আপডেট : ২২ জানুয়ারী, ২০১৬ ২০:০৮

যেখানে মানুষের প্রবেশ নিষেধ!

পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে আপনি চাইলেও যেতে পারবেন না। যেতে না পারার অন্যতম কারণ হলো আপনি মানুষ!
বিডিটাইমস ডেস্ক
যেখানে মানুষের প্রবেশ নিষেধ!

মানুষ যেতে পারে না, পৃথিবীতে এমন কোনও জায়গা কি থাকতে পারে?

মহাকাশেও ঘন ঘন যাতায়াত করছে যে মানুষ, পৃথিবীর বুকে কয়েকটা জায়গায় যেতে তার কী এমন অসুবিধে?

অসুবিধার কথা শুনেও যারা এখনো আগ্রহ হারাননি তারা শুনে নিতে পারেন এমন ৮টি জায়গার কথা।

নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপ:

তালিকায় সবার প্রথমেই যে জায়গাটির নাম আসবে, তা হলো আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ। সেখানকার নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপে মানুষ থাকে ঠিকই! তবে, সেই উপজাতি অন্য কোনও মানুষের সংসর্গ একেবারেই পছন্দ করে না। ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির এক পরিচালক একটা তথ্যচিত্র বানাবার উদ্দেশ্যে গিয়ে পৌঁছিয়েছিলেন সেই দ্বীপে। কিন্তু হিংস্র উপজাতিরা তার পায়ে বিষাক্ত তীর মারে। তারপর আর কেউই সেখানে যেতে খুব একটা ঝুঁকি নেয় না।

লাসক গুহা:

ফ্রান্সের দক্ষিণের এই গুহা আদিম মানুষের আঁকা গুহাচিত্রের জন্য বিখ্যাত। বিস্তৃত গুহার ছাদ, দেওয়াল জুড়ে শুধু রং আর রেখার কারিগরি। মুশকিল হল, গুহার ভিতর মানুষ ঢুকলে নিঃশ্বাসে ছাড়া কার্বনের প্রভাবে ছবিগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। তাই নিতান্ত প্রয়োজন না থাকলে প্রত্নতাত্ত্বিক ছাড়া অন্যদের গুহায় ঢুকতে দেওয়া হয় না।

মেট্রো ২:

পড়েই নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, এটা জায়গাটার ডাকনাম! এই বিশাল লম্বা মেট্রো টানেল রয়েছে রাশিয়ায়। প্রায় ৩০,০০০ মানুষের ঠাঁই হতে পারে এখানে। সবচেয়ে বড় কথা, ক্রেমলিন থেকে এফএসবি-র হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ রক্ষা করে এই সুড়ঙ্গ পথ। সেই জন্যই গুপ্ত হামলার ভয়ে এই সুড়ঙ্গে কখনো ট্রেন চালানো হয় না।

আইস গ্র্যান্ড শ্রাইন:

সূর্যদেবের এই মন্দিরের অবস্থান জাপান। সেখানে আশ্রম বানিয়ে থেকে তার পুজো করেন সন্ন্যাসী আর সন্ন্যাসিনীরা। কিন্তু, তাদের আশ্রমে যেতে পারেন না সাধারণ মানুষ। কারণ একটাই- সূর্যদেবের এই মন্দিরের সব সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনীরাই রাজবংশের মানুষ। ফলে, তাদের অভিজাত ধর্মাচরণে যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেই জন্যই এমন বন্দোবস্ত।

পূর্ব রেনেল, সলোমন দ্বীপ:

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের আওতায় থাকা এই দ্বীপের ভয় অন্যত্র! শোনা যায়, এই দ্বীপে না কি বাস করে দৈত্যরা! নরমাংস ভক্ষণের জন্য তাদের প্রসিদ্ধিও ভালই! ফলে, ওখানে গিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিতে চায় না কেউই!

ইস্টার দ্বীপ, চিলি:

এই দ্বীপে কোন ঝুঁকি নেই। কিন্তু, দূরত্ব এতটাই যে পর্যটকরা সেখানে যাওয়ার খুব একটা আগ্রহ বোধ করেন না!

স্নেক আইল্যান্ড:

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, এই দ্বীপ সাপেদের জন্য, মানুষের জন্য নয়। নিশ্চিত থাকতে পারেন, এখানে গেলে কয়েক পা এগেলোই কয়েক’শো করে বিষাক্ত সাপ চোখে পড়বে। তাই ব্রাজিল আর্মি এখানে সাধারণ মানুষকে যেতে দেয় না!

পোভেজিলা, ইতালি:

ভেনিস আর ইতালির মাঝের এই দ্বীপ ব্যবহার করা হত মানুষকে নির্বাসন দণ্ড দেওয়ার জন্য। একবার, ১৩৪৮ সালে ভয়াবহ এক মহামারীর মুখে পড়ে ভেনিস। তখন সমস্ত অসুস্থ মানুষকে এক জোটে নিয়ে গিয়ে রাখা হয় ওখানে। এবং, মৃত ভেবে অনেক অসুস্থ মানুষকেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই ওই দ্বীপ পড়ে আছে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে