আপডেট : ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:০৯

গরমে কেমন হবে পূজার সাজ

অনলাইন ডেস্ক
গরমে কেমন হবে পূজার সাজ

শুরু হয়ে গেছে শারদীয় দুর্গাপূজা। সাজগোজ, রান্না আয়োজন, অতিথি আপ্যায়ন, ঘোরাঘুরি নিয়ে সব বয়সীদের আনন্দের কোনো শেষ নেই যেন। প্রকৃতিতে এখনও বেশ গরম আবহাওয়া থাকায় সারাদিনের সাজগোজ নিয়ে একটু ভাবতেই হবে মেয়েদের। পূজার দিন পোশাকের সঙ্গে মানানসই এবং গরম বিবেচনায় সাজগোজের কথা মনে রাখবেন।

মেকআপ শুরুর ১০ মিনিট আগে ত্বক ভালোমতো পরিষ্কার করে নিয়ে একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে নিয়ে যে স্থানে মেকআপ করবেন ত্বকের সেসব স্থানে পুরো ১০ মিনিট ধরে বরফ ঘষে নেবেন। বরফ ঘষা শেষ হলে ত্বক মুছে নিয়ে মেকআপ করুন। এতে ত্বক সজিব লাগবে ও মেকআপ দীর্ঘসময় ঠিক থাকবে।

মনে রাখতে হবে যে গরমে ঘেমে গেলে আমাদের লোমকূপের গোড়া থেকে ঘাম ও তেল বের হয়ে মেকআপ নষ্ট হয়। এজন্য ওয়াটারপ্রুফ প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে।

টিস্যু দিয়ে মেকআপ ঠিক করতে গেলে উল্টো তা আরও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। টিস্যুর পরিবর্তে ব্যাগে রাখুন মেকআপের স্পঞ্জ । মেকআপ ঠিক রাখার জন্য খানিকক্ষণ পরপর মেকআপের স্পঞ্জ দিয়েই ঠিক করে নেওয়া যায়।

গরমে হালকা আরামদায়ক পোশাক পরুন। এবার ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন মুখে ও গলায় লাগিয়ে একটা ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ফাউন্ডেশন দেয়ার পরও মুখে যদি ভাঁজ বা দাগ থাকে তাহলে কনসিলার ব্যবহার করুন। এবার কমপ্যাক্ট পাউডার দিন।

বেস মেকআপ অ্যাপ্লাই করার পর চেহারা বা ত্বকের ন্যাচারাল শেড ঢাকা পড়ে এক ধরনের ফ্ল্যাট লুক আসে। তাই প্রতি ক্ষেত্রেই ডার্ক শেড ব্যবহার করে আবারো চেহারার শার্পনেস ঠিক করে নিতে হবে। তাই বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন আপনার পূজার সাজ যেন হয় হালকা।

চোখ সাজানো

চোখে ফাউন্ডেশন লাগানোর সময় চোখের ওপর ও নিচে ভালো করে মিলিয়ে দিন। চোখের তলায় কালো থাকলে কনসিলার দিন। ফেস পাউডার ব্যবহার করলে ব্রাশ দিয়ে পাউডার ভালোভাবে ঝাড়ুন। চোখের পুরো পাতায় বেস আইশ্যাডো লাগান। পোশাকের সাথে মিলিয়ে বা দুই বা তিনটি শেড মিলিয়ে আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। ভ্রূ`র ঠিক নিচে হাইলাইটার লাগান। কাজল শুধু চোখের ভেতর লাগান, ওপরে ও নিচে আইলাইনার লাগান। যারা আইলাইনার ব্যবহার করতে চান না, তারা একটু গাঢ় করে কাজল লাগাতে পারেন। এরপরে মাশকারা লাগিয়ে নিন।

নাক

নাক একটু ছোট ও মোটা হলে দু’পাশে ডার্ক শেডের ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। এতে করে নাক শার্প দেখাবে। নাকের ওপরের অংশে লাইট শেডের ফাউন্ডেশন এবং কমপ্যাক্ট লাগিয়ে নিন।

ব্লাসন

গোলাপী, বাদামী শেডের ব্লাসন ব্রাশে নিয়ে নিন। একটু হেসে নিয়ে আপনার গালের আপেল পয়েন্ট সিলেক্ট করুন এবং চিক বোন এ ব্লাসন লাগান। আপনার মুখ যদি ফোলা টাইপের হয় তবে গোলাপী ব্লাসন দেবেন না, এতে মুখ আরও ফোলা লাগে।

ঠোঁট

লিপস্টিক লাগানোর সময় প্রথমে ঠোঁটে একটু পাউডার লাগিয়ে নিলে ভালো হয়। তারপর লিপ পেন্সিল দিয়ে হালকা করে আউট লাইন এঁকে নিন। তারপর ঠোঁটের মাঝখানে লিপ ব্রাশ দিয়ে লিপস্টিক লাগিয়ে নিতে পারেন অথবা সরাসরি লিপস্টিক দিয়েও ভরে দিতে পারেন। গরমে একটু হালকা রং-এর লিপস্টিক ব্যবহার করুন।  লিপগ্লসও লাগাতে পারেন।

চুল

চেহারার ধরন, সময়, পোশাক, কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন তার সঙ্গে মানিয়ে চুল সাজাতে হবে। কারণ, ঠিকঠাক মতো চুলের স্টাইলই এনে দিতে পারে আপনার সাজের পরিপূর্ণতা। আর পরিপূর্ণ একটি সাজ আপনার ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে সহায়ক। তাই কৌশল হিসেবে আগেভাগেই চুল বাঁধার কয়েকটি ধরন রপ্ত করে রাখতে পারেন। এবারের পূজায় পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ঝটপট চুলের সাজটি সেরে নিতে আর বেগ পেতে হবে না।

অনুষঙ্গ

পূজায় সাজের ক্ষেত্রে অনুষঙ্গ সামগ্রী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কানের দুল, গলার মালা, নাকের নথ, খোঁপার কাঁটা, সিঁথিতে সিঁদুর এসবই পূজার সাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়ার ভিন্ন ভিন্ন ধরন আছে কিন্তু বিবাহিত মেয়েদের কাছে সিঁথিতে সিঁদুর কেবলমাত্র সাজের অনুষঙ্গ নয় পাশাপাশি হাতের শাঁখা-পলাও ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। কানের দুল, গলার মালা, নাকের নথ, খোঁপার কাঁটা সবই নির্ভর করে সাজের বিশেষত্ব, পোশাকের ধরন এবং মানুষটির পছন্দ ও ব্যক্তিত্বের ওপর।

আর অবশ্যই নিয়মিত রোদে বেরুনোর আধাঘণ্টা আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সানগ্লাস ও ছাতা অবশ্যই নেবেন। কার এটি আপনার চোখ ও শরীর দুটোরই যত্ন নেবেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রুমা

উপরে