি যদি ওই নদীতে বাঁধ তৈরি করতে পারো তাহলেই আমাকে পাবে।’

ফরহাদ শিরিকে পাবার জন্য এই অসম্ভবকে সম্ভব করার আশায় কাজে নামে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বাঁধ ভেঙে জলের তোড়ে মারা যায় ফরহাদ। আর তার দুঃখে শিরিও পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।

অন্যদিকে, আরেকটি নির্ভরযোগ্য কাহিনীতে ফরহাদকে দেখানো হয়েছে হতভাগা এক ভাস্কর হিসেবে। ফরহাদের বিশ্বাস এবং গর্ব ছিল যে তার বানানো মূর্তির চেয়ে সুন্দর দুনিয়ার আর কিছুই হতে পারে না। কিন্তু হঠাৎ করে কোহে আরমান রাজ্যের রাজকন্যা শিরির হাতে আঁকা একটি ছবি দেখে সেই অহঙ্কার চূর্ণ হয়ে যায় ফরহাদের। শিরির রূপেও পাগলপ্রায় ফরহাদ তখন একের পর এক শিরির মূর্তি গড়তে শুরু করেন।

একদিন উন্মাদপ্রায় ফরহাদের সাথে সামনাসামনি দেখাও হয়ে যায় শিরির। কিন্তু রাজ্য আর ক্ষমতার কথা চিন্তা করে ফরহাদকে ফিরিয়ে দেয় শিরি। তবে শিরির এই প্রত্যাখ্যান যেন ফরহাদের মনে নতুন করে জ্বালিয়ে দেয় প্রেমের আগুন। বেসাতুন পবর্তকে শিরির স্মৃতি ভাস্কর হিসেবে গড়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম শুরু করে সে। ফরহাদের এই ঘটনা শুনে শিরিও স্থির থাকতে পারে না। সিংহাসন তুচ্ছ করে সে ছুটে যায় বেসাতুন পর্বতে ফরহাদের কাছে। পরবর্তীতে এক ভূমিকম্পে দু'জনই একসঙ্গে প্রাণ হারায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে