আপডেট : ৫ জানুয়ারী, ২০১৬ ১১:৪২

সঙ্গী যখন সহকর্মী!

মির্জা শ্রাবন
সঙ্গী যখন সহকর্মী!
ছবি প্রতিকি

নারীদের আবার কাজ! সেইতো রান্না-বান্না অথবা সুই-সুঁতো চালাচালি।নাহ্, সময় পাল্টেছে, বদলে গেছে নারীদের কাজের ধরন।বিচিত্র পেশায় কাজ করছেন তাঁরা।বেশ ভালোভাবেই উতরে যাচ্ছেন মেধার পরীক্ষায়।অনেক সময় হার মানিয়ে দিচ্ছেন পুরুষ সহকর্মীকেও।তবুও মাঝেমধ্যে অফিসে নানা বিব্রতকর পরিবেশে পড়তে হয়, পোহাতে হয় বিচিত্র ঝামেলা।

সঙ্গী, সে হোক বয়ফ্রেন্ড বা স্বামী!অফিসে সহকর্মী হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যাতায়াতসহ অনেক বিষয়ে সহযোগিতা পাওয়া যায়।আবার উল্টোটাও ঘটতে পারে।মাঝেমধ্যে পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবন এক সুঁতোয় গেঁথে যেতে পারে।তখন আলাদা করতে গিয়ে নিজেদের সম্পর্কে শুরু হয় টানাপোড়ন।বাড়তে থাকে দুরত্ব।এমনকি পরিণতির শেষ ধাপ হতে পারে সম্পর্কের ভাঙন।তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে এমন অনাকাঙ্খিত পরিণতি এড়িয়ে যাওয়া যায় সহযেই।এতে যেমন বজায় থাকে পেশাদারিত্ব, তেমনি টেকসই হয় সম্পর্ক।

অফিসে উভয়কেই সব সময় পেশাদার আচরণ করতে হবে।ভুলে যেতে হবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি। যদিও সব সময় তা সম্ভব নয়।ইচ্ছা হতে পারে একান্তে সময় কাটাতে অথবা প্রিয়জনের হাতটি ছুঁয়ে দিতে।তবে অন্যদের কাছে দৃষ্টিকটু এমন কোন কাজ করা উচিত নয় অফিস চত্বরে।অন্য সহকর্মীদের মতো স্বাভাবিক আচরণেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে নিজেদেরকে।

কাজের ফাঁকে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা হতেই পারে।এমনকি রাতের রান্না কি হবে বা অফিস শেষে কোথায় বেড়াতে যাওয়া যায় তাও ঠিক করা যায়।তবে সেটি অন্যের সামনে নয়। অথবা দেখা হলে একটু মিস্টি হাসি। এতে দোষের কিছু নেই। বরং পরস্পরের প্রতি আস্থা বাড়বে।তবে আবদার-আহ্লাদ না করাই ভালো।

অফিসকে ব্যক্তিগত গন্ডির বাইরে আলাদা করেই রাখতে হবে। এখানে যেমন পরস্পরের প্রতি ব্যক্তিগত অধিকারের বিষয়টি ভুলে যেতে হবে, তেমনি বসের থেকে না বোধক কথাও শোনার মানসিকতা রাখতে হবে সঙ্গীর। তর্ক না করে কাজের ক্ষেত্রে বসের চাহিদা বুঝতে হবে, সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। তেমনি বসকেও সহকর্মী হিসেবে সঙ্গীর কাজের ধরন, যুক্তি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। বস হিসেবে অহেতুক কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া যাবে না।

যানজটের নগরীতে একসাথে যাতায়াত বেশ কিছুটা স্বস্তিদায়ক।এতে রাস্তার ঝক্কি যেমন কমে যায়, তেমনি প্রয়োজনীয় অনেক আলাপ সেরে নেওয়া যায়।আর গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড হলেও নিজেদের মধ্যে বোঝাপারাটা হয় মজবুত।সুযোগ মেলে দুজন দুজনকে ভালোভাবে জানার।তবে মাঝেমাঝে অফিসের অন্যদের সঙ্গেও সময় কাটানো উচিত। খেতে যাওয়া থেকে শুরু করে বেড়াতে যাওয়া।এতে অফিসের সবার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ভালো থাকে।কারণ যেকোন সম্পর্কেই যত্নটা বেশ জরুরি।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক যতই অফিসের বাইরে রাখা হোক না কেন, একই অফিসে স্বামী-স্ত্রী বা গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড কাজ করলে কানকথা হবেই।কোনভাবেই তা আটকানো যাবে না।তাই সে সবে পাত্তা না দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।এসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে কখনো ঝগড়া বা তর্ক করা যাবে না।প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বরং বিষয়টি উপভোগ করার চেষ্টা করতে হবে।কাজ করতে গিয়ে অনেক বিষয়েই দ্বিমত হতে পারে।হতে পারে কিছু তিক্ততাও।এসব বিষয় নিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে যেন প্রভাব না ফেলে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

অন্যের সামনে রাগারাগি যেমন না করাই ভালো, তেমনি অতিরিক্ত তোষামোদেরও দরকার নেই।আর সবকিছু সরাসরি বলতে হবে তেমনটি নয়, কিছু বিষয় আড়ালে বো গোপনেও শুধরে দেয়া যায়।আর মনে রাখতে হবে, পেশাদারিত্ব যেমন কাঙ্খিত, তেমনি সব কিছুর উর্ধ্বে সম্পর্ক।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম

 

উপরে