আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:১১

তারুণ্যদীপ্ত ত্বক পেতে কাঁচা দুধের ব্যবহার

অনলাইন ডেস্ক
তারুণ্যদীপ্ত ত্বক পেতে কাঁচা দুধের ব্যবহার

প্রাচীন মিশরের রাণী অপূর্ব সুন্দরী ক্লিওপেট্রার কাঁচা দুধে গোসলের গল্প তো কমবেশি অনেকেই শুনেছি আমরা। সৌন্দর্যচর্চায় কাঁচা দুধের ব্যবহার কিন্তু প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে। কাঁচা দুধের ক্লিঞ্জিং, টোনিং আর ময়েশ্চারাইজিং প্রোপার্টির কারণে আপনার ত্বকের ধরণ যেমনই হোক না কেন কাঁচা দুধ ব্যবহার করলে স্কিনে গ্লো ফিরে আসবেই। চলুন তাঝলে এক নজরে দেখে নেয়া যাক, কাঁচা দুধের যত গুণ।

তারুণ্যদীপ্ত ত্বক পেতে সুন্দর তারুণ্যময় ত্বক পেতে মুলতানি মাটির সাথে কাঁচা দুধ মিক্স করে ফেসপ্যাক বানিয়ে নিন। একদিন পরপর আধঘণ্টার জন্য অ্যাপ্লাই করুন। যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয়, তাহলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। আর যদি ত্বক শুষ্ক হয়, তাহলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটায় মুখ ধুয়ে নিন।

ক্লিঞ্জার হিসেবে অল্প একটু তুলো নিয়ে সেটা কাঁচা দুধে ভিজিয়ে পুরো মুখ আস্তে আস্তে মুছে নিন। তুলোতে যে কি পরিমাণ ময়লা উঠে আসবে, সেটা দেখে আপনি নিজেই অবাক হবেন। ক্লিঞ্জার হিসেবে কাঁচা দুধের তুলনা হয় না।

ত্বকের আসল রঙ ফিরিয়ে আনতে অনেকেরই ময়লা জমে, বা রোদে পুড়ে গায়ের রঙ নষ্ট হয়ে যায়। দুই চা চামচ কাঁচা দুধে ১ চা চামচ লেবুর রস মিক্স করে পুরো মুখে, গলায়, হাতে, পায়ে লাগিয়ে আধঘণ্টার জন্য রেখে দিন। যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয়, তাহলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। আর যদি ত্বক শুষ্ক হয়, তাহলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটায় মুখ ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের রঙে সামঞ্জস্যতা আসবে এবং উজ্জ্বল হবে।

শুষ্ক ত্বকের ডিপ ময়েশ্চারাইজার হিসেবে যাদের স্কিন অনেক বেশি ড্রাই, তারা রাতে ঘুমোতে যাবার আগে একটা তুলোর বল কাঁচা দুধে ভিজিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ঠাণ্ডা পানির ঝাপটায় মুখ ধুয়ে নিন। এবার আপনার পছন্দের ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে নিজের নরম, কোমল আর দীপ্তিময় ত্বক দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাবেন!

রোদে পোড়াভাব দূর করতে একটা পাতলা কাপড় কাঁচা দুধে ভিজিয়ে নিঙরে রোদে পোড়া স্কিনের (মুখ, গলা, হাত, পা) উপর আধঘণ্টার জন্য রেখে দিন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন ব্যবহারে রোদে পোড়াভাব আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।

স্ক্রাব হিসেবে চালের গুঁড়োর সাথে কাঁচা দুধ আর মধু মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে নিন। সপ্তাহে কমপক্ষে ২-৩দিন এটা দিয়ে স্কিনকে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করে স্ক্রাবিং করে নিন ১০ মিনিটের জন্য। স্কিনের ডেডসেলসগুলোকে দূর করে স্কিনকে আরো বেশি উজ্জ্বল আর প্রাণবন্ত দেখাতে সাহায্য করবে।

উজ্জ্বল ত্বক পেতে বেসন, একটুখানি কাঁচা হলুদ গুঁড়ো, কাঁচা দুধ মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে লাগাতে পারেন। ত্বকের কালচেভাব দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করবে।

ব্রণের দাগ দূর করতে ব্রণের দাগের উপরে প্রতিদিন কাঁচা দুধ আর মধু একত্রে মিশিয়ে আধ ঘণ্টার জন্য লাগিয়ে রাখুন। আধঘন্টা পর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। আস্তে আস্তে দাগ চলে যাবে।

দাগহীন ত্বক পেতে দাগমুক্ত উজ্জ্বল ত্বক পেতে ৫/৬টা কাঠবাদাম আর কাঁচা দুধ ব্লেন্ড করে বা বেটে পেস্ট বানিয়ে নিন। মুখে অ্যাপ্লাই করুন, আধঘণ্টা পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। একদিন পরপর ব্যবহারে ধীরে ধীরে ত্বকের দাগ নির্মূল হয়ে উজ্জ্বল দীপ্তিময় ত্বকের দেখা পাবেন।

ঠোঁটের কালচেভাব দূর করতে ঠোঁটের কালচেভাব দূর করতেও কাঁচা দুধের জুড়ি নেই। তুলোর বলে ৫ মিনিট ধরে কাঁচা দুধ নিয়ে ঠোঁট মুখে ভালো মানের লিপবাম অ্যাপ্লাই করুন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রুমা

উপরে