আপডেট : ১৪ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:৫৫

হাঙর যখন বাঁশ!

মির্জা শ্রাবন
হাঙর যখন বাঁশ!

হাঙর! বাঁশ! নাহ্, কোনটির সঙ্গে কোনটির মিল নেই। হাঙর শব্দটি শুনলেই কেমন একটি হিম শীতল ভয় মেরুদন্ড বেয়ে নেমে যায়। চোখে ভেসে ওঠে একটি সামুদ্রিক হিংস্র মাছের ছবি, যেটি আর দশটি মাছ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

আর বাঁশ শব্দটি প্রত্যেক বাঙালির কাছে অন্যরকম মানে বয়ে আনে, দুষ্টুমি খেলে যায় ঠোঁটের কোণ বেয়ে। তবে এ দুটি শব্দ পাশাপাশি বসে তৈরি হয় বাঁশ হাঙর।কি ভাবছেন, সময় নষ্ট করে এসব কি সব পড়ছেন। ভাবনাটি ফেলে দিয়ে বরং আপনার তথ্যভান্ডারে যোগ করুন কিছু অজানা তথ্য।

সমুদ্র! বড় বড় ঢেউ, নীলাভ পানি। কত-শত বিচিত্র প্রাণির বাস। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হাঙর। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২২৫ প্রজাতির হাঙর রয়েছে। এরমধ্যে একটি ব্যতিক্রমধর্মী হাঙরের নাম ব্যাম্বো শার্ক যার বাংলা করলে দাঁড়ায় বাঁশ হাঙর। বৈজ্ঞানিক নাম Chiloscyllium Plagisum।

এদের দেখা মেলে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবাল দ্বীপে। বাদামী, হলুদাভ বা সাদা রঙের এ হাঙরের গায়ে কালো ছোপ ছোপ দাগ থাকে। এছাড়া পুরো শরীর জুড়ে অনেক সময় কালো ছোট গোল দাগ থাকে।  যা অনেকটাই বাঁশের মতোন দেখতে। এ জন্যই এমন নামকরণ। আকৃতিতে খুব বেশি বড় নয় এ হাঙর। সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। শুধু নামে নয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্যও আলাদা এই ক্ষুদে হাঙর।

অবিশ্বাস্য হলেও নিশাচর এই হাঙর মানুষের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়। ২৬ থেকে ৩৫টি দাঁত থাকলেও সেগুলো খুব দুর্বল প্রকৃতির। তাই আপনার ড্রয়িং রুমের অ্যাকুরিয়ামে ঠাঁই পেতেই পারে বিচিএ এ মাছটি। হাঙর সমুদ্রে দাপটের সঙ্গে সাঁতরে বেড়ায়। ভয়ে কুঁকড়ে থাকে অন্যসব সামুদ্রিক মাছ-প্রাণি। কিন্তু অদ্ভুদ বিষয় হাঙরের অন্য প্রজাতির মতো বাঁশ হাঙর সাঁতার কাটতে পারে না। বরং গুটি গুটি পায়ে হেঁটে বেড়ায় সমুদ্রের তলদেশ জুড়ে। খাবার হিসেবে গ্রহণ করে ছোট ছোট মাছ। তবে অন্য প্রজাতির হাঙরের মতোই ডিম ফুটে বাচ্চা হয় বাঁশ হাঙরের। ডিমের আকৃতি প্রায় পাঁচ ইঞ্চির মতো। ১৪ থেকে ১৫ সপ্তাহ পরে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম

উপরে