আপডেট : ২০ মে, ২০১৮ ১৪:৪০

ঈদে তৈরি হচ্ছে ফ্যাশন হাউজগুলো

অনলাইন ডেস্ক
ঈদে তৈরি হচ্ছে ফ্যাশন হাউজগুলো

রোজা শুরু হতে না হতেই ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে আমাদের মধ্যে। আর আমাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ফ্যাশন হাউজগুলোতে শুরু হয়ে গেছে রমরমা অবস্থা। সবাই ঘুরে ঘুরে তার পছন্দের কাপড়টি, জুতা বা অন্যান্য একসেসরিস কিনতে ব্যস্ত। ঈদে নির্দিষ্ট কোনো ফ্যাশন আবদ্ধ না থাকলেও যার যার রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী পোশাকটি সবাই কেনে। ঈদের ফ্যাশন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ করে থাকে দেশী বুটিক হাউসগুলো।

ঢাকায় বসুন্ধরা সিটি, সীমান্ত স্কয়ার, নিউমার্কেট, চাঁদনীচক, গাউছিয়া, রাপা প্লাজা, নর্থ টাওয়ার, বনানী বাজার, বেইলী রোড, মৌচাক মার্কেট, মাস্কট প্লাজা, গুলশান আরা মার্কেট, ইসলামপুর এসব জায়গায়ও ভালো কাপড় পাওয়া যায় ঈদ উপলক্ষে। এছাড়া নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য আছে বঙ্গবাজার।

ঢাকাস্থ বিভিন্ন ফ্যাশনহাউজগুলো ঘুরে দেখা গেলো জমতে শুরু করেছে ঈদ কেনাকাটা।

এবারে নারীদের পছন্দ

নারীদের প্রিয় পোশাক বলতে সালোয়ার কামিজ আর শাড়ি। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে এরই মধ্যে ঈদের বিভিন্ন কালেকশন চলে এসেছে। বর্ষা আর গরমের প্রাধান্যে এবার তাঁত, সিল্ক, হাফ সিল্ক, অরগ্যান্ডি, মসলিন ও শিপন কাপড়ের চল বেশি। গত বছরগুলোর তুলনায় এবার ফ্যাশনের ট্রেন্ডে তেমন একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। কামিজে থাকছে ব্লক, কারচুপি, অ্যাপ্লিক, ভরাট অ্যাপ্লিক ও এমব্রয়ডারির কাজ। গলায় উজ্জ্বল রঙের সুতার কাজ থাকছে। কোনো কামিজের সম্পূর্ণ বডিতে আবার কোনোটির নিচের অংশে সুতার মোটা ও ভরাট ডিজাইন, পট্টি ও লেইস ব্যবহার করা হয়েছে। জামার পিছনের অংশ ও হাতায়ও থাকছে ভারী কাজ। সালোয়ার থাকছে কামিজের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে। ওড়নায় থাকছে হালকা কাজ। লম্বা বা মাঝারি দুই কাটিং এর কামিজই চলছে।

শাড়ির মধ্যে তাঁতের শাড়ি, সুতির শাড়িতে ব্লক বা কাজ, কোটা, শিফন চলছে বর্তমানে। এছাড়া কাতান, জুট কাতান, সিল্ক, হাফসিল্ক শাড়িও পছন্দ করছেন ক্রেতারা। টাঙ্গাইল সিল্ক, রাজশাহী সিল্ক ,জামদানী বরাবরের মত এবারেও চলছে।

আর তাদের অন্যান্য অনুসঙ্গ যেমন- জুতো, ব্যাগ, গয়নার বিক্রিও আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করেছে।

ছেলেদের পাঞ্জাবি

ছেলেদের ঈদের সবচেয়ে আকর্ষণ হলো পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবি ছাড়া যেন ঈদ পরিপূর্ণ হয়ই না। এবার বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ এবং তাদের অনলাইন সেবায় পাঞ্জাবির হিড়িক আসা শুরু হয়েছে। খাদি, রাজশাহী সিল্ক, মসলিন, সুতির লং, সেমি লং এবং শর্ট পাঞ্জাবি জিনসের সঙ্গে বেশি চলছে।

এছাড়া পোলো শার্টের সঙ্গে জিনসের প্যান্ট, ওয়াশ করা ফেড শার্ট,  একরঙা শার্টে টুকরো টুকরো ভিন্ন রঙের টুকরো কাপড়ের শার্ট, এবং ক্যাজুয়াল ছাপা শার্টও চলছে।

শিশুদের পোশাক

ঈদে শিশুদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। এবারের ঈদের বেশ বাকি থাকলেও বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলোতে শিশুরা বাবা-মায়ের সঙ্গে চলে এসেছে কেনাকাটার জন্য। ফ্রিল দেয়া পার্টি ফ্রক, হাতের জমকালো কাজ করা সালোয়ার-কামিজ, ঘাঘড়া চোলি, লেগিংসের চল দেখা যাচ্ছে এবার। পাশাপাশি সুতি, কাতান, টিস্যু, মসলিন ও সার্টিনের সালোয়ার-কামিজ, টু-পিস, থ্রি-পিস, ফ্রক চলছে ভালো। আর ছেলে শিশুদের জন্য গেঞ্জি কাপড়ের টপ, টি-শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি (এন্ডি, সিল্ক, মসলিন ও খাদি) চলছে বর্তমানে।

মায়ের সঙ্গে বসুন্ধরা সিটিতে কেনাকাটা করতে আসা শিশু রূপ। হাতে তিন-চারটি শপিং ব্যাগ। জিজ্ঞেস করতেই বললো তার ঈদ শপিং নাকি শেষ, সে তার জামা-জুতো কিনে ফেলেছে। তাঁর মা জানালো, তার পছন্দের হাফ সিল্কের শাড়ি, এবার মোটামুটি ভারি কাজের একটা হাফ সিল্ক কিনেছেন তিনি। তবে পরিবারের সবার কেনাকাটা এখনো বাকি। আস্তে আস্তে সেগুলোও করবেন।

বিক্রয় কর্মীদের মতে, কেনাকাটা জমে উঠতে আরও সময় লাগবে। সাধারণত ১০ রোজার পরে কেনাকাটা ভালো জমে। হয়তো আরও ভালো সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করবে ক্রেতারা। তবে যারা ভিড় পছন্দ করেন না, তারা আগেভাগেই করে ফেলছেন কেনাকাটা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রুমা

উপরে