আপডেট : ৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:৪৯

ভালোবাসার বিরল দৃষ্টান্ত; বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!

অনলাইন ডেস্ক
ভালোবাসার বিরল দৃষ্টান্ত; বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!

পৃথিবীতে ভাইয়ে ভাইয়ে চলছে অবিশ্বাস, বিচ্ছেদ, স্বার্থ নিয়ে টানাপোড়ন, হানাহানি, সংঘাত।দেশে দেশে চলছে যুদ্ধ-বিগ্রহ। ভুলুন্ঠিত মানবতা যখন মৃত্যুর সন্নিকটে দাঁড়িয়ে খাবি খাচ্ছে তখন ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের মূর্ত প্রতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে পশুর ভালবাসা।

রাশিয়াতে বাঘ আর ছাগলের মধ্যে এমনই এক বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে রাশিয়ার একটি সাফারি পার্কে আমুর নামের একটি বাঘকে খাবার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল একটি জ্যান্ত ছাগল।

কিন্তু চারদিন পরের ঘটনা দেখে সবাই অবাক।ছাগলকে না খেয়ে বাঘটি তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে বসে আছে। তারা পরস্পরের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে যায়। এমনকি বন্ধু ছাগলের জন্য নিজের ঘুমানোর জায়গাটিও ছেড়ে দিয়েছে বাঘটি। তারা এখন একসঙ্গেই ঘুরে বেড়ায়। ঘুমায়ও একই সঙ্গে।

চিড়িয়াখানায় আসা দশনার্থীরা অবাক হচ্ছেন হিংস্র পশু বাঘের সঙ্গে ছাগলকে ঘুরতে দেখে। এ কারণে বাঘে-ছাগলের বন্ধুত্বের ভক্ত হয়ে গেছেন অনেকে। ওয়েবক্যামের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা সরাসরি দেখছেন এই বিরল বন্ধুত্বের দৈনিক কর্মকান্ডও।

এই দুজনের নামে ফেইসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে খোলা হয়েছে অ্যাকাউন্ট।

ওই চিড়িয়াখানার পরিচালক দিমিত্রি মেজেনস্তেভের বলেন “প্রায় তিন বছর ধরে আমুর এই চিড়িয়াখানায় আছে। সপ্তাহে দুইদিন তাকে ছাগল খেতে দিতে হতো।

“আমরা একদিন তাকে তিমুর নামের ওই ছাগলকে খেতে দেই। কিন্তু চারদিন পর দেখি বাঘটি তিমুরকে খায়নি। এটা খুবই বিস্ময়কর একটা ঘটনা”।

তিনি আরও বলেন, “বাঘটা এতটা ক্ষুধার্ত ছিল সে কয়েক সেকেন্ডে তিমুরকে খেয়ে ফেলতে পারতো। কিন্তু এটা তিমুরেরই সাহসিকতা যে, সে বাঘটির সঙ্গে বন্ধুত্ব পেতেছে।

তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এদেরকে আলাদা করবোনা, একসাথেই রাখবো”।

এ ঘটনা থেকে মানুষের শিক্ষা নেয়ার অনেক কিছুই আছে উল্লেখ করে মি. মেজেনস্তেভ বলেন, “এদের সম্পর্ক দেখে মানুষেরও শেখার কিছু রয়েছে । বিশ্বে যেসব যুদ্ধ হানাহানি চলছে, মানুষ যদি মানবিক হতে শেখে তাহলে নিরীহ প্রাণগুলো বেঁচে যেত”।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে