আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২১:৪৪

দরিদ্রদের খাবার দিচ্ছে ‘রুটি ব্যাংক’

বিডিটাইমস ডেস্ক
দরিদ্রদের খাবার দিচ্ছে ‘রুটি ব্যাংক’

প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খাবার দেওয়া হয়। যার মধ্যে থাকে কমপক্ষে দুটি রুটি সঙ্গে আমিষ কিংবা নিরামিষ যেকোনো পদের একটি খাবার। এই খাবার দেয়া হয় একটি ব্যাংক থেকে। নাম রুটি ব্যাংক (Roti Bank)।

ভারতে এমন এক ব্যাংক আছে, যেখানে কোনো অর্থ জমা রাখা হয় না; জমা নেওয়া হয় খাবার। এই রুটি ব্যাংকে জমা নেওয়া হয় বিভিন্ন ধরনের খাবার। আর দিন শেষে সেসব খাবার বিলি করা হয় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দরিদ্র মানুষের মধ্যে।

যাঁরা দুবেলা একমুঠো খাবার জোগাড় করতে রীতিমতো নাস্তানাবুদ হন, শুধু তাঁদের অন্ন সংস্থানের কথা মাথায় রেখেই চালু হয়েছে এই অভিনব ব্যাংক। দুস্থ মানুষের কথা মাথায় রেখে এই ‘রুটি ব্যাংক’ তৈরি করেছেন হারুন মুকতি ইসলামিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা হারুন মুকতি। তাঁর একটু একটু করে সংগ্রহ করা খাবার দিয়ে তৈরি হয়েছে এই ব্যাংক। আর এটি তৈরিতে হারুন মুকতিকে সাহায্য করেছেন তাঁর স্ত্রী ও বোনেরা। উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বুন্দলখন্ডে এই মহান মানুষটির বাস।
এই ব্যাংকে যেকোনো ধর্মের মানুষ খাবার দান করতে পারেন। দান করা খাবার অবশ্যই তাজা এবং ভালো হতে হবে। তার পর সেই খাবার বিলিয়ে দেওয়া হয় দুস্থ মানুষের মধ্যে।

এই ব্যাংক থেকে কোন ভিক্ষুক খাবার নিতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে হারুন মুকতি ব্যাখ্যা হলো- ভিক্ষুকরা তাদের পেশাগত কারণে বিনাশ্রমে এই সুবিধা গ্রহণ করে ফায়দা লুটতে পারে—এ কথা মাথায় রেখেই ব্যাংকে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করা ব্যক্তিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শুধুমাত্র গরিব ও দুস্থরা নিতে পারেন ‘রুটি ব্যাংক’-এর খাবার। খাবার গ্রহণের বেশ কিছু নিয়ম আছে। রুটি ব্যাংক থেকে নির্দিষ্ট ফরম নিয়ে এখানকার সদস্য হওয়ার পরেই মিলবে খাবার। ভিক্ষুক ছাড়া যেকোন দুস্থ লোকই এই ব্যাংকের সদস্য হতে পারেন।

বিভিন্ন ধর্মের মানুষ তাঁদের বাড়িতে বেচে যাওয়া খাবার দিয়ে যাচ্ছেন এখানে। খাবার আসছে বিভিন্ন বিয়েবাড়ি থেকেও। অতিরিক্ত খাবার মজুদ করে রাখার জন্য ব্যাংকে আনা হয়েছে বিশালাকার ফ্রিজ।

বিভিন্ন ফ্লাইট কিচেন, করপোরেট অফিস, রেস্তোরাঁ ও হোটেলের কাছে আবেদন ব্যাংকের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো আছে। যেন তারা তাদের বাড়তি খাবার এই রুটি ব্যাংকে দান করেন।

উপরে