আপডেট : ২৭ মার্চ, ২০১৬ ১১:৩০

ঘরে বসে শেভ করার নিয়মাবলী

ফ্যাশন
ঘরে বসে শেভ করার নিয়মাবলী

শেভ করা মানে গালে ধারালো ব্লেড চালানো। অনেকেই শেভ করতে গিয়ে অনেক জোরে গালে ব্লেড চেপে ধরেন। কিন্তু তাতেও যেন নিখুঁত শেভ হয় না। নিখুঁত শেভ করার পেছনে রয়েছে কিছু কলাকৌশল।

যখন রেজরে একাধিক ব্লেড থাকে তখন প্রথম ব্লেডটি চুল টেনে তোলে, দ্বিতীয় ব্লেডটা তা কেটে ফেলে। দাড়ির চুলের ব্যাস এক মিলিমিটারের দশ ভাগের একভাগ পর্যন্ত হয়। যখন দাড়ি শুকনা থাকে এটি ১৩০ মাইক্রন (এক মাইক্রন সমান ০.০০১ মিলিমিটার) পর্যন্ত হতে পারে কিন্তু এটি ভেজানো হলে এর আকার ১৫০ মাইক্রন পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে দাড়ির পৃষ্ঠদেশ বিস্তৃত হয় এবং ব্লেড সহজেই দাড়ি কাটতে পারে। এ ছাড়া দাড়ি কাটার সময় ভেজানো হলে তা ত্বক টান টান হয়। ফলে, দাড়ির বেশির ভাগ অংশ বের হয়ে আসে।

শেভ করার আগে গোসল করে নেওয়া ভালো। শুকনা দাড়ি কাটা কঠিন বলে বেশি করে পানি ব্যবহার করে দাড়ি ভিজিয়ে নিলে আরামদায়ক শেভ করা যাবে। সাধারণত, শুকনা চুল তামার তারের মতো শক্ত হতে পারে। কিন্তু যখন তাতে পানি ঠেকে দাড়ি ভিজে যায় এবং তা কাটা সহজ হয়। দাড়ি কাটার আগে বেশি করে পানি দিয়ে মুখ ও গলা ভিজিয়ে নিতে হবে এবং মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, গাল, চিবুক বা গলার অংশে চুলের ফলিকলগুলো আলাদা আলাদা। তাই সবখানেই একই রকম স্ট্রোক দিয়ে দাড়ি কাটা ঠিক হবে না। দাড়ির মুখ যেদিকে সেদিক থেকে কাটতে হবে। বিপরীত দিক থেকে টান দেওয়া উচিত হবে না।

অনেক সময় দাড়ির মুখ বরাবর রেজর টান দিলেও দেখা যায় অনেক দাড়ি বিপরীতমুখী হয়ে কেটে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে হালকা হালকা চাপ দিয়ে দাড়ি কাটতে হবে। আগে দাড়ির মুখ বরাবর কেটে নিয়ে এরপর উল্টো করে আস্তে আস্তে টান দিয়ে আরাম দায়ক শেভ করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে রেজর অবশ্যই ভালো হতে হবে।

 

বিশেষজ্ঞের পরামর্শঃ 

শেভ করার আগে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। মুখ পরিষ্কার করার জন্য ক্লিনজার ব্যবহার করে মুখের ময়লা দূর করতে হবে এবং মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে দাড়ি নরম হবে ফলে দাড়ি কাটার জন্য বেশি চাপ দেওয়ার দরকার হবে না।

মুখে বেশি করে শেভিং জেল ব্যবহার করতে হবে। এতে মুখের ওপর ব্লেডের ঘর্ষণ প্রতিরোধী একটি স্তর তৈরি হবে এবং রেজর মসৃণভাবে মুখের ওপর ঘোরানো যাবে। ফলে মসৃণ ও আরামদায়ক শেভ করা সম্ভব হবে।

একাধিক ব্লেডযুক্ত রেজর দিয়ে শেভ করুন। শেভিংয়ের সময় বেশি চাপ না দিয়ে হালকা স্ট্রোকে শেভ করুন। রেজরকে তার কাজ করতে দিন।

দাড়ির বিপরীতমুখী শেভ না করে শুরুতে দাড়ির দিক অনুযায়ী শেভ করুন। ব্লেড যাতে বেশি পুরোনো বা বিরক্তিকর না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। রেজর কতদিন বা কতবার ব্যবহার করা হচ্ছে সে অনুযায়ী এর মেয়াদ নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ সূত্র হচ্ছে রেজর যদি মুখে দাগ কাটতে শুরু করে এবং শুরুর মতো দাড়ি কাটতে না পারে তবে ব্লেড বদলে ফেলতে হবে।

শেভের পর মুখে আফটার শেভ হিসেবে ময়েশ্চারাইজার বাই রিহাইড্রেট কোনো কিছু ব্যবহার করুন। আফটার শেভের পণ্যগুলোতে অ্যালকোহল থাকে যা অ্যাস্ট্রিজেন্ট বা চোষক হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকে স্টেরিলাইজার হিসেবে কাজ করে। এতে ত্বকে সংক্রমণ হয় না।

উপরে