আপডেট : ৯ জানুয়ারী, ২০১৬ ২০:১১

এক প্যাঁচে শীত তাড়াতে, চাদর রাখুন সাথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এক প্যাঁচে শীত তাড়াতে, চাদর রাখুন সাথে

কবির ভাষায় ‘শীতের হাওয়া হঠাৎ ছুটে এল গানের বেলা শেষ না হতে হতে? মনের কথা ছড়িয়ে এলোমেলো ভাসিয়ে দিল শুকনো পাতার স্রোতে।’

কুয়াশার চাদর ঢেকে এগিয়ে আসছে শীত। ভোরে ঠান্ডা শীতল বাতাসের সঙ্গে ঘাসের ডগায় জমছে শিশির বিন্দুও। এ সময় ঘর ছেড়ে বের হলে বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। সন্ধ্যায়ও ঠিক তেমন। শীতের শুরুতে এই গরম এই ঠাণ্ডা। এমন একটি দিনের শুরু কি চাদরের উষ্ণতা ছাড়া চিন্তা করা যায়?

শীত ঠেকাতে অন্যান্য শীত পোশাকের পাশাপাশি  চাদরের সমাদরও অনেক। এক প্যাঁচে শীত তাড়াতে জুড়ি নেই চাদরের। শুধু শীতের পোশাক হিসেবেই নয়, ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবেও আজকের প্রজন্মের কাছে চাদরের রয়েছে আলাদা কদর। শাল বা চাদর যাই-ই বলুন না কেন, শীত তাড়াতে অন্য পোশাকের তুলনায় এর ব্যবহার একটু বেশীই হয়।

চাদরের রয়েছে হরেক বাহার। বিভিন্ন ডিজাইন ও মোটিফের চাদর পাওয়া যায়। নজরকাড়া এসব চাদরের বুনন আর ডিজাইন খুব চমৎকার। ফ্যাশন সচেতন মেয়েদের পছন্দের তালিকায় এসব চাদর সবকিছুর উপরে, আর তাই তাদের প্রথম পছন্দ খাদি চাদর। তবে অনেকে আবার শীতের বুড়িকে বশ করতে খদ্দর বা মোটা উলের চাদরও বেছে নেন।

সিল্ক, খাদি, পশমি সুতা, মোটা সুতি ইত্যাদি কাপড়ের উপর নির্মিত হচ্ছে আমাদের দেশের ফ্যাশন হাউসগুলোর শীতের চাদর। বিভিন্ন মোটিফের চাদরে প্রাধান্য পাচ্ছে দেশিয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। থাকছে নানা রকম সেলাই ও নকশার কাজ । এছাড়াও জরি, পুঁতি, চুমকি ও পাথরের করা চাদর ও রয়েছে তরুণীদের চাহিদার তালিকায়। শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের অনেক ফ্যাশন হাউস সংগ্রহে রেখেছে বিখ্যাত কবিদের কবিতার চরণ, চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্মের নকশা করা চাদর। এসব চাদরের ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে আবহমান গ্রামবাংলার দৃশ্য ও স্লোগান।

তবে দেশি চাদর ছাড়াও বিদেশি চাদরের চাহিদা রয়েছে আমাদের দেশে। বিশেষ করে কাশ্মীরি পশমিনা চাদর জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তবে আমাদের দেশেও এখন তৈরি হচ্ছে পশমিনা চাদর। এছাড়াও লুদিয়ানা, জয়পুরি, চায়নিজ, বার্মিজ ও ইরানি চাদর হতে পারে শীতের অন্যতম ফ্যাশন।

তবে আপনি চাইলে একরঙা চাদরে নিজের ইচ্ছেমতো নকশা করে ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে শীতের ফ্যাশনে আপনার ব্যাক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

বর্তমানে চাদরের ফ্যাশনে এগিয়ে আছে তরুণ প্রজন্ম। রঙবেরঙের চাদর প্রয়োজনের পাশাপাশি হয়ে গেছে ফ্যাশনের একটি অংশ। তাই শুধু মেয়েদের জন্য নয় যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ছেলেদের চাদরেও এসেছে বৈচিত্র্য। দেশি খাদি ও আদিবাসী শাল বেশ জনপ্রিয় ছেলেদের কাছে। টি-শার্ট, ফতুয়া কিংবা পাঞ্জাবির সাথে মিলিয়ে পড়তে পারেন নজরকাড়া এসব চাদর।

আগে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বেশির ভাগ চাদর আসত। এখন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মানসম্পন্ন শাল তৈরি করছে তার মধ্যে রয়েছে আড়ং, দেশি দশ। শীত জেকে বসার আগেই আপনার পছন্দের শালটি কিনে নিতে পারেন। দেশি শাল বাদে বিদেশি শাল পাবেন গুলশানের শপার্শ ওয়ার্ল্ড, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, এ আর প্লাজাসহ বিভিন্ন সুপার মার্কেটে।

সাধারণ মানের শালের দাম পড়বে ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ফ্যাশন হাউসগুলোয় কটন ও খদ্দের শালের দাম পড়বে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। কাশ্মীরি শাল মিলবে ৬০০ থেকে ৫ হাজার টাকায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে