আপডেট : ৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:৫২

‘কিডনি’ বেচার গ্রাম!

লাগবে কারো?
মির্জা শ্রাবন
‘কিডনি’ বেচার গ্রাম!

কিডনি গ্রাম! কি ভাবছেন, মানুষের অঙ্গের নামানুসারে গ্রামের নাম! ভাবতে অবাক লাগে। তবে নাম শুনে যত না অবাক হয়েছেন, নামকরণের ইতিকাস জেনে ততটাই কষ্ট পাবেন। হিমালয়ের কন্যা নেপাল। তারই একটি প্রত্যন্ত গ্রাম ‘কিডনি’। শুরু থেকেই কিন্তু এই গ্রামের নাম ‘কিডনি’ ছিলো না। কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে গ্রামের পূর্বনাম। এমনকি জানাও যায় নি কি ছিলো গ্রামের নামটি।

যাইহোক ফিরে আসি মূল কথায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি মানুষের দুটো কিডনি থাকে। অথচ এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই একটি কিডনি নিয়ে বেঁচে আছেন। বাংলাদেশের গ্রামের দরিদ্র মানুষ যেমন অভাবে পড়লে, খাবারের যোগার না হলে নানীর দেয়া সোনার চিকন বালাগাছি বা বিয়ের সময়ের একমাত্র গহনাটি নিয়ে বন্ধক দিতে ছুটে যায় বা বেঁচে দেয়। তেমনি নেপালের কিডনি গ্রামের লোকজন টাকার প্রয়োজন হলেই ফিরে তাকায় নিজের শরীরের প্রতি, ছুটে যায় দালালের কাছে। ৮০ থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে শরীরের অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গটি।

এ গ্রামের ১৭ বছরের ছেলেটিও যেমন কিডনি বিক্রি করছে, ৪৭ কিংবা ৫৭ বছরের মানুষটিও একই কাজ করছেন। তারা দরিদ্রতার কাছে হার মেনে একটি কিডনি নিয়েই বেঁচে আছেন। দিব্যি কাজকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। যেখানে দুবেলা অন্ন জোটাতে কিডনি খোয়াতে হয়, সেখানে শিক্ষার আলো পৌঁছবে কি করে! তাই তারা হয়তো জানেই না এর কুফল। অথবা নগদ টাকার কাছে পরাজিত হয় ভবিষ্যতের শারীরিক যন্ত্রণা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বাড়ছে কিডনি বিক্রি। গত কয়েক দশক ধরেই গ্রামের চিত্র এমন।

জানা গেছে, গুটিকয়েক পরিবার নিয়ে গড়ে উঠেছে গ্রামটি। দরিদ্রতা তাদের নিত্যসঙ্গী, দুবেলা অন্ন জোটে না। তাই নবীন-প্রবীণ সবাই বাধ্য হয়েই কিডনি বিক্রি করে বেঁচে আছেন, প্লেটে খাবার তুলছেন। আর এই সুযোগটিই নিচ্ছেন একদল অসাধু ব্যবসায়ী। সেখানে ডেরা গেড়েছে কিডনি বেঁচা-কেনার দালালেরা। গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন ভয়ংকর এই কিডনি ব্যবসা।

পাশাপাশি, মোটা অংকের টাকা পেয়ে উৎসাহিত হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। ব্যবসায়ীদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন। এভাবেই শুরু হয় কিডনি বিক্রি। হিড়িক পড়ে যায় কিডনি বিক্রির। একটি কিডনি বিক্রি করে যদি মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়া যায়, আবার বেঁচেও থাকা যায়, লাভস্বরুপ জীবন ধারণ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়, তাতে ক্ষতি কি ! এভাবেই যাত্রা কিডনি গ্রামের। এভাবেই কিডনি বিক্রির খেরো খাতায় নাম লেখাতে শুরু করে এ গ্রামের যুবক-যুবতী থেকে বৃদ্ধরা।

ছোট একটা অস্ত্রোপাচার। একটা কাটা দাগ । খানিকটা বিশ্রাম। তারবাদে বোঝাই যাবে না শরীরের একটি অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ বাদ দিয়েছেন। ক্ষুধা-দারিদ্রের কষাঘাতে ক্লান্ত চোখে চকচকে টাকার কতগুলো নোট নেশা লাগিয়ে দেয়, গ্রামবাসীরা হাতে পেতে প্রলুব্ধ হয় সেই টাকা। তাই এ গ্রামে রীতিতে পরিণত হয়েছে কিডনি বিক্রি। টাকার দরকার হলেই পরিবারের কোন না কোন সদস্য কিডনি বিক্রি করেন। পেয়ে যান কাঙ্খিত টাকা। তবে সে টাকা অঙ্কে কখনোই এক লাখের বেশি নয়!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম

উপরে