আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:৪২

দু পা নেই, অথচ সুপার মডেল! কাঁপাচ্ছেন লক্ষ পুরুষের হৃদয়

বিডিটাইমস ডেস্ক
দু পা নেই, অথচ সুপার মডেল!
কাঁপাচ্ছেন লক্ষ পুরুষের হৃদয়

অন্তর্বাস কিংবা খেলাধুলার পোশাকের ব্র্যান্ড মডেল এর কথা চিন্তা করলে আমাদের কল্পনায় আসে চকচকে দেহ, আকর্ষণীয় ও নিখুঁত শারীরিক গঠনের কোন এক নারী। কিন্তু এই লিঙ্গেরি মডেলিং এর জগতে নতুন একটি নাম যা পুরনো এই সব ধ্যান ধারণাকে ভেঙে দিয়ে নিজের স্থান করে নিয়েছে তা হলো কান্যা সেজার।

২৩ বছর বয়সী এই তরুণী যিনি জন্মেছিলেন পা হীন এক দেহ নিয়ে, আজ শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে শুধুমাত্র অন্তর্বাস এর মডেলিং করেই প্রতিদিন আয় করছেন এক হাজার ডলারেরও বেশি।লস অ্যাঞ্জেলস এর বাসিন্দা কান্যা মডেলিং জগতের চিরাচরিত গন্ডি ভেঙে নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা প্রদর্শন করেই পোজ দিচ্ছেন উদ্দীপক সব অন্তর্বাস এর মডেল হয়ে।

নিজের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করা এই নারীর শুরুটা এত মসৃণ ছিল না। জন্মের পর থেকেই লড়াই করতে হয়েছে তাকে। তার বয়স যখন মাত্র ৭ দিন তখন তাকে থাইল্যান্ড এর একটি বৌদ্ধ মন্দির এর সিঁড়িতে ফেলে রেখে গিয়েছিল কেউ। কান্যা জানেনও না তার আসল বাবা মা কে? তার বয়স যখন ৫ বছর তখন তার পালক পিতা মাতা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন রাজ্যের পোর্টল্যান্ডে নিয়ে আসেন। কান্যা এখন মডেলিং এর মাঝেই আনন্দ খুঁজে পান। আর এর মধ্য দিয়েই তিনি সবাইকে দেখাতে চান, ভিন্নতাই আবেদনময়!

মডেলিং এর ব্যাপারে কান্যা বলেন, ‘এটা বেশ মজার আর এটা আমার গল্পই বলে। আমি অন্যদের চেয়ে আলাদা আর এটাই আকর্ষণীয়। নিজেকে আকর্ষণীয় ভাবার জন্য আমার পায়ের প্রয়োজন নেই’। এই সুন্দরী তনয়া জানান, তিনি ভলকম, নাইকি, রিপ কার্ল গার্ল এর মতো ব্র্যান্ডের জন্য মডেলিং করেছেন। তবে সেই ফটোশুটগুলো এখনো যাচাই বাছাই হয়নি।

১৫ বছর বয়সে স্পোর্টস ব্র্যান্ডের জন্য প্রথম মডেলিং শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে একটি ফিচার ছিল বিলাবং এর জন্য। আর তারপর থেকেই বিভিন্ন অন্তর্বাস ব্র্যান্ডগুলো মডেলিং এর জন্য তাকে খুঁজে বের করেন। কান্যা বলেন, মডেলিং থেকে আয় করাটা আমি উপভোগ করি। আমি মানুষকে দেখাতে চাই সৌন্দর্য আসলে কি। বিকিনি পরে আকর্ষণীয় ভঙ্গিমায় তোলা নিজের ছবিগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই ছবিগুলো আমার শক্তিকেই ফুটিয়ে তুলে।’

খেলাধুলার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা অনুভব করা কান্যা ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শীতকালীন প্যারা-অলিম্পিকস এর একক স্কি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার ইচ্ছা রাখেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে যেভাবে দেখে আমি নিজেকে তার চেয়ে ভিন্নভাবে প্রকাশ করতেই পছন্দ করি।’ স্কি, স্কেটবোর্ড আর সার্ফিংয়ে দক্ষ কান্যা হুইলচেয়ার এর পরিবর্তে স্কেটবোর্ড এ ঘুরতে কিংবা নিজের হাতের উপর ভর করে চলতেই পছন্দ করেন। আর মাসখানেক আগে তিনি খুঁজে পেয়েছেন তার সবচেয়ে বড় সমর্থক ব্রায়ান ওয়াটারকে, যার সাথে এখন তার প্রণয়ের সম্পর্ক চলছে। ব্রায়ান সম্পর্কে কান্যা বলেন, ‘ব্রায়ান সত্যি খুব চমৎকার। আমার সব কাজেই সে দারুণ সমর্থন দেয়। সে সম্প্রতি আমার ফটোশুট দেখেছে আর বলেছে যে সে মনে করে এটা দারুণ আর একেবারেই আলাদা।’ তবে কান্যা জানান, মডেলিং এর বাইরে তিনি মেকাপ করতে পছন্দ করেন না বরং নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরতেই তার ভালো লাগে। তিনি জানান, মডেলিং এর সময় মেকাপ করতেও তার খারাপ লাগে না। মূলতঃ তিনি নিজেকে মেকাপ সহ কিংবা মেকাপ ছাড়া দুই অবস্থাতেই সুন্দর মনে করেন।

নিজের জীবন নিয়ে পরিকল্পনা সম্পর্কে কান্যা বলেন, প্যারা-অলিম্পিকস এর জন্য প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি তিনি মডেলিং চালিয়ে যেতে চান। একই সাথে এক অনাথ অসহায় শিশু থেকে নিজের একজন সফল মডেল হয়ে উঠার সাহসী গল্প নিয়ে তিনি একটি বইও লিখছেন। কান্যার এই অবিরাম সামনে এগিয়ে যাওয়া সুন্দর ও সার্থক হোক।

 

উপরে