আপডেট : ২০ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:৫৩

পৃথিবীতে প্রাণ এনেছে আগ্নেয়গিরি! নতুন সমীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পৃথিবীতে প্রাণ এনেছে আগ্নেয়গিরি! নতুন সমীক্ষা

প্রাণহীন এই পৃথিবীর কথা ভাবুনতো একবার। শুরুর দিকে কিন্তু পৃথিবী এমনই ছিলো। তারপর একসময় পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সঞ্চার হলো। সবুজ হলো পৃথিবী, হলো প্রাণ মুখর। কিন্তু কিভাবে প্রথম প্রাণের সঞ্চার হলো?

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটর একদল গবেষক সম্প্রতি দাবি করেছেন, পৃথিবীতে প্রথম প্রাণ এনেছে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত। ‘ন্যাচার জিওসাইন্স’ সাময়িকীর বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ এক প্রাতবেদনে এমনটাই জানিয়েছে।

প্রায় ৬৪০ থেকে ৭২০ মিলিয়ন বছর আগের কথা। সেই সময়ে পৃথিবী সুফলা না থাকলেও ছিল সুজলা। আর, সেই জলেরও বেশির ভাগটাই বরফ হয়ে মুড়ে রেখেছিল পৃথিবীকে। সেই সময়ের পৃথিবীকে তাই ‘স্নোবল আর্থ’ নামে ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানীরা।

স্নোবল আর্থ দেখতে এমনই ছিলো

এ ভাবেই কেটে গিয়েছিল প্রায় আরও দশ মিলিয়ন বছর। তার পরেই ঘটল এক আশ্চর্য কাণ্ড!

পৃথিবী বরফে ঢেকে ছিল ঠিকই, তবে সেই বরফের তলায় ঘটে চলছিল প্রকৃতির নিরন্তর খেলা। বরফে মোড়া সমুদ্রের নিচে ধীরে ধীরে মাথা চাগাড় দিচ্ছিল আগ্নেয়গিরি।

আর সেই সমুদ্রগর্ভে লুকিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণেই প্রাণ এল পৃথিবীতে। তেমনটাই অন্তত দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।

সমুদ্রগর্ভের আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে পৃথিবীর বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছিল প্রচুর পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড। মূলত তারই বিক্রিয়ায় বরফ গলে এবং প্রাণ তৈরির মতো অনুকূল পরিবেশ জেগে ওঠে।

তবে, শুধুই কার্বন নয়। আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে বেরিয়ে এসেছিল ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকা আর ফসফরাস। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, এই ফসফরাস বেশ বড়সড় এক ভূমিকা পালন করেছিল প্রাণ সৃজনে।

পৃথিবী যখন বরফে মোড়া ছিল, সেই সময়ে প্রাণ ছিল কেবল সমুদ্রগর্ভে। সমুদ্রগর্ভে তখন ভেসে বেড়াত এককোষী ব্যাকটেরিয়া। সেখান থেকে এই ফসফরাসের বিক্রিয়াতেই শুরু হল কোষ বিভাজন। এবং, ধীরে ধীরে এককোষী থেকে দ্বিকোষী, তার থেকে বহুকোষী বিভাজন হয়ে আজকের প্রাণীজগতের বিবর্তনের রূপরেখাটি এসেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে