আপডেট : ১৪ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৮:৪৫

সাহারায় মাংসখেকো দৈত্য!

অনলাইন ডেস্ক
সাহারায় মাংসখেকো দৈত্য!

পৃথিবীর সব মরুভূমিগুলোই খুব রহস্যময়। দুর্গমও বটে! তবে রহস্য এবং দুর্গময়তায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি সাহারা যে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে এটা হলফ করেই বলে দেয়া যায়। দশটি দেশে বিস্তৃত মরুভূমিটি আমাদের দেশের চেয়েও প্রায় ৬৩ গুণ বড়।

এখানেই খোঁজ মিলেছে বিশাল আকারের এক সামুদ্রিক দৈত্যের। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মাংসখেকো এই দৈত্যই এক সময় জলে-স্থলে শাসন করেছে।

কুমির যে এত বড় হতে পারে, বৈজ্ঞানিকদের সে ধারণাই ছিল না। তিউনিশিয়ার সাহারা মরুভূমিতে অভিযানের সময় বলগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডরিকো ফ্যানটি দৈত্যাকৃতির ওই কুমিরের জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন। সদ্য আবিষ্কৃত কুমিরটি লম্বায় অন্তত ৩০ ফুট, ওজন তিন টনের আশেপাশে।

ফ্যানটি বলছেন, “কুমিরটি শুধু বড়ই নয়, দৈত্যাকৃতিরও। আস্ত একটি বাসের মত বড়।” কুমিরটিকে ‘ম্যাচিমোসারাস’ শ্রেণির প্রাণীর তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিকদের অনুমান, তৎকালীন সময়ে খাদ্য শৃঙ্খলের একেবারে উপরে অবস্থান করত প্রাণীটি। মাছ-সহ সামুদ্রিক প্রাণীদের মেরে তাদের মাংস খেত ওই ‘রাক্ষুসে’ কুমির।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি কমিটি ফর রিসার্চ অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন টিমটির সঙ্গে সাহারা মরুভূমিতে নয়া প্রাণীর খোঁজ চালাচ্ছিলেন ফেডরিকো ফ্যানটি। তিনি বিলক্ষণ জানতেন, ওই তল্লাটে জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়ার বিস্তর সম্ভাবনা রয়েছে। সেই মতই চলছিল তল্লাশি অভিযান! আর তারই ফল মিলল হাতেনাতে।

গবেষকরা বলছেন, যে প্রাণীটির জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়া গিয়েছে সেটি উচ্চশ্রেণীর। সমুদ্রের নিচে সাক্ষাৎ মৃত্যুর নাম ছিল ওই কুমির। তার ছোট অথচ ধারালো দাঁতের কামড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত সামুদ্রিক প্রাণীরা। সমুদ্রের ত্রাস ছিল ওই কুমির। সম্ভবত বড়সড় এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়েই ‘ম্যাচিমোসারাস’ শ্রেণির কুমিরটি জীবজগৎ থেকে মুছে যায় বলে বৈজ্ঞানিকদের ধারণা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে